ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সমকামী প্রেমিক যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ায় ক্ষোভ, ঘুমের ওষুধ দিয়ে আশরাফুলকে হত্যার দাবি ত্রিশালের ইউএনও প্রত্যাহার, ছাত্রদল নেতাকে মারধরের ঘটনায়-সরি পবিপ্রবিতে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন চোখ হারালেও স্বপ্ন হারাননি রুবিনা, হতে চান শিক্ষক জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে রেকর্ড, দেশসেরা গলাচিপা ইউএনও আবুজর মোঃ ইজাজুল হক কায়দা ওরে কাস ১৮ টাকার বায়োস্কোপে ৫০ বছর, আগৈলঝাড়ার সর্বানন্দের ‘কায়দার কায়দা’ ১৮ টাকার বায়োস্কোপে ৫০ বছর, আগৈলঝাড়ার সর্বানন্দের ‘কায়দার কায়দা’  দুমকির দক্ষিণ মুরাদিয়ার আবু জাফর ৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার পবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিআরটিসি থেকে ৪ বাস ভাড়ার উদ্যোগ

সমকামী প্রেমিক যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ায় ক্ষোভ, ঘুমের ওষুধ দিয়ে আশরাফুলকে হত্যার দাবি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে নিখোঁজ স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলামকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে যমুনা নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আশরাফুলের মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি।

সিআইডির দাবি, রফিকুলের সঙ্গে আশরাফুলের সমকামী সম্পর্ক ছিল। পরে আশরাফুল তাঁর আরও দুই বন্ধুর সঙ্গে এক যৌনকর্মীর কাছে গিয়েছেন—এমন তথ্য জানতে পেরে রফিকুল ক্ষুব্ধ হন। সেই বিরোধের জেরেই আশরাফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আশরাফুল জামিরতা গাড়াদহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। রফিকুলও একই এলাকার বাসিন্দা।

২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যার পর রফিকুল মোবাইল ফোনে একাধিক বার আশরাফুলকে ফোন করে জামিরতা বাজারে ডেকে নেন। এর পর আর বাড়ি ফেরেননি আশরাফুল। রাত পর্যন্ত অপেক্ষার পর পরিবারের সদস্যেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পর দিন তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আশরাফুলের বাবা শাহজাদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

দীর্ঘ দিনেও কোনও সন্ধান না মেলায় ১৩ নভেম্বর আদালতে তিন জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুলের মা। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় সিআইডি সিরাজগঞ্জ।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রথম দিকে মামলাটির কোনও স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মামলার নথি পুনর্বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই এবং স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে রফিকুলের ভূমিকা সামনে আসে।

গত ১২ আগস্ট জামিরতা বাজার এলাকা থেকে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল আশরাফুলের সঙ্গে তাঁর সমকামী সম্পর্কের কথা জানান। পরে আশরাফুল অন্য দুই বন্ধুর সঙ্গে যৌনকর্মীর কাছে গিয়েছেন জানতে পেরে তিনি ক্ষুব্ধ হন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ক্ষোভ থেকেই আশরাফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রফিকুল। ঘটনার দিন তাঁকে যমুনা নদীর পাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যৌন উত্তেজক ওষুধ দেওয়ার কথা বলে আশরাফুলকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওষুধের প্রভাবে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে নদীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে সিআইডিকে জানিয়েছেন রফিকুল। পরে নদীর স্রোতে তাঁর দেহ ভেসে যায় বলে তাঁর দাবি।

রফিকুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

তবে তিন বছর পরও এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর মেলেনি—আশরাফুলের মরদেহ কোথায়?

সিআইডি জানিয়েছে, রফিকুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যমুনার ভাটি অঞ্চলে মরদেহের সন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতে অজ্ঞাতনামা মরদেহের তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন নথি ও রেজিস্টারও যাচাই করা হচ্ছে।

মরদেহ উদ্ধার, রফিকুলের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

রফিকুলের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় ১২ বছর আগে অপর সমকামী প্রেমিক বিয়ে করায় ওই ব্যক্তির পুরুষাঙ্গের অংশবিশেষ কেটে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বিচার শেষে তিনি সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।

সোর্সঃ ডেইলি ক্যাম্পাস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

সমকামী প্রেমিক যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ায় ক্ষোভ, ঘুমের ওষুধ দিয়ে আশরাফুলকে হত্যার দাবি

সমকামী প্রেমিক যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ায় ক্ষোভ, ঘুমের ওষুধ দিয়ে আশরাফুলকে হত্যার দাবি

Update Time : ১১:৩১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে নিখোঁজ স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলামকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে যমুনা নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আশরাফুলের মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি।

সিআইডির দাবি, রফিকুলের সঙ্গে আশরাফুলের সমকামী সম্পর্ক ছিল। পরে আশরাফুল তাঁর আরও দুই বন্ধুর সঙ্গে এক যৌনকর্মীর কাছে গিয়েছেন—এমন তথ্য জানতে পেরে রফিকুল ক্ষুব্ধ হন। সেই বিরোধের জেরেই আশরাফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আশরাফুল জামিরতা গাড়াদহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। রফিকুলও একই এলাকার বাসিন্দা।

২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যার পর রফিকুল মোবাইল ফোনে একাধিক বার আশরাফুলকে ফোন করে জামিরতা বাজারে ডেকে নেন। এর পর আর বাড়ি ফেরেননি আশরাফুল। রাত পর্যন্ত অপেক্ষার পর পরিবারের সদস্যেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পর দিন তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আশরাফুলের বাবা শাহজাদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

দীর্ঘ দিনেও কোনও সন্ধান না মেলায় ১৩ নভেম্বর আদালতে তিন জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুলের মা। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় সিআইডি সিরাজগঞ্জ।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রথম দিকে মামলাটির কোনও স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মামলার নথি পুনর্বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই এবং স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে রফিকুলের ভূমিকা সামনে আসে।

গত ১২ আগস্ট জামিরতা বাজার এলাকা থেকে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল আশরাফুলের সঙ্গে তাঁর সমকামী সম্পর্কের কথা জানান। পরে আশরাফুল অন্য দুই বন্ধুর সঙ্গে যৌনকর্মীর কাছে গিয়েছেন জানতে পেরে তিনি ক্ষুব্ধ হন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ক্ষোভ থেকেই আশরাফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রফিকুল। ঘটনার দিন তাঁকে যমুনা নদীর পাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যৌন উত্তেজক ওষুধ দেওয়ার কথা বলে আশরাফুলকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওষুধের প্রভাবে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে নদীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে সিআইডিকে জানিয়েছেন রফিকুল। পরে নদীর স্রোতে তাঁর দেহ ভেসে যায় বলে তাঁর দাবি।

রফিকুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

তবে তিন বছর পরও এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর মেলেনি—আশরাফুলের মরদেহ কোথায়?

সিআইডি জানিয়েছে, রফিকুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যমুনার ভাটি অঞ্চলে মরদেহের সন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতে অজ্ঞাতনামা মরদেহের তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন নথি ও রেজিস্টারও যাচাই করা হচ্ছে।

মরদেহ উদ্ধার, রফিকুলের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

রফিকুলের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় ১২ বছর আগে অপর সমকামী প্রেমিক বিয়ে করায় ওই ব্যক্তির পুরুষাঙ্গের অংশবিশেষ কেটে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বিচার শেষে তিনি সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।

সোর্সঃ ডেইলি ক্যাম্পাস

প্রিন্ট করুন :