ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২৩

খুলনায় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে বিএনপির কাউন্সিলররা

আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ভোটে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলররা। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি জনসেবা করতেই তাদের এ সিদ্ধান্ত। অবশ্য দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নির্বাচন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুসিয়ারি বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের।
গত ৩ এপ্রিল খুলনা সহ দেশের ৫ সিটি করপোরেশনে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, খুলনায় ভোট হবে ১২ জুন। একই দিন বরিশাল সিটিতেও ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ মে, বাছাই ১৮ মে ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ মে।
গত ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে খুলনা সিটির ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ৮জন আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এতে বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ জনে।
অন্যদিকে নগরীর ১০টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিতদের মধ্যে দুজন ছিলেন বিএনপি সমর্থক। এদের মধ্যে একজন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
আগামী ১২ জুনের ভোটকে সামনে রেখে এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপি সমর্থক প্রার্থীরা। কেসিসির সংরক্ষিত ৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর মাজেদা খাতুন বলেন, ‘আমার ইচ্ছা নির্বাচন করবো। ইনশাল্লাহ আমি অনেক ভোটে বিজয়ী হবো। এর কারন হলো মানুষের জন্য যে কাজ করে, মানুষের জন্য যে কিছু করে সে মাঠে থাকবে ইনশাল্লাহ।
নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করার কথা জানিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন বলেন, ‘জনগন বারবার নির্বাচিত করেছে। তিনতিন বার। যেহতু তিনবার নির্বাচিত করেছে সেহতু জনস্বার্থে অনেক কাজ এখনও বাকি আছে। এগুলো সম্পন্ন করতে গেলে আরও সময় দরকার। তাই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো কথা জানালেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে অটল অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর সমশের আলী মিন্টু।
তিনি বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের যে বিষয়টি আছে, অবশ্যই আমি দলের একজন, দলের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করার কোনো জায়গা আমার মধ্যে নেই। আমি এটা দলীয় ফোরামে, যেখানে এটা আলোচনা করা দরকার সেখানে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসবো।
‘এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই যে, এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমি মনে করছি আমার নির্বাচন করা উচিত। এ কারনেই এখন পর্যন্ত আমার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত আছে।
এদিকে, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেয়াদের বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা বিএনপির। খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘আমাদের দলের যারা প্রার্থী আছেন তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবেন না বলে আমি বিশ্বাস করি।
‘চলমান ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছেন। মামলা খেয়ে জেলে যাচ্ছেন, কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন, সরকারদ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন তারা কোনোভাবেই তারা কোনোভাবেই দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবেন না বলেই আমরা বিশ্বাস করি। তারা দলের সাথেই থাকবেন। আর কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে যান তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২৩

খুলনায় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে বিএনপির কাউন্সিলররা

Update Time : ০৭:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ মে ২০২৩

আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ভোটে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলররা। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি জনসেবা করতেই তাদের এ সিদ্ধান্ত। অবশ্য দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নির্বাচন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুসিয়ারি বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের।
গত ৩ এপ্রিল খুলনা সহ দেশের ৫ সিটি করপোরেশনে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, খুলনায় ভোট হবে ১২ জুন। একই দিন বরিশাল সিটিতেও ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ মে, বাছাই ১৮ মে ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ মে।
গত ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে খুলনা সিটির ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ৮জন আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এতে বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ জনে।
অন্যদিকে নগরীর ১০টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিতদের মধ্যে দুজন ছিলেন বিএনপি সমর্থক। এদের মধ্যে একজন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
আগামী ১২ জুনের ভোটকে সামনে রেখে এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপি সমর্থক প্রার্থীরা। কেসিসির সংরক্ষিত ৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর মাজেদা খাতুন বলেন, ‘আমার ইচ্ছা নির্বাচন করবো। ইনশাল্লাহ আমি অনেক ভোটে বিজয়ী হবো। এর কারন হলো মানুষের জন্য যে কাজ করে, মানুষের জন্য যে কিছু করে সে মাঠে থাকবে ইনশাল্লাহ।
নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করার কথা জানিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন বলেন, ‘জনগন বারবার নির্বাচিত করেছে। তিনতিন বার। যেহতু তিনবার নির্বাচিত করেছে সেহতু জনস্বার্থে অনেক কাজ এখনও বাকি আছে। এগুলো সম্পন্ন করতে গেলে আরও সময় দরকার। তাই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো কথা জানালেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে অটল অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর সমশের আলী মিন্টু।
তিনি বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের যে বিষয়টি আছে, অবশ্যই আমি দলের একজন, দলের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করার কোনো জায়গা আমার মধ্যে নেই। আমি এটা দলীয় ফোরামে, যেখানে এটা আলোচনা করা দরকার সেখানে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসবো।
‘এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই যে, এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমি মনে করছি আমার নির্বাচন করা উচিত। এ কারনেই এখন পর্যন্ত আমার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত আছে।
এদিকে, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেয়াদের বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা বিএনপির। খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘আমাদের দলের যারা প্রার্থী আছেন তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবেন না বলে আমি বিশ্বাস করি।
‘চলমান ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছেন। মামলা খেয়ে জেলে যাচ্ছেন, কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন, সরকারদ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন তারা কোনোভাবেই তারা কোনোভাবেই দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবেন না বলেই আমরা বিশ্বাস করি। তারা দলের সাথেই থাকবেন। আর কেউ যদি দলের বিরুদ্ধে যান তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রিন্ট করুন :