ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে অভিযাত্রিকের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, অংশ নিল ২ হাজার ৪৮ শিক্ষার্থী দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

মামলার ভয় দেখায় ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আমাগো বসতবাড়ির দেয়াল ভেঙে দিয়ে ৩ বছর জেলের ভয় দেখায় ম্যাজিস্ট্রেট। বৃদ্ধ শাশুড়ী সহ আমরা ৩ পুত্রবধূ ম্যাজিস্ট্রেটের পায়ে পড়েও রক্ষা পাই নাই। কতো কষ্টের ফল মূহুর্তের শেষ। কোন নোটিশ নাই, আদালতের নির্দেশ নাই, হঠাৎ বাড়ির মধ্যে আইসা কয় মোবাইল কোর্ট। কারো কোন কথাই শুনলো না। দেয়ালটা তো ভাঙলোই, বাড়ির তিন পুত্রবধূকে ধইরা থানায় নিয়া ৫ ঘন্টা আটকাইয়া রাখল, জরিমানাও করল। আমাদের সঙ্গে হওয়া অমানবিকতা ও মানহানীর বিচার চাই, আমরা ডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে মামলা করবো। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দিন।’

 

বুধবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বরগুনা পৌর শহরের হাই স্কুল সড়কের বাসিন্দা সীমা রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এসময় তার স্বামী, শাশুড়ী, স্থানীয় কাউন্সিলর জাহিদুল করিম বাবুসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নির্দেশ ছাড়া বসতবাড়ির দেওয়াল ভাঙার অভিযোগ এনে বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে করা এই সংবাদ সম্মেলন ছাড়াও এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছে এই সংখ্যালঘু পরিবার।

সীমা রায়ের স্বামী নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, ‘বরগুনা সদর উপজেলার ৩০নং বরগুনা মৌজায় এসএ ৯৯৫/১০৬৫/ ৯২৮/৩৭০ দাগের জমিতে পৈতৃক সূত্রে ঘরবাড়ি বানিয়ে বহু বছর আমরা সঠিক ভাবে ভোগ-দখল করে আসছি। গত ২২ মার্চ সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নূর। তিনি আমাদের বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেট ও দেয়াল ভাঙচুর করে আমাদের দুই লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন। এছাড়া আমার স্ত্রীসহ আরও দুই নারীকে ধরে থানায় নিয়ে যান ওই ম্যাজিস্ট্রেট। পাঁচ ঘন্টা থানায় আটকে রেখে তাদের জরিমানা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ ছাড়া মালিকানাধীন রেকর্ডিয় সম্পত্তিতে বাড়িঘরের দেয়াল ভাঙচুরের এখতিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেই। যা প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হয়ে অনুপ্রবেশ করে তিনি অন্যায় করেছেন। প্রশাসন এভাবে আমাদের গুরুতর ক্ষতি করবে ভাবতে পারিনি।’

নির্মল চন্দ্রের ভাইয়ের স্ত্রী সঞ্জিতা রাণী বলেন, ‘২২ মার্চ দুপুরের দিকে হঠাৎ বাড়িতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ এসে আমাদের দেয়াল ও গেট ভঙচুর করে। অথচ এ জমি আমার শশুরের। তাদেরকে বাঁধা দিলে আমিসহ বাড়ির তিন জন নারীকে ধরে নিয়ে যায়। পাঁচ ঘণ্টার মতো থানায় রাখার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়।’

এ বিষয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নূর জানান, যা হয়েছে সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। যাদের আটক করা হয়েছিল, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিলেন। মুচলেকা দিয়ে তারা ছাড়া পান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post
Classic Software Technology

গোয়াইনঘাটে অভিযাত্রিকের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, অংশ নিল ২ হাজার ৪৮ শিক্ষার্থী

মামলার ভয় দেখায় ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বসতবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ

Update Time : ১১:১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আমাগো বসতবাড়ির দেয়াল ভেঙে দিয়ে ৩ বছর জেলের ভয় দেখায় ম্যাজিস্ট্রেট। বৃদ্ধ শাশুড়ী সহ আমরা ৩ পুত্রবধূ ম্যাজিস্ট্রেটের পায়ে পড়েও রক্ষা পাই নাই। কতো কষ্টের ফল মূহুর্তের শেষ। কোন নোটিশ নাই, আদালতের নির্দেশ নাই, হঠাৎ বাড়ির মধ্যে আইসা কয় মোবাইল কোর্ট। কারো কোন কথাই শুনলো না। দেয়ালটা তো ভাঙলোই, বাড়ির তিন পুত্রবধূকে ধইরা থানায় নিয়া ৫ ঘন্টা আটকাইয়া রাখল, জরিমানাও করল। আমাদের সঙ্গে হওয়া অমানবিকতা ও মানহানীর বিচার চাই, আমরা ডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে মামলা করবো। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দিন।’

 

বুধবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বরগুনা পৌর শহরের হাই স্কুল সড়কের বাসিন্দা সীমা রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এসময় তার স্বামী, শাশুড়ী, স্থানীয় কাউন্সিলর জাহিদুল করিম বাবুসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নির্দেশ ছাড়া বসতবাড়ির দেওয়াল ভাঙার অভিযোগ এনে বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে করা এই সংবাদ সম্মেলন ছাড়াও এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছে এই সংখ্যালঘু পরিবার।

সীমা রায়ের স্বামী নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, ‘বরগুনা সদর উপজেলার ৩০নং বরগুনা মৌজায় এসএ ৯৯৫/১০৬৫/ ৯২৮/৩৭০ দাগের জমিতে পৈতৃক সূত্রে ঘরবাড়ি বানিয়ে বহু বছর আমরা সঠিক ভাবে ভোগ-দখল করে আসছি। গত ২২ মার্চ সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নূর। তিনি আমাদের বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেট ও দেয়াল ভাঙচুর করে আমাদের দুই লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন। এছাড়া আমার স্ত্রীসহ আরও দুই নারীকে ধরে থানায় নিয়ে যান ওই ম্যাজিস্ট্রেট। পাঁচ ঘন্টা থানায় আটকে রেখে তাদের জরিমানা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ ছাড়া মালিকানাধীন রেকর্ডিয় সম্পত্তিতে বাড়িঘরের দেয়াল ভাঙচুরের এখতিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেই। যা প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হয়ে অনুপ্রবেশ করে তিনি অন্যায় করেছেন। প্রশাসন এভাবে আমাদের গুরুতর ক্ষতি করবে ভাবতে পারিনি।’

নির্মল চন্দ্রের ভাইয়ের স্ত্রী সঞ্জিতা রাণী বলেন, ‘২২ মার্চ দুপুরের দিকে হঠাৎ বাড়িতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ এসে আমাদের দেয়াল ও গেট ভঙচুর করে। অথচ এ জমি আমার শশুরের। তাদেরকে বাঁধা দিলে আমিসহ বাড়ির তিন জন নারীকে ধরে নিয়ে যায়। পাঁচ ঘণ্টার মতো থানায় রাখার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়।’

এ বিষয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল নূর জানান, যা হয়েছে সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। যাদের আটক করা হয়েছিল, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিলেন। মুচলেকা দিয়ে তারা ছাড়া পান।

প্রিন্ট করুন :