ভোরের আলো ফোটার কিছু আগে, গ্রামের মাঠে শিশির পড়ছিল নিঃশব্দে। ঠিক তখনই রসুলপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ঘরে নেমে আসে এক নীরব শোক। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মোহনা (১৪), অভিমানে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে বিদায় নেয় পৃথিবী থেকে—যেন বলার ছিল অনেক কিছু, কিন্তু শোনার কেউ ছিল না।
জানাজানি হয় সকাল আটটার দিকে। সবার অগোচরে নিজের ঘরে শেষ সিদ্ধান্তটি নেয় মহনা—মায়ের বকুনিতে অভিমান করে। ছোট্ট মেয়েটি শুধু একজন শিক্ষার্থীই নয়, পরিবারের হাসি-আনন্দের উৎসও ছিল।
স্থানীয়রা জানান, পড়াশোনায় অন্যমনস্ক হওয়ায় মহনার মা তাকে শাসন করেছিলেন। তুচ্ছ এক অভিমান কতটা গাঢ় হতে পারে, তার সাক্ষী হয়ে রইল এই মৃত্যু।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম মোস্তাক বলেন, “মেয়েটি পরিবারের পড়ালেখার চাপ সামলাতে পারছিল না। মায়ের শাসন তাকে মর্মাহত করেছিল। সেই কষ্টেই সে অভিমান করে আত্মহত্যা করে।”
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মো. সারোয়ার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটি একটি অপমৃত্যু বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।”
গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদেও রসুলপুর গ্রামে যেন হিম হাওয়া বইছে। একটি কিশোরী মেয়ের না বলা অনেক কথা, প্রশ্ন হয়ে রয়ে গেল আকাশে—“আমি কি একটু বোঝার দাবি রাখি না?”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 


























