পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::
প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গকন্যা’ শব্দযুক্ত গানের সঙ্গে শিক্ষার্থীর নৃত্য—এই দৃশ্য ঘিরে বাউফলে বুধবার তুমুল উত্তেজনা। গানের আপত্তিকর ব্যবহার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রতিবাদ, আর সেই প্রতিবাদের জবাব দিতে গিয়েই অনুষ্ঠানের অতিথি ইউএনও আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা—ভিডিওফুটেজে ধরা পড়েছে সবই।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে নৃত্য চলাকালে বিএনপি নেতারা আপত্তি তুললে ইউএনও আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি প্রোগ্রামে আপনারা বাধা দিচ্ছেন।” এর পরই শুরু হয় উত্তেজনা। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গানের তালিকা নির্ধারণে আয়োজকদের আরো সতর্ক থাকা উচিত ছিল। “বঙ্গকন্যা” শব্দ ব্যবহৃত গান রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেছে বলে দাবি তাঁদের।
দিনের ঘটনাপ্রবাহে সন্ধ্যায় যোগ হয় নতুন মাত্রা—ইউএনও আমিনুল ইসলামের বদলির খবর। আর সেই ঘোষণার পর রাতেই শহরে শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ। ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, ইউএনও আমিনুল ইসলাম বরাবরই শিক্ষার্থীবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের সংবাদ সম্মেলনে হামলার অভিযোগও তোলেন তারা। তাই “বিদায়ের আনন্দে” মিষ্টি বিতরণ।
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইউএনওকে ঘিরে এমন বিতর্ক নতুন নয়। সাংবাদিককে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়া নিয়ে জেলে ভরার হুমকি, সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মিছিল, খাসজমির রাজস্ব আত্মসাৎ, কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সড়কে দাঁড় করিয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংবর্ধনা—এমন নানান অভিযোগ আগে থেকেই ঘুরছিল বাউফলের আকাশে। আরও আছে তাঁর ‘প্রশাসনিক প্রভাবশালী’ পরিচিতি—শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেনের ভাগ্নি জামাই হওয়ায় নাকি তিনি শক্ত অবস্থান পেয়ে আসছিলেন।
সব মিলিয়ে বাউফলে ইউএনও আমিনুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক একধাপ ওপরে উঠে গেল এই গান–নাচের ঘটনায়।
এ বিষয়ে জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ মেলেনি।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















