ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

ভোলায় প্রেমের জয়: ইউচ্যাটে পরিচয়, বন্ধুর বোনকে বিয়ে করতে চীন থেকে ছুটে এলেন ইরিছা চং

ভোলা প্রতিনিধি||

ভোলায় যেন সিনেমার গল্পের মতো এক বাস্তব ঘটনা। চীনের লানজু শহর থেকে আসা মুসলিম যুবক ইরিছা চং ভালোবাসার টানে বিয়ে করলেন ভোলার কলেজছাত্রী নাবিয়া আক্তারকে। ইউচ্যাট নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু—শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় বিয়েতে। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই নাম—ইরিছা চং।

ঘটনার শুরু দুই বছর আগে। ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস হাওলাদারের ছেলে রনি ইউচ্যাটে চীনা যুবক ইরিছা চংয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। বন্ধুত্ব গাঢ় হলে ইরিছা বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অবশেষে গত ১১ এপ্রিল চীন থেকে এসে সরাসরি হাজির হন বন্ধুর বাড়িতে।

প্রায় এক মাস সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এই সময়েই রনির ছোট বোন, কলেজে পড়ুয়া নাবিয়াকে ভালোবেসে ফেলেন। প্রস্তাব দেন বিয়ের। প্রথমে পরিবার আপত্তি করলেও পরে মেনে নেয়। অবশেষে গেল ৫ মে রাতে ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন চীনা জামাইকে দেখতে।

ইরিছা চং একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। জন্ম চীনের লানজু শহরে। লানজুর একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইরিছা দ্বিতীয়। অন্যদিকে, নববধূ নাবিয়া এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।

নাবিয়ার ভাই রনি জানান, “ইরিছা আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা জানালে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। আমাদের বাড়িতে থাকাকালীন আমার বোনকে সে ভালোবেসে ফেলে। পরে সে জানায়, বিয়ে না করে দেশে ফিরে যাবে না।”

নাবিয়ার বাবা ইলিয়াস হাওলাদার বলেন, “প্রথমে রাজি ছিলাম না। কিন্তু ইরিছার ব্যবহার, বিশ্বাস ও আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ হই। এখন আমরা সবাই খুশি।”

এলাকাবাসী জানান, ইরিছা নিয়মিত নামাজ পড়েন, ভালো ব্যবহার করেন এবং খুবই বিনয়ী। বিদেশি জামাই পেয়ে তারাও গর্বিত।

ইরিছা চং বলেন, “বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়ে করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। নাবিয়া ও তার ভাইয়ের পাসপোর্ট প্রস্তুত হলেই আমরা একসঙ্গে চীনে ফিরে যাব।”

নাবিয়াও বলেন, “প্রথমে ভয় পেলেও এখন আমি খুশি। খুব শিগগির চীনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এদিকে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ জানান, “বিয়ের বিষয়ে পুলিশকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।”

এই প্রথম কোনো বিদেশি যুবক দ্বীপ জেলা ভোলায় এসে প্রেমের টানে বিয়ে করলেন স্থানীয় এক মেয়েকে। ঘটনাটি হয়ে উঠেছে পুরো ভোলার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

ভোলায় প্রেমের জয়: ইউচ্যাটে পরিচয়, বন্ধুর বোনকে বিয়ে করতে চীন থেকে ছুটে এলেন ইরিছা চং

Update Time : ১১:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

ভোলা প্রতিনিধি||

ভোলায় যেন সিনেমার গল্পের মতো এক বাস্তব ঘটনা। চীনের লানজু শহর থেকে আসা মুসলিম যুবক ইরিছা চং ভালোবাসার টানে বিয়ে করলেন ভোলার কলেজছাত্রী নাবিয়া আক্তারকে। ইউচ্যাট নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু—শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় বিয়েতে। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই নাম—ইরিছা চং।

ঘটনার শুরু দুই বছর আগে। ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস হাওলাদারের ছেলে রনি ইউচ্যাটে চীনা যুবক ইরিছা চংয়ের সঙ্গে পরিচিত হন। বন্ধুত্ব গাঢ় হলে ইরিছা বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অবশেষে গত ১১ এপ্রিল চীন থেকে এসে সরাসরি হাজির হন বন্ধুর বাড়িতে।

প্রায় এক মাস সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এই সময়েই রনির ছোট বোন, কলেজে পড়ুয়া নাবিয়াকে ভালোবেসে ফেলেন। প্রস্তাব দেন বিয়ের। প্রথমে পরিবার আপত্তি করলেও পরে মেনে নেয়। অবশেষে গেল ৫ মে রাতে ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন চীনা জামাইকে দেখতে।

ইরিছা চং একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। জন্ম চীনের লানজু শহরে। লানজুর একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইরিছা দ্বিতীয়। অন্যদিকে, নববধূ নাবিয়া এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।

নাবিয়ার ভাই রনি জানান, “ইরিছা আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা জানালে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। আমাদের বাড়িতে থাকাকালীন আমার বোনকে সে ভালোবেসে ফেলে। পরে সে জানায়, বিয়ে না করে দেশে ফিরে যাবে না।”

নাবিয়ার বাবা ইলিয়াস হাওলাদার বলেন, “প্রথমে রাজি ছিলাম না। কিন্তু ইরিছার ব্যবহার, বিশ্বাস ও আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ হই। এখন আমরা সবাই খুশি।”

এলাকাবাসী জানান, ইরিছা নিয়মিত নামাজ পড়েন, ভালো ব্যবহার করেন এবং খুবই বিনয়ী। বিদেশি জামাই পেয়ে তারাও গর্বিত।

ইরিছা চং বলেন, “বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়ে করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। নাবিয়া ও তার ভাইয়ের পাসপোর্ট প্রস্তুত হলেই আমরা একসঙ্গে চীনে ফিরে যাব।”

নাবিয়াও বলেন, “প্রথমে ভয় পেলেও এখন আমি খুশি। খুব শিগগির চীনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এদিকে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ জানান, “বিয়ের বিষয়ে পুলিশকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।”

এই প্রথম কোনো বিদেশি যুবক দ্বীপ জেলা ভোলায় এসে প্রেমের টানে বিয়ে করলেন স্থানীয় এক মেয়েকে। ঘটনাটি হয়ে উঠেছে পুরো ভোলার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।


 

প্রিন্ট করুন :