ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল ঠিকাদাররা, রহমতগঞ্জে মানববন্ধন—‘টেন্ডার ছাড়াই চলছে কাজ!’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি||

রহমতগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ-২। নামে সরকারি দফতর, কিন্তু কাজের ধরনে যেন নিজস্ব কোম্পানি! প্রকল্পের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, অথচ টেন্ডার ডাকা হয়নি। ঠিকাদারদের অভিযোগ—সব কাজ চলে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দসই ঠিকাদারদের পকেটে। যার পুরোভাগে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান। এ নিয়েই ফুঁসে উঠেছেন চট্টগ্রামের সাধারণ ঠিকাদাররা।

গত ১১ মে ২০২৫, রহমতগঞ্জ গণপূর্ত ভবনের সামনেই তাঁরা দাঁড়ালেন হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে। দাবিতে সরব—জহির রায়হানের অপসারণ ও তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার চাই।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮-এর তোয়াক্কা না করেই প্রকল্প অনুমোদনের আগেই স্টিমেট ও কোড নির্ধারণ করে রাখা হচ্ছে। একাধিক গোপন নথিতে তার প্রমাণ মিলেছে। এর মাধ্যমে লঙ্ঘিত হচ্ছে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের ৩২ ও ৬২ ধারা—যেখানে বলা আছে, টেন্ডার ছাড়া কোনো প্রকল্পের অর্থ নির্ধারণ বা কোড ফাঁস হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিয়মমাফিক আবেদন করি, কাজের আশায় দিন গুনি। কিন্তু কাজ ঠিক করে দেন প্রকৌশলী নিজেই। আমাদের সুযোগই দেওয়া হয় না।”

সিন্ডিকেট আর দলীয় সুপারিশই হয়ে উঠেছে কাজের মাপকাঠি—এমনটাই অভিযোগ প্রায় সব সাধারণ ঠিকাদারের। কারও সাহস হয় না মুখ খুলতে, কারণ পদে পদে হুমকি। কিন্তু এবার তাঁরা আর চুপ থাকেননি।

নির্মাণ সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং, গণপূর্ত বিভাগের ভেতরে গেঁথে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী অনিয়মেরই প্রতিচ্ছবি। প্রশাসনের উচ্চমহলে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও নেওয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ঠিকাদাররাও—“সত্যিই কি প্রশাসন উদাসীন? নাকি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় রক্ষিত এই প্রকৌশলী?”

নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “কাজ দিতে না পারলে এ রকম অভিযোগ তোলেন অনেকে। তবে সবার সাথে আলোচনায় বিষয়গুলো মিটে গেছে।”

এই বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের মতামত জানতে তাঁর মোবাইলে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল ঠিকাদাররা, রহমতগঞ্জে মানববন্ধন—‘টেন্ডার ছাড়াই চলছে কাজ!’

Update Time : ০৮:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি||

রহমতগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ-২। নামে সরকারি দফতর, কিন্তু কাজের ধরনে যেন নিজস্ব কোম্পানি! প্রকল্পের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, অথচ টেন্ডার ডাকা হয়নি। ঠিকাদারদের অভিযোগ—সব কাজ চলে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দসই ঠিকাদারদের পকেটে। যার পুরোভাগে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান। এ নিয়েই ফুঁসে উঠেছেন চট্টগ্রামের সাধারণ ঠিকাদাররা।

গত ১১ মে ২০২৫, রহমতগঞ্জ গণপূর্ত ভবনের সামনেই তাঁরা দাঁড়ালেন হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে। দাবিতে সরব—জহির রায়হানের অপসারণ ও তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার চাই।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮-এর তোয়াক্কা না করেই প্রকল্প অনুমোদনের আগেই স্টিমেট ও কোড নির্ধারণ করে রাখা হচ্ছে। একাধিক গোপন নথিতে তার প্রমাণ মিলেছে। এর মাধ্যমে লঙ্ঘিত হচ্ছে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের ৩২ ও ৬২ ধারা—যেখানে বলা আছে, টেন্ডার ছাড়া কোনো প্রকল্পের অর্থ নির্ধারণ বা কোড ফাঁস হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিয়মমাফিক আবেদন করি, কাজের আশায় দিন গুনি। কিন্তু কাজ ঠিক করে দেন প্রকৌশলী নিজেই। আমাদের সুযোগই দেওয়া হয় না।”

সিন্ডিকেট আর দলীয় সুপারিশই হয়ে উঠেছে কাজের মাপকাঠি—এমনটাই অভিযোগ প্রায় সব সাধারণ ঠিকাদারের। কারও সাহস হয় না মুখ খুলতে, কারণ পদে পদে হুমকি। কিন্তু এবার তাঁরা আর চুপ থাকেননি।

নির্মাণ সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং, গণপূর্ত বিভাগের ভেতরে গেঁথে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী অনিয়মেরই প্রতিচ্ছবি। প্রশাসনের উচ্চমহলে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও নেওয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ঠিকাদাররাও—“সত্যিই কি প্রশাসন উদাসীন? নাকি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় রক্ষিত এই প্রকৌশলী?”

নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “কাজ দিতে না পারলে এ রকম অভিযোগ তোলেন অনেকে। তবে সবার সাথে আলোচনায় বিষয়গুলো মিটে গেছে।”

এই বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের মতামত জানতে তাঁর মোবাইলে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

প্রিন্ট করুন :