ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক
বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় পেছনে ফেলে প্রথম বুয়েট

ভোলার আদিলের হাত ধরে বিশ্বজয়: স্তন ক্যানসার শনাক্তে বুয়েট দলের উদ্ভাবন

মোঃ মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি ||

ভোলার হাসনাইন আদিলসহ পাঁচ তরুণ গবেষক গড়ে তুললেন এক বিশ্বজয়ী সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বায়োইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২০০ নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪০টি দলকে হারিয়ে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি দল—নিওস্ক্রিনিক্স।

হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেকের মতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হারিয়ে অর্জন করা এই জয় যেন প্রযুক্তি আর মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয়। দলটির উদ্ভাবন স্তন ক্যানসার শনাক্তে একটি কিট ও অ্যাপ, যা ঘরে বসেই ব্যবহার করতে পারবেন নারীরা।

আদিল: ভোলা থেকে বুয়েট হয়ে বিশ্বমঞ্চেঃ

২০১৮ সালে ভোলা সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি ও ২০২০ সালে সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আদিল। এরপর ভর্তি হন বুয়েটে। বর্তমানে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা-মা ভোলার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ও মাতা গৃহিণী। আদিল বলেন, “আমার স্বপ্ন—দেশের জন্য কিছু করা। আমরা পিছিয়ে নেই, শুধু জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।”

নিওস্ক্রিনিক্স কী উদ্ভাবন করেছে?

প্রতিযোগিতার ‘ডিজিটাল হেলথ ট্র্যাক’ বিভাগে নিওস্ক্রিনিক্স একটি কিট এবং অ্যাপ তৈরি করেছে, যা দিয়ে একজন নারী নিজেই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি যাচাই করতে পারবেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন ও হার্ডওয়্যার একত্রে যুক্ত করা হয়েছে।

এই উদ্ভাবন এসেছে বাস্তব জীবন থেকে। দলের সদস্য ফাহমিদার পরিবারের এক সদস্য স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সেই ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাই জন্ম দেয় বৃহত্তর মানবিক সমাধানের।

পুরস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ

বিজয়ী দল পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা তারা গবেষণায় ব্যয় করতে চায়। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি দেশের প্রান্তিক নারীদের জন্য সহজলভ্য করতে এবং ক্যানসার সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে চায় নিওস্ক্রিনিক্স।

দলের বাইরে যারা সহায়তা করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রহমান, ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম ও রংপুর মেডিকেলের রিবাতুল ইসলাম।

বিশ্বজয়ের মুহূর্তঃ

১২ এপ্রিল যখন বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, তখন দলের বেশিরভাগ সদস্যই ওয়েবিনার থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন—কারণ তারা আশা করেননি জয় আসবে। একমাত্র শাদমান ছিলেন লাইভে। বিজয়ের খবর পেয়ে বাকিরা একে একে যোগ দেন উচ্ছ্বাসে।

শেষ কথায়…

এই অর্জন শুধু নিওস্ক্রিনিক্স দলের নয়, এটা পুরো বাংলাদেশের। আদিলদের সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে—বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিভা রয়েছে, প্রয়োজন শুধু সুযোগ, প্রস্তুতি ও স্বপ্ন দেখার সাহস।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় পেছনে ফেলে প্রথম বুয়েট

ভোলার আদিলের হাত ধরে বিশ্বজয়: স্তন ক্যানসার শনাক্তে বুয়েট দলের উদ্ভাবন

Update Time : ১০:৩০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

মোঃ মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি ||

ভোলার হাসনাইন আদিলসহ পাঁচ তরুণ গবেষক গড়ে তুললেন এক বিশ্বজয়ী সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বায়োইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২০০ নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪০টি দলকে হারিয়ে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি দল—নিওস্ক্রিনিক্স।

হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেকের মতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হারিয়ে অর্জন করা এই জয় যেন প্রযুক্তি আর মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয়। দলটির উদ্ভাবন স্তন ক্যানসার শনাক্তে একটি কিট ও অ্যাপ, যা ঘরে বসেই ব্যবহার করতে পারবেন নারীরা।

আদিল: ভোলা থেকে বুয়েট হয়ে বিশ্বমঞ্চেঃ

২০১৮ সালে ভোলা সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি ও ২০২০ সালে সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আদিল। এরপর ভর্তি হন বুয়েটে। বর্তমানে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা-মা ভোলার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ও মাতা গৃহিণী। আদিল বলেন, “আমার স্বপ্ন—দেশের জন্য কিছু করা। আমরা পিছিয়ে নেই, শুধু জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।”

নিওস্ক্রিনিক্স কী উদ্ভাবন করেছে?

প্রতিযোগিতার ‘ডিজিটাল হেলথ ট্র্যাক’ বিভাগে নিওস্ক্রিনিক্স একটি কিট এবং অ্যাপ তৈরি করেছে, যা দিয়ে একজন নারী নিজেই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি যাচাই করতে পারবেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন ও হার্ডওয়্যার একত্রে যুক্ত করা হয়েছে।

এই উদ্ভাবন এসেছে বাস্তব জীবন থেকে। দলের সদস্য ফাহমিদার পরিবারের এক সদস্য স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সেই ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাই জন্ম দেয় বৃহত্তর মানবিক সমাধানের।

পুরস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ

বিজয়ী দল পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা তারা গবেষণায় ব্যয় করতে চায়। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি দেশের প্রান্তিক নারীদের জন্য সহজলভ্য করতে এবং ক্যানসার সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে চায় নিওস্ক্রিনিক্স।

দলের বাইরে যারা সহায়তা করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রহমান, ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম ও রংপুর মেডিকেলের রিবাতুল ইসলাম।

বিশ্বজয়ের মুহূর্তঃ

১২ এপ্রিল যখন বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, তখন দলের বেশিরভাগ সদস্যই ওয়েবিনার থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন—কারণ তারা আশা করেননি জয় আসবে। একমাত্র শাদমান ছিলেন লাইভে। বিজয়ের খবর পেয়ে বাকিরা একে একে যোগ দেন উচ্ছ্বাসে।

শেষ কথায়…

এই অর্জন শুধু নিওস্ক্রিনিক্স দলের নয়, এটা পুরো বাংলাদেশের। আদিলদের সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে—বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিভা রয়েছে, প্রয়োজন শুধু সুযোগ, প্রস্তুতি ও স্বপ্ন দেখার সাহস।

প্রিন্ট করুন :