ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

শহীদ কন্যা ধর্ষণ ও আত্মহত্যা: ডিবির জালে আলোচিত ইমরান মুন্সি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আলোচিত কলেজছাত্রী ও শহীদ কন্যা লামিয়ার ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার মামলার পলাতক প্রধান আসামি ইমরান মুন্সি (১৭) অবশেষে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা(ডিবি) পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।
রোববার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল নগরীর এয়ারপোর্ট থানার কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকা থেকে তাকে আটক করে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লামিয়ার বাবা জসিম উদ্দিন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর মা ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। লামিয়া থাকতেন নানাবাড়ি, দুমকীর আলগী গ্রামে।

১৮ মার্চ বাবার কবর জিয়ারত করে দাদাবাড়ি থেকে নানা বাড়ি ফেরার পথে লামিয়াকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দু’দিন পর, ২০ মার্চ, লামিয়া নিজেই দুমকী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় সহপাঠী সিফাত মুন্সি ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র শাকিব মুন্সিকে। এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা তাকে জোর করে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। পরে পুলিশ উভয় আসামিকে গ্রেফতার করে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেই জবানবন্দিতে উঠে আসে ইমরান মুন্সির নাম, যিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।

দুর্বিষহ মানসিক চাপ ও সামাজিক লজ্জায় লামিয়া ২৬ এপ্রিল রাতে ঢাকার বাসায় আত্মহত্যা করেন। পরে তাকে দাফন করা হয় নিজ গ্রামে শহীদ বাবার কবরের পাশে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন, সাউথ বাংলাকে বলেন,
“এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। মামলার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে চলছে”


 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

শহীদ কন্যা ধর্ষণ ও আত্মহত্যা: ডিবির জালে আলোচিত ইমরান মুন্সি গ্রেফতার

Update Time : ০৯:১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আলোচিত কলেজছাত্রী ও শহীদ কন্যা লামিয়ার ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার মামলার পলাতক প্রধান আসামি ইমরান মুন্সি (১৭) অবশেষে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা(ডিবি) পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।
রোববার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল নগরীর এয়ারপোর্ট থানার কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকা থেকে তাকে আটক করে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লামিয়ার বাবা জসিম উদ্দিন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর মা ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। লামিয়া থাকতেন নানাবাড়ি, দুমকীর আলগী গ্রামে।

১৮ মার্চ বাবার কবর জিয়ারত করে দাদাবাড়ি থেকে নানা বাড়ি ফেরার পথে লামিয়াকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দু’দিন পর, ২০ মার্চ, লামিয়া নিজেই দুমকী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় সহপাঠী সিফাত মুন্সি ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র শাকিব মুন্সিকে। এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা তাকে জোর করে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। পরে পুলিশ উভয় আসামিকে গ্রেফতার করে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেই জবানবন্দিতে উঠে আসে ইমরান মুন্সির নাম, যিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।

দুর্বিষহ মানসিক চাপ ও সামাজিক লজ্জায় লামিয়া ২৬ এপ্রিল রাতে ঢাকার বাসায় আত্মহত্যা করেন। পরে তাকে দাফন করা হয় নিজ গ্রামে শহীদ বাবার কবরের পাশে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন, সাউথ বাংলাকে বলেন,
“এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। মামলার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে চলছে”


 

প্রিন্ট করুন :