নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী:
গবেষণা হবে আন্তর্জাতিক মানের, আয়োজন হবে এলাহি। কিন্তু বানান ভুলে গোটা আয়োজনই গিয়েছে ‘অন্তরীক্ষে’। এমনই ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি)। সদ্য আয়োজিত ‘রিসার্চ ফেস্টিভ্যাল ২০২৫’-এ এক ব্যানারে একসঙ্গে ধরা পড়েছে নয়-নয়টা বানান ভুল! আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা উৎসবে এমন ‘অভ্যন্তরীণ ভুল’-এর মহোৎসব দেখে চক্ষু চড়কগাছ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
১৮ মে রোববার পবিপ্রবির ‘রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (RTC)’ প্রথমবারের মতো আয়োজন করে এই গবেষণা উৎসব। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার (অনলাইনে)। উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম ছিলেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উঁচু সারির শিক্ষকও।
কিন্তু উৎসবের ব্যানার দেখে যাঁরা প্রথম হাসলেন, পরে তাঁরাই মুখ ঢাকলেন লজ্জায়।
‘Livestock’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘Live stock’। ‘Coastal Resilience’-এর জায়গায় লেখা ‘Costal Resilience’। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নাম লেখায় ‘Training’ শব্দটি হয়ে গিয়েছে ‘Traning’, ‘Organize’ বানানো হয়েছে ‘Orgnaize’। এমন ভুলে ব্যানার হয়ে উঠেছে ‘প্রেজেন্টেশন অব প্যানিক’।
সবচেয়ে গুরুতর ছিল অনুষ্ঠানের সভাপতির পদবি নিয়ে বিভ্রাট। ব্যানারে প্রফেসর ড. মামুন-উর-রশিদকে লেখা হয়েছে ‘প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর’। অথচ তিনি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক এবং এই উৎসবের আহ্বায়ক। এমন ‘পদোন্নতি’ দেখে কেউ কেউ ভাবতে বসেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কি রাতারাতি প্রশাসনিক রদবদল হয়ে গেল?
সমালোচনার মুখে, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ব্যানার খুলে ফেলা হয়। ব্যানারবিহীন আয়োজন হয় উৎসবের বাকি অংশ।
অতিথিদের দেওয়া উপহারব্যাগেও মেলে বানান ভুল। ‘পটুয়াখালী’ বানানো হয়েছে বিকৃতভাবে। এ যেন ভুলে ভুলে ভরা এক গবেষণার আর্ট ইনস্টলেশন!
একজন শিক্ষার্থী বলছেন, “গবেষণা উৎসব মানে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব। সেখানে এমন অপেশাদার ভুল শিক্ষার মান নিয়েই প্রশ্ন তোলে। কীভাবে এত ভুল নজর এড়াল?”
যোগাযোগ করা হলে আহ্বায়ক প্রফেসর মামুন-উর-রশিদ অকপটে দায় স্বীকার করে বলেন,
“রাত ১১টায় ব্যানার তৈরি হয়। এরপর আর কেউ খেয়াল করেনি। ভুল ধরা পড়তেই সরিয়ে নিই। ব্যানার ছাড়া অনুষ্ঠান করা যদি লজ্জার হয়, তার দায় আমার।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বলছে, গবেষণার উৎসবে এমন ‘বানান-বিপর্যয়’ শুধু নয়, বড় করে ভাববার সময় এসেছে—আমরা আসলে কোন মানের শিক্ষার প্রতিনিধিত্ব করছি!
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























