ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলি

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলিএকটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো গ্রাম যেন শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হতো। আঙিনায় বসে হারিকেন কিংবা কেরোসিনের চিমনির নিচে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বই খুলে বসত। পাশের ঘর থেকে উচ্চস্বরে পড়া ভেসে আসত—যা ছিল একধরনের প্রেরণা। পড়ালেখা ছিল শৃঙ্খলার অংশ, আর সন্ধ্যার আজান মানেই পড়ার সময়।

সেই পড়ার সংস্কৃতি কেবল সন্ধ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ফজরের আগের সময়, যখন চারদিক নিস্তব্ধ, তখনও অনেকেই উঠে পড়ত। কেউ মুখস্থ করত ছড়া-কবিতা, কেউ গণিতের সূত্র বা ভূগোলের মানচিত্র। শীতের সকালে কাঁথা থেকে বেরিয়ে গা কাঁপতে কাঁপতে বই হাতে নিয়ে পড়তে বসার দৃশ্য যেন আজ কেবল কল্পনায়ই দেখা যায়।

তবে এখন সেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। সন্ধ্যার পর বইয়ের পাতার চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে থাকে মোবাইলের স্ক্রিন। পড়ার সময় এখন বিনোদনে বিলীন। স্মার্টফোন, টিভি, ইউটিউব, ফেসবুক বা মোবাইল গেম এখন শিশু-কিশোরদের সন্ধ্যা ও রাতের সময় দখল করে নিচ্ছে।

এই পরিবর্তন শুধু সময়ের নয়, এটি মূল্যবোধেরও পরিবর্তন। আগে পরিবারে শিক্ষার যে পরিবেশ ছিল, এখন তার অনেকটাই গায়েব। শিশুরা এখন আর প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে পড়তে বসে না, বরং তারা ভার্চুয়াল লড়াইয়ে মেতে ওঠে।

তবে এখনও সময় আছে। পরিবার ও সমাজ যদি আবার বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সচেষ্ট হয়, তবে হয়তো আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যেও পুরনো সেই পড়ার পরিবেশ ফিরে আসতে পারে। হয়তো আর হারিকেনের আলো নয়, তবে ঘরের নরম বাতিতে আবার দেখা যাবে বই হাতে বসে থাকা শিশুর মুখ।

হারিয়ে যাওয়া সেই সন্ধ্যার পড়াশোনা আবার ফিরিয়ে আনার দায় আমাদেরই।

লেখক: মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইংরেজি শিক্ষক, আজিজ আহম্মেদ কলেজ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলি

Update Time : ০৯:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার সেই পড়ার দিনগুলিএকটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো গ্রাম যেন শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হতো। আঙিনায় বসে হারিকেন কিংবা কেরোসিনের চিমনির নিচে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বই খুলে বসত। পাশের ঘর থেকে উচ্চস্বরে পড়া ভেসে আসত—যা ছিল একধরনের প্রেরণা। পড়ালেখা ছিল শৃঙ্খলার অংশ, আর সন্ধ্যার আজান মানেই পড়ার সময়।

সেই পড়ার সংস্কৃতি কেবল সন্ধ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ফজরের আগের সময়, যখন চারদিক নিস্তব্ধ, তখনও অনেকেই উঠে পড়ত। কেউ মুখস্থ করত ছড়া-কবিতা, কেউ গণিতের সূত্র বা ভূগোলের মানচিত্র। শীতের সকালে কাঁথা থেকে বেরিয়ে গা কাঁপতে কাঁপতে বই হাতে নিয়ে পড়তে বসার দৃশ্য যেন আজ কেবল কল্পনায়ই দেখা যায়।

তবে এখন সেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। সন্ধ্যার পর বইয়ের পাতার চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে থাকে মোবাইলের স্ক্রিন। পড়ার সময় এখন বিনোদনে বিলীন। স্মার্টফোন, টিভি, ইউটিউব, ফেসবুক বা মোবাইল গেম এখন শিশু-কিশোরদের সন্ধ্যা ও রাতের সময় দখল করে নিচ্ছে।

এই পরিবর্তন শুধু সময়ের নয়, এটি মূল্যবোধেরও পরিবর্তন। আগে পরিবারে শিক্ষার যে পরিবেশ ছিল, এখন তার অনেকটাই গায়েব। শিশুরা এখন আর প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে পড়তে বসে না, বরং তারা ভার্চুয়াল লড়াইয়ে মেতে ওঠে।

তবে এখনও সময় আছে। পরিবার ও সমাজ যদি আবার বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সচেষ্ট হয়, তবে হয়তো আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যেও পুরনো সেই পড়ার পরিবেশ ফিরে আসতে পারে। হয়তো আর হারিকেনের আলো নয়, তবে ঘরের নরম বাতিতে আবার দেখা যাবে বই হাতে বসে থাকা শিশুর মুখ।

হারিয়ে যাওয়া সেই সন্ধ্যার পড়াশোনা আবার ফিরিয়ে আনার দায় আমাদেরই।

লেখক: মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইংরেজি শিক্ষক, আজিজ আহম্মেদ কলেজ।

প্রিন্ট করুন :