ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

বেরোবিতে অপরাধে জড়িতদের আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত, লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের আজীবন বহিষ্কার এবং ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসরণে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ব্যানারে রাজনীতির কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, আবাসিক সিট বাণিজ্য, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও জ্ঞাননির্ভর পরিবেশে পড়ালেখা করুক। কোনো অপরাধ বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা এখানে পড়তে এসেছি, রাজনীতির নামে যদি দখলদারি আর মাদক বাণিজ্য চলে, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশকে ধ্বংস করে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় হোক মেধা ও মননের কেন্দ্র।”

এদিকে সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা।
বেরোবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল-আমিন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এই নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রবিরোধী। খুব শিগগিরই আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”

ছাত্রশিবিরের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, “আমরা অপরাধের বিরুদ্ধে। তবে রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। আমরা চাই সুস্থ ধারার রাজনীতি চালাতে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে কাজ করতে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো অনিয়ম রোধে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

বেরোবিতে অপরাধে জড়িতদের আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত, লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ

Update Time : ১০:৪৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের আজীবন বহিষ্কার এবং ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসরণে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ব্যানারে রাজনীতির কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, আবাসিক সিট বাণিজ্য, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও জ্ঞাননির্ভর পরিবেশে পড়ালেখা করুক। কোনো অপরাধ বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা এখানে পড়তে এসেছি, রাজনীতির নামে যদি দখলদারি আর মাদক বাণিজ্য চলে, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশকে ধ্বংস করে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় হোক মেধা ও মননের কেন্দ্র।”

এদিকে সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা।
বেরোবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল-আমিন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এই নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রবিরোধী। খুব শিগগিরই আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”

ছাত্রশিবিরের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, “আমরা অপরাধের বিরুদ্ধে। তবে রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। আমরা চাই সুস্থ ধারার রাজনীতি চালাতে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে কাজ করতে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো অনিয়ম রোধে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

প্রিন্ট করুন :