ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জাতীয়করণ বঞ্চিত, দুমকি এ.কে. মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ‎ ‎

ভোলায় প্রেমের জয়: ইউচ্যাটে পরিচয়, বন্ধুর বোনকে বিয়ে করতে চীন থেকে ছুটে এলেন ইরিছা চং

ভোলা প্রতিনিধি||

ভোলায় যেন সিনেমার গল্পের মতো এক বাস্তব ঘটনা। চীনের লানজু শহর থেকে আসা মুসলিম যুবক ইরিছা চং ভালোবাসার টানে বিয়ে করলেন ভোলার কলেজছাত্রী নাবিয়া আক্তারকে। ইউচ্যাট নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু—শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় বিয়েতে। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই নাম—ইরিছা চং।

ঘটনার শুরু দুই বছর আগে। ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস হাওলাদারের ছেলে রনি ইউচ্যাটে চীনা যুবক ইরিছা চংয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। বন্ধুত্ব গাঢ় হলে ইরিছা বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অবশেষে গত ১১ এপ্রিল চীন থেকে এসে সরাসরি হাজির হন বন্ধুর বাড়িতে।

প্রায় এক মাস সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এই সময়েই রনির ছোট বোন, কলেজে পড়ুয়া নাবিয়াকে ভালোবেসে ফেলেন। প্রস্তাব দেন বিয়ের। প্রথমে পরিবার আপত্তি করলেও পরে মেনে নেয়। অবশেষে গেল ৫ মে রাতে ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন চীনা জামাইকে দেখতে।

ইরিছা চং একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। জন্ম চীনের লানজু শহরে। লানজুর একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইরিছা দ্বিতীয়। অন্যদিকে, নববধূ নাবিয়া এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।

নাবিয়ার ভাই রনি জানান, “ইরিছা আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা জানালে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। আমাদের বাড়িতে থাকাকালীন আমার বোনকে সে ভালোবেসে ফেলে। পরে সে জানায়, বিয়ে না করে দেশে ফিরে যাবে না।”

নাবিয়ার বাবা ইলিয়াস হাওলাদার বলেন, “প্রথমে রাজি ছিলাম না। কিন্তু ইরিছার ব্যবহার, বিশ্বাস ও আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ হই। এখন আমরা সবাই খুশি।”

এলাকাবাসী জানান, ইরিছা নিয়মিত নামাজ পড়েন, ভালো ব্যবহার করেন এবং খুবই বিনয়ী। বিদেশি জামাই পেয়ে তারাও গর্বিত।

ইরিছা চং বলেন, “বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়ে করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। নাবিয়া ও তার ভাইয়ের পাসপোর্ট প্রস্তুত হলেই আমরা একসঙ্গে চীনে ফিরে যাব।”

নাবিয়াও বলেন, “প্রথমে ভয় পেলেও এখন আমি খুশি। খুব শিগগির চীনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এদিকে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ জানান, “বিয়ের বিষয়ে পুলিশকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।”

এই প্রথম কোনো বিদেশি যুবক দ্বীপ জেলা ভোলায় এসে প্রেমের টানে বিয়ে করলেন স্থানীয় এক মেয়েকে। ঘটনাটি হয়ে উঠেছে পুরো ভোলার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

ভোলায় প্রেমের জয়: ইউচ্যাটে পরিচয়, বন্ধুর বোনকে বিয়ে করতে চীন থেকে ছুটে এলেন ইরিছা চং

Update Time : ১১:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

ভোলা প্রতিনিধি||

ভোলায় যেন সিনেমার গল্পের মতো এক বাস্তব ঘটনা। চীনের লানজু শহর থেকে আসা মুসলিম যুবক ইরিছা চং ভালোবাসার টানে বিয়ে করলেন ভোলার কলেজছাত্রী নাবিয়া আক্তারকে। ইউচ্যাট নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু—শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় বিয়েতে। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই নাম—ইরিছা চং।

ঘটনার শুরু দুই বছর আগে। ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস হাওলাদারের ছেলে রনি ইউচ্যাটে চীনা যুবক ইরিছা চংয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। বন্ধুত্ব গাঢ় হলে ইরিছা বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অবশেষে গত ১১ এপ্রিল চীন থেকে এসে সরাসরি হাজির হন বন্ধুর বাড়িতে।

প্রায় এক মাস সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এই সময়েই রনির ছোট বোন, কলেজে পড়ুয়া নাবিয়াকে ভালোবেসে ফেলেন। প্রস্তাব দেন বিয়ের। প্রথমে পরিবার আপত্তি করলেও পরে মেনে নেয়। অবশেষে গেল ৫ মে রাতে ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন চীনা জামাইকে দেখতে।

ইরিছা চং একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। জন্ম চীনের লানজু শহরে। লানজুর একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইরিছা দ্বিতীয়। অন্যদিকে, নববধূ নাবিয়া এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।

নাবিয়ার ভাই রনি জানান, “ইরিছা আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা জানালে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। আমাদের বাড়িতে থাকাকালীন আমার বোনকে সে ভালোবেসে ফেলে। পরে সে জানায়, বিয়ে না করে দেশে ফিরে যাবে না।”

নাবিয়ার বাবা ইলিয়াস হাওলাদার বলেন, “প্রথমে রাজি ছিলাম না। কিন্তু ইরিছার ব্যবহার, বিশ্বাস ও আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ হই। এখন আমরা সবাই খুশি।”

এলাকাবাসী জানান, ইরিছা নিয়মিত নামাজ পড়েন, ভালো ব্যবহার করেন এবং খুবই বিনয়ী। বিদেশি জামাই পেয়ে তারাও গর্বিত।

ইরিছা চং বলেন, “বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়ে করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। নাবিয়া ও তার ভাইয়ের পাসপোর্ট প্রস্তুত হলেই আমরা একসঙ্গে চীনে ফিরে যাব।”

নাবিয়াও বলেন, “প্রথমে ভয় পেলেও এখন আমি খুশি। খুব শিগগির চীনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এদিকে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ জানান, “বিয়ের বিষয়ে পুলিশকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।”

এই প্রথম কোনো বিদেশি যুবক দ্বীপ জেলা ভোলায় এসে প্রেমের টানে বিয়ে করলেন স্থানীয় এক মেয়েকে। ঘটনাটি হয়ে উঠেছে পুরো ভোলার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।


 

প্রিন্ট করুন :