নওগাঁ প্রতিনিধিঃ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। নিহতদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই উপজেলার এবং একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে সোমবার সকালে আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী, উজানপৈ ও ডুবাইসহ বিভিন্ন গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একই এলাকার ১৩ প্রবাসীর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত নওগাঁর ১৩ প্রবাসী হলেন—আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭)।
এ ছাড়া কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২), তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০) ও কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২) এবং মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) রয়েছেন।
নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)ও এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোমবার সকাল ৯টার দিকে জেলার ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদের মানফুয়া এলাকার ওই সোফা তৈরির কারখানায় নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলা ছাড়াও নাটোরের নলডাঙ্গা এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতেন।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। ওই সময় কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকেরা ঘুমিয়ে ছিলেন। স্বজনদের দাবি, কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ফলে আগুন লাগার পর শ্রমিকেরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
দিনের বেলায় ঘুমিয়ে রাতে কারখানায় কাজ করতেন এসব শ্রমিক। ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লাগায় মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কারখানার ভেতরে থাকা ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকেরই মৃত্যু হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জন নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।
একসঙ্গে ১৩ প্রবাসীর মৃত্যুতে আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে শোকের মাতম চলছে। স্বজনেরা প্রিয়জনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিকভাবে দাফনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে।
তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Reporter Name 



















