ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

ফিলিস্তিনকে নিয়ে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি

ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিশ্বে অনেকটাই গতি পেয়েছে এ বছর। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশের বেশি (১৪৭টি দেশ) এখন ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এসে দেখা যাচ্ছে, এই পরিবর্তনটা শুধু সংখ্যা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির বড় এক বাঁক। বিশেষ করে ইউরোপের কিছু দেশ যেমন আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নরওয়ে ও স্লোভেনিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে এক ধরনের নতুন বার্তা দিয়েছে যে সময় বদলাচ্ছে।

ফ্রান্সের বড় ঘোষণা
২০২৫ সালের জুনে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তার দেশও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। এই ঘোষণা এসেছে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে, যা সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করা হবে। এর পেছনে কৌশলটা হলো- একদিকে ফিলিস্তিনকে সমর্থন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কিছু দেশকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে উৎসাহ দেওয়া।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের অবস্থান
যদিও এতগুলো দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, জাতিসংঘে ফিলিস্তিন এখনও পূর্ণ সদস্য হতে পারেনি। ২০২৪ সালে তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে ‘অসদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মানে তারা জাতিসংঘে অংশ নিতে পারে, বসতে পারে, কথা বলতে পারে- কিন্তু ভোট দিতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য হিসেবে, এখনও ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদে ভেটো দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য- এই সিদ্ধান্ত দুই-রাষ্ট্র সমাধানের আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও দ্বন্দ্ব
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে অনেক দেশে কূটনৈতিক চাপ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে। যেমন ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড, স্পেন আর নরওয়ে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে নেয় এবং ফিলিস্তিনের ট্যাক্স রাজস্ব আটকে দেয়।

ইসরায়েলি নেতারা এই স্বীকৃতিগুলিকে সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করা বলেই দেখছে। তবে আরব ও মুসলিম প্রধান অনেক দেশ বলছে- এটা একটি ন্যায্য দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া, দীর্ঘদিনের অবিচার সংশোধনের পথ।

স্বীকৃতির সংখ্যা বাড়লেও ফিলিস্তিন এখনও অনেক বাস্তব জটিলতার মুখে। জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ নেই, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সব ক্ষমতাও নেই। ২০২৫ সালের জুনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন একটা বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে- যদি সেখানে বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়।

সব মিলিয়ে, বিশ্বে ফিলিস্তিনকে নিয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে, তা শুধু কূটনীতি নয়- মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক কিছু বলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

ফিলিস্তিনকে নিয়ে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি

Update Time : ০৪:০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিশ্বে অনেকটাই গতি পেয়েছে এ বছর। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশের বেশি (১৪৭টি দেশ) এখন ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এসে দেখা যাচ্ছে, এই পরিবর্তনটা শুধু সংখ্যা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির বড় এক বাঁক। বিশেষ করে ইউরোপের কিছু দেশ যেমন আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নরওয়ে ও স্লোভেনিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে এক ধরনের নতুন বার্তা দিয়েছে যে সময় বদলাচ্ছে।

ফ্রান্সের বড় ঘোষণা
২০২৫ সালের জুনে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তার দেশও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। এই ঘোষণা এসেছে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে, যা সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করা হবে। এর পেছনে কৌশলটা হলো- একদিকে ফিলিস্তিনকে সমর্থন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কিছু দেশকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে উৎসাহ দেওয়া।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের অবস্থান
যদিও এতগুলো দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, জাতিসংঘে ফিলিস্তিন এখনও পূর্ণ সদস্য হতে পারেনি। ২০২৪ সালে তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে ‘অসদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মানে তারা জাতিসংঘে অংশ নিতে পারে, বসতে পারে, কথা বলতে পারে- কিন্তু ভোট দিতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য হিসেবে, এখনও ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদে ভেটো দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য- এই সিদ্ধান্ত দুই-রাষ্ট্র সমাধানের আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও দ্বন্দ্ব
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে অনেক দেশে কূটনৈতিক চাপ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে। যেমন ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড, স্পেন আর নরওয়ে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে নেয় এবং ফিলিস্তিনের ট্যাক্স রাজস্ব আটকে দেয়।

ইসরায়েলি নেতারা এই স্বীকৃতিগুলিকে সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করা বলেই দেখছে। তবে আরব ও মুসলিম প্রধান অনেক দেশ বলছে- এটা একটি ন্যায্য দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া, দীর্ঘদিনের অবিচার সংশোধনের পথ।

স্বীকৃতির সংখ্যা বাড়লেও ফিলিস্তিন এখনও অনেক বাস্তব জটিলতার মুখে। জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ নেই, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সব ক্ষমতাও নেই। ২০২৫ সালের জুনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন একটা বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে- যদি সেখানে বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়।

সব মিলিয়ে, বিশ্বে ফিলিস্তিনকে নিয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে, তা শুধু কূটনীতি নয়- মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক কিছু বলছে।

প্রিন্ট করুন :