ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

আজ মঙ্গলবার পয়লা ফাল্গুন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৪৫:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ১৩১ Time View

গাছে গাছে ফুল ফুটেছে। দূরে কোথাও কুহু কুহু ডাকছে আনমনা কোকিল। তাতে উতলা হচ্ছে চঞ্চল মন। তার মানে বসন্ত এসে গেছে। অনুপম রায়ের গানের কথা স্মরণ করে বলতে হয়, ‘বাতাসে বহিছে প্রেম/ নয়নে লাগিলো নেশা/ কারা যে ডাকিলো পিছে/ বসন্ত এসে গেছে
আজ মঙ্গলবার পয়লা ফাল্গুন, বাংলা ঋতুচক্রে বসন্তের প্রথম দিন। বসন্তকে সম্মান জানানো হয় ‘ঋতুরাজ’ বলে। আগমন রাজার মতোই। তাকে স্বাগত জানাতে শিমুল-পলাশ-অশোকের ডালে ডালে ফুলের ডালি সাজিয়ে দেয় প্রকৃতি।
বসন্তের এই সাজ মানুষকে উদ্বেলিত করে। মনের কোথায় যেন নতুনের বার্তা পৌঁছে দেয়। তাইতো নারীরা চুলের খোঁপায় ফুলের মালা পরে, অথবা বেণী করে তাতে গুঁজে দেয় তাজা ফুল। তাদের পরনে থাকে বাসন্তী শাড়ি। হাতে থাকে কাঁচের চুড়ি, কপালে লাল টিপ।
ফাল্গুনের প্রথম দিনে নারীর সাজের কাছে বসন্তও যেন ‘হার’ মেনে যায়। পুরুষরাও কম যান না, তাদের মনেও লাগে বসন্তের রঙ। কেনই বা লাগবে না, বসন্ত যে প্রেমের ঋতুও। এজন্য হয়তো কবিগুরু লিখেছিলেন, ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/ তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবন
বসন্ত এলে নতুন জীবনের আনন্দে মেতে ওঠে প্রকৃতি নিজেও। নতুন পাতা, ফুল, দখিনা বাতাস—এসবই যেন প্রকৃতির প্রেমের প্রকাশ। বসন্ত এসেই যেন নতুন করে সাজিয়ে তোলে এই বসুধাকে।
আমের বাগান থেকে ভেসে আসে মৌ মৌ গন্ধ। এর চারপাশে ভ্রমরের মেলা, গুনগুন করে মুখরিত করে রাখে চারপাশ। ভ্রমরের গুনগুনানিতে থাকে প্রকৃতির মিলনের ডাক। ফুলে ফুলে উড়ে উড়ে প্রজাপতিও বয়ে বেড়ায় মিলনের বার্তা।
বসন্তের অনেক রঙ, তবুও কতটা রাঙাতে পারে ইটপাথরের এই নগরীকে? এই যান্ত্রিক নগরীতে তাই বসন্ত অনেকটা উৎসবেই শেষ হয়। কিন্তু, গ্রামে গেলে বোঝা যায় বসন্ত কেন ঋতুরাজ। গ্রামের প্রকৃতিতে দেখা মেলে বসন্তের রাজকীয় সাজ। সেখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই। বসন্ত পুরো গ্রামকে নিজের ক্যানভাস বানিয়ে রাঙিয়ে তোলে নিজের রাজত্বকে।
ফাল্গুনের প্রথম দিনে গ্রামের ঝোপের মধ্যে ফুটে থাকা বুনোফুলের মাঝেও থাকে বসন্তের ছোঁয়া। শহরে এমন দৃশ্য কোথায়? তবুও আজ বসন্ত। ঠিক যেমনটি বলেছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়, ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত/ শান-বাঁধানো ফুটপাথে/ পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ/ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে/ হাসছে/ ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত…’
ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজন করে ‘বসন্ত উৎসব ১৪২৯।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

আজ মঙ্গলবার পয়লা ফাল্গুন

Update Time : ০৪:৪৫:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

গাছে গাছে ফুল ফুটেছে। দূরে কোথাও কুহু কুহু ডাকছে আনমনা কোকিল। তাতে উতলা হচ্ছে চঞ্চল মন। তার মানে বসন্ত এসে গেছে। অনুপম রায়ের গানের কথা স্মরণ করে বলতে হয়, ‘বাতাসে বহিছে প্রেম/ নয়নে লাগিলো নেশা/ কারা যে ডাকিলো পিছে/ বসন্ত এসে গেছে
আজ মঙ্গলবার পয়লা ফাল্গুন, বাংলা ঋতুচক্রে বসন্তের প্রথম দিন। বসন্তকে সম্মান জানানো হয় ‘ঋতুরাজ’ বলে। আগমন রাজার মতোই। তাকে স্বাগত জানাতে শিমুল-পলাশ-অশোকের ডালে ডালে ফুলের ডালি সাজিয়ে দেয় প্রকৃতি।
বসন্তের এই সাজ মানুষকে উদ্বেলিত করে। মনের কোথায় যেন নতুনের বার্তা পৌঁছে দেয়। তাইতো নারীরা চুলের খোঁপায় ফুলের মালা পরে, অথবা বেণী করে তাতে গুঁজে দেয় তাজা ফুল। তাদের পরনে থাকে বাসন্তী শাড়ি। হাতে থাকে কাঁচের চুড়ি, কপালে লাল টিপ।
ফাল্গুনের প্রথম দিনে নারীর সাজের কাছে বসন্তও যেন ‘হার’ মেনে যায়। পুরুষরাও কম যান না, তাদের মনেও লাগে বসন্তের রঙ। কেনই বা লাগবে না, বসন্ত যে প্রেমের ঋতুও। এজন্য হয়তো কবিগুরু লিখেছিলেন, ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/ তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবন
বসন্ত এলে নতুন জীবনের আনন্দে মেতে ওঠে প্রকৃতি নিজেও। নতুন পাতা, ফুল, দখিনা বাতাস—এসবই যেন প্রকৃতির প্রেমের প্রকাশ। বসন্ত এসেই যেন নতুন করে সাজিয়ে তোলে এই বসুধাকে।
আমের বাগান থেকে ভেসে আসে মৌ মৌ গন্ধ। এর চারপাশে ভ্রমরের মেলা, গুনগুন করে মুখরিত করে রাখে চারপাশ। ভ্রমরের গুনগুনানিতে থাকে প্রকৃতির মিলনের ডাক। ফুলে ফুলে উড়ে উড়ে প্রজাপতিও বয়ে বেড়ায় মিলনের বার্তা।
বসন্তের অনেক রঙ, তবুও কতটা রাঙাতে পারে ইটপাথরের এই নগরীকে? এই যান্ত্রিক নগরীতে তাই বসন্ত অনেকটা উৎসবেই শেষ হয়। কিন্তু, গ্রামে গেলে বোঝা যায় বসন্ত কেন ঋতুরাজ। গ্রামের প্রকৃতিতে দেখা মেলে বসন্তের রাজকীয় সাজ। সেখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই। বসন্ত পুরো গ্রামকে নিজের ক্যানভাস বানিয়ে রাঙিয়ে তোলে নিজের রাজত্বকে।
ফাল্গুনের প্রথম দিনে গ্রামের ঝোপের মধ্যে ফুটে থাকা বুনোফুলের মাঝেও থাকে বসন্তের ছোঁয়া। শহরে এমন দৃশ্য কোথায়? তবুও আজ বসন্ত। ঠিক যেমনটি বলেছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়, ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত/ শান-বাঁধানো ফুটপাথে/ পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ/ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে/ হাসছে/ ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত…’
ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজন করে ‘বসন্ত উৎসব ১৪২৯।

প্রিন্ট করুন :