ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও এনজিও মালিক: পাবনায় ভুক্তভোগী নারীদের কান্না-আহাজারি

পাবনা প্রতিনিধি||

পাবনার দিলালপুরে মেঘনা এমসিসিএস লিমিটেড নামে একটি এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম ও তার স্ত্রী রঞ্জনা খাতুনের বিরুদ্ধে সঞ্চয় ও ডিপিএসের নামে অন্তত আড়াই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বিগত তিন মাস ধরে পলাতক রয়েছেন তারা। এনজিওর প্রধান কার্যালয়েও তালা ঝুলছে। মোবাইল ফোনও বন্ধ। আর এদিকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা, বিশেষ করে দরিদ্র নারী সদস্যরা, যারা নিজেদের কষ্টের জমানো টাকা হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।

বুধবার (৭ মে) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক ভুক্তভোগী নারী। তারা প্রতারক এনজিও মালিকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১১ সালে দিলালপুরে প্রতিষ্ঠিত এনজিওটি প্রথমে “সঞ্চয় দ্বিগুণ” করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল নারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ শুরু করে। মাঠপর্যায়ে নারী কর্মীদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সঞ্চয় ও ডিপিএস খোলানো হতো। একপর্যায়ে ওই সকল কর্মী ও গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তি ও মাসিক জমার নামে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আদায় করে এনজিও মালিক কাইয়ুম এবং তার স্ত্রী।

তিন মাস আগে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিপিএসের লভ্যাংশসহ আসল টাকা চাইতে গেলে শুরু হয় টালবাহানা। পরে একদিন হঠাৎ করেই অফিসে তালা ঝুলিয়ে গা-ঢাকা দেন অভিযুক্ত দম্পতি।

ভুক্তভোগী আফসানা খাতুন জানান, তিনি একাই এই এনজিওতে জমা রেখেছেন ২৩ লাখ টাকা। এখন না পাচ্ছেন টাকা, না পাচ্ছেন তার হদিস। ফোন বন্ধ, অফিসে তালা—এখন তিনি কী করবেন, তা ভেবে দিশেহারা।

একই রকম অভিজ্ঞতা মাঠকর্মী সুলতানা খাতুন ও নীপা আক্তারের। তাদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে যথাক্রমে ৮০ লাখ ও ৪০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এখন ওই গ্রাহকরাই তাদের ঘিরে ধরছেন, টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। অথচ প্রতারক মালিক উধাও। ফলে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও তারা শঙ্কায়।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন—ময়না খাতুন, রেহেনা খাতুনসহ অনেকেই। প্রত্যেকের গল্প এক, অভিযোগ এক—কষ্টে উপার্জিত টাকা খুইয়ে তারা এখন অসহায়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দরিদ্র মানুষের টাকা নিয়ে এনজিও মালিক ও তার স্ত্রীর গা ঢাকা দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও।


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও এনজিও মালিক: পাবনায় ভুক্তভোগী নারীদের কান্না-আহাজারি

Update Time : ০৬:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

পাবনা প্রতিনিধি||

পাবনার দিলালপুরে মেঘনা এমসিসিএস লিমিটেড নামে একটি এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম ও তার স্ত্রী রঞ্জনা খাতুনের বিরুদ্ধে সঞ্চয় ও ডিপিএসের নামে অন্তত আড়াই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বিগত তিন মাস ধরে পলাতক রয়েছেন তারা। এনজিওর প্রধান কার্যালয়েও তালা ঝুলছে। মোবাইল ফোনও বন্ধ। আর এদিকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা, বিশেষ করে দরিদ্র নারী সদস্যরা, যারা নিজেদের কষ্টের জমানো টাকা হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।

বুধবার (৭ মে) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক ভুক্তভোগী নারী। তারা প্রতারক এনজিও মালিকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১১ সালে দিলালপুরে প্রতিষ্ঠিত এনজিওটি প্রথমে “সঞ্চয় দ্বিগুণ” করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল নারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ শুরু করে। মাঠপর্যায়ে নারী কর্মীদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সঞ্চয় ও ডিপিএস খোলানো হতো। একপর্যায়ে ওই সকল কর্মী ও গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তি ও মাসিক জমার নামে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আদায় করে এনজিও মালিক কাইয়ুম এবং তার স্ত্রী।

তিন মাস আগে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিপিএসের লভ্যাংশসহ আসল টাকা চাইতে গেলে শুরু হয় টালবাহানা। পরে একদিন হঠাৎ করেই অফিসে তালা ঝুলিয়ে গা-ঢাকা দেন অভিযুক্ত দম্পতি।

ভুক্তভোগী আফসানা খাতুন জানান, তিনি একাই এই এনজিওতে জমা রেখেছেন ২৩ লাখ টাকা। এখন না পাচ্ছেন টাকা, না পাচ্ছেন তার হদিস। ফোন বন্ধ, অফিসে তালা—এখন তিনি কী করবেন, তা ভেবে দিশেহারা।

একই রকম অভিজ্ঞতা মাঠকর্মী সুলতানা খাতুন ও নীপা আক্তারের। তাদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে যথাক্রমে ৮০ লাখ ও ৪০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এখন ওই গ্রাহকরাই তাদের ঘিরে ধরছেন, টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। অথচ প্রতারক মালিক উধাও। ফলে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও তারা শঙ্কায়।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন—ময়না খাতুন, রেহেনা খাতুনসহ অনেকেই। প্রত্যেকের গল্প এক, অভিযোগ এক—কষ্টে উপার্জিত টাকা খুইয়ে তারা এখন অসহায়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দরিদ্র মানুষের টাকা নিয়ে এনজিও মালিক ও তার স্ত্রীর গা ঢাকা দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও।


 

প্রিন্ট করুন :