Dhaka 3:20 pm, Thursday, 18 June 2026

দুমকীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ‘ধর্ষণ নাটক’, জেলে গেলেন বাদী কহিনুর

নিজস্ব প্রতিবেদক||

প্রতিবন্ধী মেয়েকে ভিকটিম সাজিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনেন এক নারী। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবার সেই মামলার বাদীকেই পাঠানো হল কারাগারে।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায়। অভিযুক্ত মোসা. কোহিনুর বেগম (৪৬), মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। রবিবার (২২ জুন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসা. নিলুফার ইয়াসমিন তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কোহিনুর বেগম দুমকী থানায় ধর্ষণ মামলা করেন মোক্তার হোসেন মৃধা ও সহযোগী মেহেদী হাসান রাসেল হাওলাদারকে আসামি করে। মামলার অভিযোগ ছিল, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঘরে একা পেয়ে কোহিনুরের প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত ওই দুই আসামিকে অব্যাহতি দেন। এরপর মানহানি ও হয়রানির অভিযোগে রাসেল হাওলাদার কোহিনুরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলা করেন। সেই মামলায় কোহিনুর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে রবিবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কহিনুরের স্বামী কামাল শরীফ, মেয়েরা—জোসনা আক্তার ও মারুফা আক্তার, ইউপি সদস্য নাসির হাওলাদার, রেবেকা বেগম ও স্থানীয় চৌকিদার মিজানুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে ও স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে পক্ষ না করায় একটি দুষ্ট চক্রের ইন্ধনে রাসেল হাওলাদার ও তাঁর পরিবারকে ফাঁসাতে এ মামলা করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির হাওলাদারকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তো রিসিভ করেননি এবং তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post

দুমকীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ‘ধর্ষণ নাটক’, জেলে গেলেন বাদী কহিনুর

Update Time : 09:23:21 pm, Sunday, 22 June 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক||

প্রতিবন্ধী মেয়েকে ভিকটিম সাজিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনেন এক নারী। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবার সেই মামলার বাদীকেই পাঠানো হল কারাগারে।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায়। অভিযুক্ত মোসা. কোহিনুর বেগম (৪৬), মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। রবিবার (২২ জুন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসা. নিলুফার ইয়াসমিন তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কোহিনুর বেগম দুমকী থানায় ধর্ষণ মামলা করেন মোক্তার হোসেন মৃধা ও সহযোগী মেহেদী হাসান রাসেল হাওলাদারকে আসামি করে। মামলার অভিযোগ ছিল, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঘরে একা পেয়ে কোহিনুরের প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত ওই দুই আসামিকে অব্যাহতি দেন। এরপর মানহানি ও হয়রানির অভিযোগে রাসেল হাওলাদার কোহিনুরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলা করেন। সেই মামলায় কোহিনুর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে রবিবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কহিনুরের স্বামী কামাল শরীফ, মেয়েরা—জোসনা আক্তার ও মারুফা আক্তার, ইউপি সদস্য নাসির হাওলাদার, রেবেকা বেগম ও স্থানীয় চৌকিদার মিজানুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে ও স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে পক্ষ না করায় একটি দুষ্ট চক্রের ইন্ধনে রাসেল হাওলাদার ও তাঁর পরিবারকে ফাঁসাতে এ মামলা করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির হাওলাদারকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তো রিসিভ করেননি এবং তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রিন্ট করুন :