ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে অভিযাত্রিকের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, অংশ নিল ২ হাজার ৪৮ শিক্ষার্থী দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

গলাচিপায় ইউএনও-র উদ্যোগে ঝকঝকে হল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

জনবল সংকটে নাজেহাল গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চারপাশে ময়লা–আবর্জনা, ওয়ার্ডে নোংরাযুক্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতেই চলছিল রোগীদের চিকিৎসা। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নজর এড়ায়নি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে পরের দিনই নিজ উদ্যোগে বড়সড় পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেন তিনি।

শনিবার দুপুরে পৌরসভার হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড, বাথরুম, আশপাশের পরিত্যক্ত ভবনসহ পুরো এলাকা পরিষ্কার করেন ইউএনও মাহমুদ হাসান। শুধু তা-ই নয়, মশা নিধনে স্প্রেও চালানো হয়। রোগী ও স্বজনরা ইউএনও-র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ইউএনও বলেন, “একদিন আগে পরিদর্শনে গিয়ে দেখি চতুর্দিক ভরতি ময়লা, জরাজীর্ণ পরিবেশ। তাই পৌরসভার বিশ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এনে হাসপাতাল ও আশপাশের অঞ্চল পরিষ্কার করা হয়েছে।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শুভঙ্কর দাস জানান, পঞ্চাশ শয্যার এই হাসপাতালে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীর রোগীর চাপ সবসময়ই বেশি। দিনে এক থেকে দেড়শত রোগী ভর্তি থাকেন। দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পক্ষে গোটা হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “রোগীর স্বজনরা যদি ময়লা নির্দিষ্ট বক্সে ফেলতেন, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকত।”

সিনিয়র নার্স শিরিন আক্তার জানান, রোগীর ভিড় এতটাই বেশি যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল অনেকসময়ই দুই শতাধিক রোগীতে ভরে যায়। ব্যস্ততার মধ্যেও ডেঙ্গু ওয়ার্ড সবসময় পরিষ্কার রাখা হয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ্ উদ্দিন বলেন, বহুদিন ধরেই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চলছে। দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়ে প্রতিদিন ১৫০-র ওপর রোগীর সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অসম্ভব। প্রতি শুক্রবার নিয়মিত পরিস্কার অভিযানের পাশাপাশি ইউএনও-র বিশেষ উদ্যোগে হাসপাতালটি কয়েকদিনের জন্য হলেও সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ এস.এম. সালেহ উদ্দিন মাহমুদ, আরএমও ডাঃ মোঃ নোমান পারভেজ, ডাঃ নাঈমুল ইসলাম লিমন, ডাঃ তুষার আহমেদ, ডাঃ নুরু উদ্দিন, ডাঃ আতাউর রহমানসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

গোয়াইনঘাটে অভিযাত্রিকের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, অংশ নিল ২ হাজার ৪৮ শিক্ষার্থী

গলাচিপায় ইউএনও-র উদ্যোগে ঝকঝকে হল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

Update Time : ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

জনবল সংকটে নাজেহাল গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চারপাশে ময়লা–আবর্জনা, ওয়ার্ডে নোংরাযুক্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতেই চলছিল রোগীদের চিকিৎসা। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নজর এড়ায়নি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে পরের দিনই নিজ উদ্যোগে বড়সড় পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেন তিনি।

শনিবার দুপুরে পৌরসভার হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড, বাথরুম, আশপাশের পরিত্যক্ত ভবনসহ পুরো এলাকা পরিষ্কার করেন ইউএনও মাহমুদ হাসান। শুধু তা-ই নয়, মশা নিধনে স্প্রেও চালানো হয়। রোগী ও স্বজনরা ইউএনও-র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ইউএনও বলেন, “একদিন আগে পরিদর্শনে গিয়ে দেখি চতুর্দিক ভরতি ময়লা, জরাজীর্ণ পরিবেশ। তাই পৌরসভার বিশ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এনে হাসপাতাল ও আশপাশের অঞ্চল পরিষ্কার করা হয়েছে।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শুভঙ্কর দাস জানান, পঞ্চাশ শয্যার এই হাসপাতালে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীর রোগীর চাপ সবসময়ই বেশি। দিনে এক থেকে দেড়শত রোগী ভর্তি থাকেন। দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পক্ষে গোটা হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “রোগীর স্বজনরা যদি ময়লা নির্দিষ্ট বক্সে ফেলতেন, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকত।”

সিনিয়র নার্স শিরিন আক্তার জানান, রোগীর ভিড় এতটাই বেশি যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল অনেকসময়ই দুই শতাধিক রোগীতে ভরে যায়। ব্যস্ততার মধ্যেও ডেঙ্গু ওয়ার্ড সবসময় পরিষ্কার রাখা হয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ্ উদ্দিন বলেন, বহুদিন ধরেই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চলছে। দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়ে প্রতিদিন ১৫০-র ওপর রোগীর সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অসম্ভব। প্রতি শুক্রবার নিয়মিত পরিস্কার অভিযানের পাশাপাশি ইউএনও-র বিশেষ উদ্যোগে হাসপাতালটি কয়েকদিনের জন্য হলেও সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ এস.এম. সালেহ উদ্দিন মাহমুদ, আরএমও ডাঃ মোঃ নোমান পারভেজ, ডাঃ নাঈমুল ইসলাম লিমন, ডাঃ তুষার আহমেদ, ডাঃ নুরু উদ্দিন, ডাঃ আতাউর রহমানসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।

প্রিন্ট করুন :