ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

সাগরপাড়ের স্কুল, নেই শিক্ষক! দপ্তরীর ভরসাতেই চলছে পড়াশোনা

তারিকুল তাজ, কক্সবাজার থেকে…

সেন্টমার্টিন দ্বীপ। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। প্রকৃতি যতটা সুন্দর, ততটাই অনিশ্চিত এখানে শিশুদের ভবিষ্যৎ। কারণ, গোটা দ্বীপে মাত্র একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অথচ শিক্ষকেরা যেন ‘নিরুদ্দেশ’ প্রায়শই। স্কুল চালাচ্ছেন কে জানেন? দপ্তরী!

শিক্ষা কি কেবল শহরের একচেটিয়া অধিকার? দ্বীপের শিশুরা কি জন্মসূত্রেই বঞ্চিত?

বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ সাতটি। আছেন মাত্র দুইজন। প্রধান শিক্ষক পদে কেউ নেই—একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকই চালাচ্ছেন পুরো বিদ্যালয়। এমন কী, একজন শিক্ষক আবার সাময়িক বরখাস্ত। ফলে, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের উপর ভাসছে।

বৈরী আবহাওয়া হলে কী হয়? শিক্ষকরা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছতে পারেন না। এমনই ঘটেছে সাম্প্রতিক ছুটি শেষে। বিদ্যালয় খুলেছে ২৪ জুন, কিন্তু ৩০ জুনের আগে কোনও শিক্ষক সেন্টমার্টিনে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে, পুরো এক সপ্তাহ ক্লাস চলেনি! এই সময়টাতে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়েছে দপ্তরীর তত্ত্বাবধানে।

বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রী ২০২ জন। কিন্তু নিয়মিত উপস্থিত থাকেন একশ’র কাছাকাছি। উপস্থিতি কমে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ শিক্ষকের অনুপস্থিতি।

এই প্রসঙ্গে টেকনাফের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘‘বৈরী আবহাওয়ায় প্রায়ই শিক্ষকরা দ্বীপে যেতে পারেন না। অধিকাংশ শিক্ষকেরই বাড়ি টেকনাফে। সেন্টমার্টিনে স্থায়ীভাবে থাকতে কেউ চান না।’’

এমন বাস্তবতায় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন?

টেকনাফের ইউএনও শেখ এহেসান উদ্দিন জানাচ্ছেন, ‘‘শিক্ষক নিয়োগের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিষয়টি আমার জানা আছে। চেষ্টা চলছে।’’

কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—চেষ্টা কতদিন চলবে? দ্বীপের শিশুরা সেই চেষ্টার মাঝে কতটা সময় হারাবে?

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

সাগরপাড়ের স্কুল, নেই শিক্ষক! দপ্তরীর ভরসাতেই চলছে পড়াশোনা

Update Time : ০৪:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

তারিকুল তাজ, কক্সবাজার থেকে…

সেন্টমার্টিন দ্বীপ। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। প্রকৃতি যতটা সুন্দর, ততটাই অনিশ্চিত এখানে শিশুদের ভবিষ্যৎ। কারণ, গোটা দ্বীপে মাত্র একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অথচ শিক্ষকেরা যেন ‘নিরুদ্দেশ’ প্রায়শই। স্কুল চালাচ্ছেন কে জানেন? দপ্তরী!

শিক্ষা কি কেবল শহরের একচেটিয়া অধিকার? দ্বীপের শিশুরা কি জন্মসূত্রেই বঞ্চিত?

বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ সাতটি। আছেন মাত্র দুইজন। প্রধান শিক্ষক পদে কেউ নেই—একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকই চালাচ্ছেন পুরো বিদ্যালয়। এমন কী, একজন শিক্ষক আবার সাময়িক বরখাস্ত। ফলে, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের উপর ভাসছে।

বৈরী আবহাওয়া হলে কী হয়? শিক্ষকরা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে পৌঁছতে পারেন না। এমনই ঘটেছে সাম্প্রতিক ছুটি শেষে। বিদ্যালয় খুলেছে ২৪ জুন, কিন্তু ৩০ জুনের আগে কোনও শিক্ষক সেন্টমার্টিনে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে, পুরো এক সপ্তাহ ক্লাস চলেনি! এই সময়টাতে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়েছে দপ্তরীর তত্ত্বাবধানে।

বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রী ২০২ জন। কিন্তু নিয়মিত উপস্থিত থাকেন একশ’র কাছাকাছি। উপস্থিতি কমে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ শিক্ষকের অনুপস্থিতি।

এই প্রসঙ্গে টেকনাফের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘‘বৈরী আবহাওয়ায় প্রায়ই শিক্ষকরা দ্বীপে যেতে পারেন না। অধিকাংশ শিক্ষকেরই বাড়ি টেকনাফে। সেন্টমার্টিনে স্থায়ীভাবে থাকতে কেউ চান না।’’

এমন বাস্তবতায় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন?

টেকনাফের ইউএনও শেখ এহেসান উদ্দিন জানাচ্ছেন, ‘‘শিক্ষক নিয়োগের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিষয়টি আমার জানা আছে। চেষ্টা চলছে।’’

কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—চেষ্টা কতদিন চলবে? দ্বীপের শিশুরা সেই চেষ্টার মাঝে কতটা সময় হারাবে?

প্রিন্ট করুন :