কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফুলশয্যার রাতেই স্বামীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে একটি পরিবারে। নববধূ লাভলী আক্তার (২১) তার জীবনের স্মরণীয় রাতটি পার করলেন স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসে। এক রাতেই জীবনের সব স্বপ্ন চূর্ণ হয়ে গেছে তার।
বৃহস্পতিবার (১ মে) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কবিরমামুদ গ্রামের শাহ জামালের মেয়ে লাভলীর সঙ্গে একই উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের আছিয়ার বাজার এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে খালেকুজ্জামান ডিউটের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের মধ্যে ছিল আনন্দ-উৎসবের আয়োজন, খাওয়া-দাওয়া আর আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলা।
কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটলো মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। নববধূর হাতে তখনও মেহেদির রঙ, পরনে লাল শাড়ি—স্বামীর জন্য অপেক্ষায় বসে আছেন তিনি ফুলশয্যার ঘরে। রাত ১২টার দিকে বর খালেকুজ্জামান ঘরে প্রবেশ করে এক গ্লাস পানি চাইতেই হঠাৎ চিৎকার দিয়ে মেঝেতে পড়ে যান। নববধূর চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে দেখেন, তিনি অচেতন। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
নববধূ লাভলীর চাচা, সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, “খালেকুজ্জামান এর আগে একবার বিয়ে করেছিলেন। তার প্রথম স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিচ্ছেদের পর বৃহস্পতিবার আমার ভাতিজির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কে জানতো, এ বিয়ে হবে তার জীবনের শেষ দিন।”
শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম মিয়া শোহেল বলেন, “খবরটি শুনে মর্মাহত হয়েছি। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। ফুলশয্যার রাতেই কেউ স্ত্রীকে বিধবা করে চলে যায়—এটা সত্যিই খুব কষ্টের।”
শুক্রবার বিকেল ৩টায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে খালেকুজ্জামান ডিউটের দাফন সম্পন্ন হয়। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 


























