মোঃ শাহজালাল, বামনা (বরগুনা) | ২৮ জুলাই ২০২৫
সেবার নামেই তাদের চলা—এবার ‘পুনর্জাগরণ’-এর মোড়কে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেল দুর্গম উপকূলের মানুষ।
বরগুনার বামনা উপজেলার সরোয়ারজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় চিকিৎসার ব্যতিক্রমী আয়োজন। শত শত নারী-পুরুষ-শিশু ভিড় করেন সকাল গড়ানোর আগেই। অসুস্থ শরীর, দীর্ঘ পথ আর সীমিত চিকিৎসা—সব কিছুর ভার যেন হালকা হয়ে যায় একদিনের এই সেবায়।
নৌবাহিনীর খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধানে ও সংশ্লিষ্ট কন্টিনজেন্টের ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী চলে ক্যাম্পটি। সার্জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার স্বপ্নীল কুমার রায়ের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল দেন বহুবিধ চিকিৎসা—সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল রোগ পর্যন্ত। সাথে ছিল প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণও।
চোখে পড়েছে অশীতিপর বৃদ্ধ, কোলে শিশু নিয়ে আসা মা, কিংবা দাঁতে-ব্যথায় কাতর কৃষক। যাদের কাছে আধুনিক চিকিৎসা মানেই স্বপ্ন—তাদের মুখে আজ তৃপ্তির হাসি।
এক বৃদ্ধের জবানে, “এমন সেবা আগে কখনও পাইনি। নৌবাহিনীর ছেলেগুলা যেন ফেরেশতা।”
স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষকের কথায়, “সরকারি হাসপাতালে পৌঁছাতে আমাদের নদী পাড়ি দিতে হয়, আর এখানে চিকিৎসা এসে পৌঁছাল আমাদের দুয়ারে।”
বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের বিবৃতিতে জানায়, পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। শুধু দুর্যোগ নয়, স্বাভাবিক সময়েও তারা জনগণের পাশে থাকছে—এটাই তাদের অঙ্গীকার।
একদিনের এক ক্যাম্প যেন হয়ে উঠল হাজারো মুখের প্রশান্তি। উপকূলের হাওয়ায় ভেসে উঠল নতুন এক আশা—মানবিকতার, দায়িত্ববোধের আর রাষ্ট্রের ছোঁয়া পাওয়া জীবনের।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















