মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি||
নতুন একটি পাকা ঘরের স্বপ্নপূরণ হয়েছিল। শুধু থাকাটা বাকি ছিল। সেটাও আর হলো না ভোলার মো. আলীর। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে ভাগ্য বদলের আশায় পাড়ি জমানো সেই তরুণ কর্মস্থলে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন হাসপাতালে।
মো. আলী ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ সালেহ আহমেদ ও নাজমা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। পাঁচ বোনের পর জন্ম নেওয়া আলী ছিলেন পরিবারের আদরের ধন। সংসারের অভাব ঘোচাতে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই মামার হাত ধরে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইরাক।
বিদেশে দীর্ঘ সাত বছর শ্রম দিয়ে কিছু সঞ্চয় করেছিলেন। দেশে ফিরে ঘর নির্মাণ করেন। বিয়ের প্রস্তাব এলেও বলেছিলেন, “আগে একটা পাকাঘর করি, তারপর আবার যাব, তারপর বিয়ে।” ঘর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সে ঘরে আর ফিরলেন না আলী। ফিরলেন লাশ হয়ে, তাও নয়—ফিরলেনই না আর।
নিহতের মামা মো. ফরিদ জানান, আলী বাগদাদ শহরের একটি বাড়িতে জেনারেটরের কাজ করতেন। শনিবার রাতে সেই জেনারেটর বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে লাইন বন্ধ করতে গিয়ে গরম তেলে ঝলসে যান তিনি। দগ্ধ হয় শরীরের ৯৮ শতাংশ। বেঁচে থাকার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মারা যান আলী।
আলীর বড় বোন ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভাই তো গিয়েছিল পরিবারটাকে দাঁড় করাতে। এখন আমরা একটু ভালো থাকব ভেবেছিলাম, অথচ সে-ই ফিরে এল না।”
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও ভিড় করছেন আলীর বাড়িতে।
আলীর ছোট ভাই মাজহারুল ইসলাম জানান, “বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হয়তো ভাইয়ের মরদেহ আর দেশে আনা সম্ভব হবে না। তাই আমরা অনুরোধ করেছি, তাকে যেন ইরাকেই হযরত আলী (রা.)-এর মাজারের পাশে দাফন করা হয়।”
আলীর পাকা ঘর এখন শূন্য। দরজা-জানালায় বাতাস ঢোকে, কিন্তু যার স্বপ্নে ঘরটি গড়া, তার কোনো চিহ্ন নেই তাতে। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে পরিবারের, গ্রামবাসীর, এবং এক তরুণ জীবনের।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















