তারিকুল তাজ, কক্সবাজার প্রতিনিধি ||
গরুটা ছিল তার একমাত্র ভরসা। সেই গরুকেই বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল কৃষক শফি আলমের (৫৫)। একইসঙ্গে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় গরুটিও।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে, কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের কাহাতিয়া পাড়া গ্রামে।
স্থানীয়রা বলছেন, দুপুর ৩টার দিকে গ্রামের জামে মসজিদের পাশের একটি বিদ্যুৎ খুঁটিতে শফি আলম তার গরুটি বেঁধে রেখেছিলেন। সারা দিনের কাজের ফাঁকে একবার দেখে যাবেন ভেবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য ছিল অন্যরকম নির্মম।
খুঁটির নিচে জমে থাকা পানির মধ্যে দিয়ে গরুটির রশি বিদ্যুতের একটি খোলা তারে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই কাঁপতে শুরু করে গরুটি। দৃশ্যটা দেখে আর থাকতে পারেননি শফি আলম। প্রাণপ্রিয় গরুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তিনি।
কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। গরুর সঙ্গে তিনিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। গরুটিও আর বাঁচে না।
গ্রামজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—“একজন কৃষক, যে তার গরুকে সন্তানের মতো দেখে, সে-ই গরুর জন্য প্রাণ দিল।”
রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক বলেন, “খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। গরুকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মানুষ প্রাণ হারালেন—এর চেয়ে কষ্টের কিছু হতে পারে না।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ঐ এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ঝুলে থাকায় বিপদের ঝুঁকি বাড়ছিল। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার বলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
ঘটনার পর ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তারপরই শফি আলমের নিথর দেহ উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা।
গ্রামে এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। শফি আলম নেই, নেই তার গরুটিও। অথচ দুজনের সম্পর্কটা ছিল যেন প্রাণ-প্রাণের।