পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিএসসি কৃষিবিদদের প্রতি চলমান বৈষম্য দূরীকরণ এবং পাঁচ দফা যৌক্তিক দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
এদিকে পবিপ্রবি উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “পবিপ্রবি প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পাশে থাকবে। আমরা তোমাদের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবো। বাংলাদেশ কৃষির উন্নয়নে তোমাদের মতো তরুণ কৃষিবিদদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, তোমাদের প্রতিটি দিন যেন সার্থক হয়—তবে ক্লাস, পরীক্ষা এবং পড়ালেখার কোনো ক্ষতি হোক, এমন কিছু যেন না ঘটে।”
মঙ্গলবার(২২ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এসম উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, পরীক্ষানিয়ন্ত্রক প্রফেসর মোঃ ইফতেখারুল আলম, নিউট্রিশন এন্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর মোঃ শহিদুল ইসলাম, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ মাহফুজুর রহমান সবুজ, ভাইস-চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ রাশিদুল করিমসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
কৃষি ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র গাজী রেজওয়ান হাসান বলেন, “দেশের কৃষিক্ষেত্রে বিএসসি কৃষিবিদদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামোয় তাদের প্রতি একধরনের বৈষম্য চলে আসছে, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার বরাবর প্রেরিত পাঁচ দফার স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা:
১. নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে ৯ম গ্রেডে (বিএডিসি ও অন্যান্য) কোনোভাবে পদোন্নতির সুযোগ রাখা যাবে না।
২. ১০ম গ্রেডের (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা/ উপ-সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা/সমমান) পদে বিএসসি ও ডিপ্লোমা ধারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষার বাইরে কোনোভাবেই সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ রাখা যাবে না।
৪. কৃষি/ কৃষি সংশ্লিষ্ট স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যতীত কেউ ‘কৃষিবিদ’ উপাধি ব্যবহার করতে পারবে না এবং এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
৫. কৃষি বিষয়ক ডিপ্লোমা বা কারিগরি শিক্ষা শুধুমাত্র কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অধীনেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদবি হবে ‘উপসহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার’।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 














