ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা মামলায় প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার-২৩ ‎

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ১১৮ Time View

‎সৈয়দ নুর আহসান, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা,ভাঙচুর ও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি ইদ্রিস ফকিরসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জন।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার প্রধান আসামি ১ নম্বর এজাহারভুক্ত ইদ্রিস ফকির, ৩০ নম্বর এজাহারভুক্ত রাব্বি ফকির, ৩৭ নম্বর এজাহারভুক্ত ইয়াসিন আক্তার এবং তদন্তে শনাক্ত আসামি হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। হাসিনা বেগম প্রধান আসামি ইদ্রিস ফকিরের স্ত্রী। তাদের সবার বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী এলাকায়।

‎এদিকে উজিরপুর থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদের জিম্মায় ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে চারজনকে বুঝে নিয়ে আগৈলঝাড়ায় নিয়ে আসে।

‎রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামিকে বরিশালের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

‎আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎এছাড়া এজাহারভুক্ত নুরু মিয়া নামের আরও একজন আসামিকে আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মামলায় এজাহারভুক্ত ও তদন্তে সনাক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।

‎বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থানায় হামলা,ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মোট ২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎পুলিশ জানায়, মামলায় বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর, হত্যাচেষ্টা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় রিয়াজ ফকির নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে থানা হাজতে তিনি নিজের মাথায় আঘাত করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‎এ ঘটনার পর রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এএসআই আব্দুল হালিমসহ ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং হামলাকারীদের কয়েকজনসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।

‎ঘটনার পর আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মোট ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা মামলায় প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার-২৩ ‎

Update Time : ০৯:৪২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

‎সৈয়দ নুর আহসান, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা,ভাঙচুর ও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি ইদ্রিস ফকিরসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জন।

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার প্রধান আসামি ১ নম্বর এজাহারভুক্ত ইদ্রিস ফকির, ৩০ নম্বর এজাহারভুক্ত রাব্বি ফকির, ৩৭ নম্বর এজাহারভুক্ত ইয়াসিন আক্তার এবং তদন্তে শনাক্ত আসামি হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। হাসিনা বেগম প্রধান আসামি ইদ্রিস ফকিরের স্ত্রী। তাদের সবার বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী এলাকায়।

‎এদিকে উজিরপুর থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদের জিম্মায় ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে চারজনকে বুঝে নিয়ে আগৈলঝাড়ায় নিয়ে আসে।

‎রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামিকে বরিশালের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

‎আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎এছাড়া এজাহারভুক্ত নুরু মিয়া নামের আরও একজন আসামিকে আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মামলায় এজাহারভুক্ত ও তদন্তে সনাক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।

‎বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থানায় হামলা,ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মোট ২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎পুলিশ জানায়, মামলায় বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর, হত্যাচেষ্টা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় রিয়াজ ফকির নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে থানা হাজতে তিনি নিজের মাথায় আঘাত করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‎এ ঘটনার পর রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এএসআই আব্দুল হালিমসহ ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং হামলাকারীদের কয়েকজনসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।

‎ঘটনার পর আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মোট ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রিন্ট করুন :