ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

দিনাজপুরে লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে কচি পাতা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

দিনাজপুরের বিভিন্ন লিচু গাছে মুকুলের সমারোহ দেখা গেলেও কিছু কিছু গাছে মুকুল দেখা যায়নি। বরং এসব গাছে নতুন কচি পাতা হয়েছে। লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে তামাটে রঙের কচি পাতা। ফ্লাওয়ারিং এর পরিবর্তে ফ্লাশিং। এ পরিস্থিতিতে হতাশ দিনাজপুরের লিচু বাগান মালিক ও মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা।
উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ফ্লাওয়ারিং-এর পরিবর্তে ফ্লাশিং, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এই কারণে গত বছর মাদ্রাজি লিচুর ফলন কম হয়েছিল। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, মুকুলের পরিবর্তে কচিপাতা-এটা প্রকৃতির নিয়ম। ফলনে তেমন প্রভাব পড়বে না। দেশব্যাপী দিনাজপুরের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই অনেক লিচু চাষি এ অবস্থা দেখে শঙ্কায় রয়েছেন।
মিষ্টি ও রসালো স্বাদ আর বৈশিষ্ট্য নিয়ে দিনাজপুরের সুস্বাদু লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে। এই জেলায় চাষ হয় চায়না থ্রি, চায়না টু, বোম্বাই, মাদ্রাজি, হাড়িয়া ও কাঁঠালী। কিন্তু এবার লিচু ফলনের আংশিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে বাগান মালিক, উদ্ভিদবিদরা। কারণ লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে তামাটে রঙের কচি পাতা ছাড়ছে। মাঘ মাসের শেষ থেকে লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। ফাল্গুনের মাঝামাঝি বাগানগুলোতে লিচুর মুকুল থেকে কুঁড়ি আসা শুরু হয়। আর চৈত্রের শুরুতে কুঁড়ি থেকে ফুটবে গুটি লিচু। সবুজ গুটি থেকে থোকা থোকা বৈশাখের মাঝামাঝি টকটকে লাল রঙে রাঙাবে। জ্যৈষ্ঠ মধুমাসে গাছগুলোতে ঝুলে থাকবে থোকায় থোকায় লিচু। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে মুকুলের পরিবর্তে কচি পাতা। দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুস্পষ্ট। পুষ্প দণ্ড বা মঞ্জুরি দণ্ড কচি পাতা থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা থাকে না। কচি পাতা বের হওয়ার জন্য দায়ী অসময়ে বৃষ্টিপাত। বায়ুপ্রবাহ ও গ্রীষ্ম/শীতের মিশ্রণ।
বিরল কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, যেসব বাগানীরা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে লিচু গাছে সেচ ও সার দিয়েছে, তাদের ওইসব গাছেই এই কচি পাতা এসেছে। মুকুল ধরেনি তাই ফল আসবে না। দুশ্চিন্তার কারণ নেই প্রকৃতির নিয়মেই কচি পাতা ছাড়ছে। অনেক গাছে মুকুলে ছেয়ে গেছে। তাই ফলনে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকতা।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুজ্জামান জানান, জেলায় এবার ৫ হাজার ৭৮৭ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় ২৮০ হেক্টর বেশি। ছোট-বড় নিয়ে ৩ হাজার ১২৮টির বেশি লিচুর বাগানে ৩ লাখ ৩৫ হাজার গাছ রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

দিনাজপুরে লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে কচি পাতা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

Update Time : ১১:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

দিনাজপুরের বিভিন্ন লিচু গাছে মুকুলের সমারোহ দেখা গেলেও কিছু কিছু গাছে মুকুল দেখা যায়নি। বরং এসব গাছে নতুন কচি পাতা হয়েছে। লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে তামাটে রঙের কচি পাতা। ফ্লাওয়ারিং এর পরিবর্তে ফ্লাশিং। এ পরিস্থিতিতে হতাশ দিনাজপুরের লিচু বাগান মালিক ও মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা।
উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ফ্লাওয়ারিং-এর পরিবর্তে ফ্লাশিং, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এই কারণে গত বছর মাদ্রাজি লিচুর ফলন কম হয়েছিল। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, মুকুলের পরিবর্তে কচিপাতা-এটা প্রকৃতির নিয়ম। ফলনে তেমন প্রভাব পড়বে না। দেশব্যাপী দিনাজপুরের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই অনেক লিচু চাষি এ অবস্থা দেখে শঙ্কায় রয়েছেন।
মিষ্টি ও রসালো স্বাদ আর বৈশিষ্ট্য নিয়ে দিনাজপুরের সুস্বাদু লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে। এই জেলায় চাষ হয় চায়না থ্রি, চায়না টু, বোম্বাই, মাদ্রাজি, হাড়িয়া ও কাঁঠালী। কিন্তু এবার লিচু ফলনের আংশিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে বাগান মালিক, উদ্ভিদবিদরা। কারণ লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে তামাটে রঙের কচি পাতা ছাড়ছে। মাঘ মাসের শেষ থেকে লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। ফাল্গুনের মাঝামাঝি বাগানগুলোতে লিচুর মুকুল থেকে কুঁড়ি আসা শুরু হয়। আর চৈত্রের শুরুতে কুঁড়ি থেকে ফুটবে গুটি লিচু। সবুজ গুটি থেকে থোকা থোকা বৈশাখের মাঝামাঝি টকটকে লাল রঙে রাঙাবে। জ্যৈষ্ঠ মধুমাসে গাছগুলোতে ঝুলে থাকবে থোকায় থোকায় লিচু। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে মুকুলের পরিবর্তে কচি পাতা। দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুস্পষ্ট। পুষ্প দণ্ড বা মঞ্জুরি দণ্ড কচি পাতা থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা থাকে না। কচি পাতা বের হওয়ার জন্য দায়ী অসময়ে বৃষ্টিপাত। বায়ুপ্রবাহ ও গ্রীষ্ম/শীতের মিশ্রণ।
বিরল কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, যেসব বাগানীরা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে লিচু গাছে সেচ ও সার দিয়েছে, তাদের ওইসব গাছেই এই কচি পাতা এসেছে। মুকুল ধরেনি তাই ফল আসবে না। দুশ্চিন্তার কারণ নেই প্রকৃতির নিয়মেই কচি পাতা ছাড়ছে। অনেক গাছে মুকুলে ছেয়ে গেছে। তাই ফলনে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকতা।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুজ্জামান জানান, জেলায় এবার ৫ হাজার ৭৮৭ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় ২৮০ হেক্টর বেশি। ছোট-বড় নিয়ে ৩ হাজার ১২৮টির বেশি লিচুর বাগানে ৩ লাখ ৩৫ হাজার গাছ রয়েছে।

প্রিন্ট করুন :