মেহেরপুর প্রতিনিধি ||
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মাদকাসক্ত জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন চাচা শ্বশুর ইলিয়াস হোসেন (৪৭)। বৃহস্পতিবার ভোরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের ভাতিজা আব্দুল্লাহ (২৫), বর্তমানে তিনি মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এমন বর্বর ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত ইলিয়াস হোসেন একই গ্রামের মৃত নেকছার মণ্ডলের ছেলে। অভিযুক্ত জামাই সবুজ আহম্মেদ (৩০) একই উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের ময়নাল হোসেনের ছেলে।
আহত আব্দুল্লাহ জানান, ভোরবেলা সবাই ঘুমিয়ে থাকার সময় হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে পড়ে সবুজ আহম্মেদ। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় স্ত্রী সালমা খাতুনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। একপর্যায়ে গালাগালির পাশাপাশি সালমাকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে। স্ত্রী দৌঁড়ে পালিয়ে গেলে চিৎকার শুনে ইলিয়াস হোসেন ও আব্দুল্লাহ ছুটে আসেন। তখনই সবুজ ধারালো ছুরি দিয়ে ইলিয়াসের পেটে আঘাত করে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ঠেকাতে গিয়ে আব্দুল্লাহ নিজেও ছুরিকাঘাতে আহত হন।
স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাদিয়া আফরিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ইলিয়াসের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ঘটনার পর স্থানীয়রা সবুজকে আটক করে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। গাংনী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সবুজকে গ্রেফতার করে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “অভিযুক্ত সবুজকে আটক করা হয়েছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















