ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

রামুতে গরুকে বাঁচাতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু

তারিকুল তাজ, কক্সবাজার প্রতিনিধি ||

গরুটা ছিল তার একমাত্র ভরসা। সেই গরুকেই বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল কৃষক শফি আলমের (৫৫)। একইসঙ্গে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় গরুটিও।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে, কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের কাহাতিয়া পাড়া গ্রামে।

স্থানীয়রা বলছেন, দুপুর ৩টার দিকে গ্রামের জামে মসজিদের পাশের একটি বিদ্যুৎ খুঁটিতে শফি আলম তার গরুটি বেঁধে রেখেছিলেন। সারা দিনের কাজের ফাঁকে একবার দেখে যাবেন ভেবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য ছিল অন্যরকম নির্মম।

খুঁটির নিচে জমে থাকা পানির মধ্যে দিয়ে গরুটির রশি বিদ্যুতের একটি খোলা তারে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই কাঁপতে শুরু করে গরুটি। দৃশ্যটা দেখে আর থাকতে পারেননি শফি আলম। প্রাণপ্রিয় গরুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তিনি।

কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। গরুর সঙ্গে তিনিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। গরুটিও আর বাঁচে না।

গ্রামজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—“একজন কৃষক, যে তার গরুকে সন্তানের মতো দেখে, সে-ই গরুর জন্য প্রাণ দিল।”

রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক বলেন, “খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। গরুকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মানুষ প্রাণ হারালেন—এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ঐ এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ঝুলে থাকায় বিপদের ঝুঁকি বাড়ছিল। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার বলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

ঘটনার পর ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তারপরই শফি আলমের নিথর দেহ উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামে এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। শফি আলম নেই, নেই তার গরুটিও। অথচ দুজনের সম্পর্কটা ছিল যেন প্রাণ-প্রাণের।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

রামুতে গরুকে বাঁচাতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু

Update Time : ০৩:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

তারিকুল তাজ, কক্সবাজার প্রতিনিধি ||

গরুটা ছিল তার একমাত্র ভরসা। সেই গরুকেই বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল কৃষক শফি আলমের (৫৫)। একইসঙ্গে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় গরুটিও।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে, কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের কাহাতিয়া পাড়া গ্রামে।

স্থানীয়রা বলছেন, দুপুর ৩টার দিকে গ্রামের জামে মসজিদের পাশের একটি বিদ্যুৎ খুঁটিতে শফি আলম তার গরুটি বেঁধে রেখেছিলেন। সারা দিনের কাজের ফাঁকে একবার দেখে যাবেন ভেবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য ছিল অন্যরকম নির্মম।

খুঁটির নিচে জমে থাকা পানির মধ্যে দিয়ে গরুটির রশি বিদ্যুতের একটি খোলা তারে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই কাঁপতে শুরু করে গরুটি। দৃশ্যটা দেখে আর থাকতে পারেননি শফি আলম। প্রাণপ্রিয় গরুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তিনি।

কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। গরুর সঙ্গে তিনিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। গরুটিও আর বাঁচে না।

গ্রামজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—“একজন কৃষক, যে তার গরুকে সন্তানের মতো দেখে, সে-ই গরুর জন্য প্রাণ দিল।”

রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক বলেন, “খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। গরুকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মানুষ প্রাণ হারালেন—এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ঐ এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ঝুলে থাকায় বিপদের ঝুঁকি বাড়ছিল। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার বলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

ঘটনার পর ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তারপরই শফি আলমের নিথর দেহ উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামে এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। শফি আলম নেই, নেই তার গরুটিও। অথচ দুজনের সম্পর্কটা ছিল যেন প্রাণ-প্রাণের।

প্রিন্ট করুন :