ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব রংপুরের ব্যবসায়ী, দিনকাটে আতঙ্কে

দেশজুড়ে ভয়ংকর প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট। তাদের নির্মম ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন রংপুরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পালন কুমার দাশ। কোটি টাকারও বেশি অর্থ, চেক, দলিলপত্র, এমনকি নিজের জীবন নিয়েও এখন শঙ্কায় রয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিদেশি দাতা সংস্থার নামে ৬৫ লাখ টাকার অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে শুরু হয় প্রতারণার চক্র। ‘অনুদান প্রক্রিয়ার খরচ’ ও ‘ভ্যাট’ বাবদ আদায় করা হয় ৩ লাখ টাকা। এরপর শুরু হয় ধারাবাহিকভাবে প্রতারণা ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চক্রান্ত।

অভিযুক্ত প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন:

১. রুবেল আহমেদ (শরিয়তপুরের রুবেল)

২. শাহরিয়ার রহমান সোহান (ভুয়া ডিজিআইএফ ক্যাপ্টেন পরিচয়ধারী)

৩. পংকজ কুমার সরকার ওরফে অপু সরকার

৪. খালেদ আহমেদ

এবং আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি

গুলশান থানায় এ সংক্রান্ত সি.আর. মামলা নং-২৪৯৪/২৫ইং দায়ের করা হয়েছে।

পালন কুমার দাশ অভিযোগ করেন, প্রতারক চক্র তাঁকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ব্যাংকের ১৬টি চেক, খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, দুটি মোবাইল, পাসপোর্ট এবং মূল্যবান কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। হুমকি-ধমকি, জুলুম-নির্যাতনের পাশাপাশি তাঁর সামাজিক মর্যাদা ধ্বংস করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে চালানো হচ্ছে কুৎসা ও অশালীন ভিডিও প্রচার।

পালনের স্ত্রী রঞ্জিতা দাশ পূঁজা বলেন, “ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজসহ বড় বড় প্রজেক্ট হবে—এই বলে আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়। তারা হেলিকপ্টারে এসে অভিনয় করে, মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারণা করে যায়।”

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভুক্তভোগী পরিবারঃ

ভুক্তভোগী পালন বলেন, “আমি বাংলাদেশে থাকতে চাই, বাঁচতে চাই। শেষ করে দিচ্ছে আমাকে। প্রতিদিন কাটছে ভয়ে, আতঙ্কে। সব হারিয়েছি—এখন প্রাণটাই যদি না থাকে তাহলে আর কিছু দিয়ে কী হবে?”

স্থানীয়রা জানান, পালনের মতো আরও অনেকেই এ চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী রাসেদুল ইসলাম, ফজলার রহমান, ধীমান কুমার রায় ও সোলাইমান কবীর জানিয়েছেন, “এই সিন্ডিকেট এলাকায় ভয়ংকর আতঙ্কের নাম। আইনের কঠোর হস্তক্ষেপ না হলে অনেকের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।”

এলাকার বিশিষ্টজন আশিক ইমাম বলেন, “পালন আমাদের এলাকার ছোট ভাই। সৎ ও নিরীহ মানুষ। প্রতারক সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”

সচেতন মহলের দাবি:

এই সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও সহায়তা দিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব রংপুরের ব্যবসায়ী, দিনকাটে আতঙ্কে

Update Time : ১০:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

দেশজুড়ে ভয়ংকর প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট। তাদের নির্মম ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন রংপুরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পালন কুমার দাশ। কোটি টাকারও বেশি অর্থ, চেক, দলিলপত্র, এমনকি নিজের জীবন নিয়েও এখন শঙ্কায় রয়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিদেশি দাতা সংস্থার নামে ৬৫ লাখ টাকার অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে শুরু হয় প্রতারণার চক্র। ‘অনুদান প্রক্রিয়ার খরচ’ ও ‘ভ্যাট’ বাবদ আদায় করা হয় ৩ লাখ টাকা। এরপর শুরু হয় ধারাবাহিকভাবে প্রতারণা ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চক্রান্ত।

অভিযুক্ত প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন:

১. রুবেল আহমেদ (শরিয়তপুরের রুবেল)

২. শাহরিয়ার রহমান সোহান (ভুয়া ডিজিআইএফ ক্যাপ্টেন পরিচয়ধারী)

৩. পংকজ কুমার সরকার ওরফে অপু সরকার

৪. খালেদ আহমেদ

এবং আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি

গুলশান থানায় এ সংক্রান্ত সি.আর. মামলা নং-২৪৯৪/২৫ইং দায়ের করা হয়েছে।

পালন কুমার দাশ অভিযোগ করেন, প্রতারক চক্র তাঁকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ব্যাংকের ১৬টি চেক, খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, দুটি মোবাইল, পাসপোর্ট এবং মূল্যবান কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। হুমকি-ধমকি, জুলুম-নির্যাতনের পাশাপাশি তাঁর সামাজিক মর্যাদা ধ্বংস করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে চালানো হচ্ছে কুৎসা ও অশালীন ভিডিও প্রচার।

পালনের স্ত্রী রঞ্জিতা দাশ পূঁজা বলেন, “ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজসহ বড় বড় প্রজেক্ট হবে—এই বলে আমাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়। তারা হেলিকপ্টারে এসে অভিনয় করে, মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারণা করে যায়।”

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভুক্তভোগী পরিবারঃ

ভুক্তভোগী পালন বলেন, “আমি বাংলাদেশে থাকতে চাই, বাঁচতে চাই। শেষ করে দিচ্ছে আমাকে। প্রতিদিন কাটছে ভয়ে, আতঙ্কে। সব হারিয়েছি—এখন প্রাণটাই যদি না থাকে তাহলে আর কিছু দিয়ে কী হবে?”

স্থানীয়রা জানান, পালনের মতো আরও অনেকেই এ চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী রাসেদুল ইসলাম, ফজলার রহমান, ধীমান কুমার রায় ও সোলাইমান কবীর জানিয়েছেন, “এই সিন্ডিকেট এলাকায় ভয়ংকর আতঙ্কের নাম। আইনের কঠোর হস্তক্ষেপ না হলে অনেকের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।”

এলাকার বিশিষ্টজন আশিক ইমাম বলেন, “পালন আমাদের এলাকার ছোট ভাই। সৎ ও নিরীহ মানুষ। প্রতারক সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”

সচেতন মহলের দাবি:

এই সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও সহায়তা দিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

প্রিন্ট করুন :