ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’ বানাতে গিয়ে প্রাণ গেল নবম শ্রেণির মাহির! 

মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি||

ইচ্ছেটা ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। হাতের কাজেই মুগ্ধ করত বাড়ির সবাইকে।
ঘরে বসেই বানাচ্ছিল ‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’। তৈরি করছিল এক অভিনব প্রজেক্ট।
কিন্তু প্রযুক্তির প্রতি সেই ভালোবাসাই কেড়ে নিল প্রাণ — বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু হল নবম শ্রেণির ছাত্র মোস্তাকিম মাহির (১৫)।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে, ভোলার লালমোহন পৌর শহরের কলেজ গেট এলাকায়। মাহি লালমোহন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। পিতা মনির হোসেন একজন চাল ব্যবসায়ী, মা একজন সরকারি স্কুলশিক্ষিকা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রযুক্তিপ্রেমী মাহি অনেক দিন ধরেই নিজে নিজে নানা বৈদ্যুতিক জিনিস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত। পলিটেকনিক পড়ার আগেই হাতে-কলমে কাজ শেখার নেশা ছিল তার। সেই সূত্রে একটি ‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’ বানাতে গিয়ে সে ইলেকট্রিক মোটর ও ফ্যান সংযুক্ত করছিল।

কিন্তু হয়তো কোথাও একটি সংযোগ ভুল হয়ে গিয়েছিল। প্রজেক্টে কাজ করতে করতেই আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় মাহি। ছিটকে পড়ে দেয়ালের সঙ্গে। তখন বাসায় কেউ ছিল না — বাবা-মা ছিলেন বাজারে।

বাড়ি ফিরে নিস্তেজ ছেলেকে দেখতে পান মা-বাবা। তড়িঘড়ি করে ছুটে যান লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, “রাত সাড়ে আটটার দিকে মাহিকে হাসপাতালে আনা হয়। সে তখনই মৃত। মৃত্যু হয়েছে ইলেকট্রিক শকে।”

মাহির খালু মনির হাওলাদার বলেন, “ছেলেটা খুব মেধাবী ছিল। সব সময় নতুন কিছু বানাতো। সেই আগ্রহই আজ কাল হয়ে দাঁড়াল।”

এই অকাল মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক-প্রতিবেশী — কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না, সদা হাস্যময় সেই মুখ আর নেই।

কেউ বলছে, “মাহির হাতেই ছিল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।”
কেউ বলছে, “সতর্কতা থাকলে হয়তো মাহিকে বাঁচানো যেত।”

তবে একথা ঠিক —
স্বপ্ন নিয়ে খেলা করছিল যে কিশোর, তার শেষ ঠিকানাটা হলো নিঃশব্দ দেওয়াল। প্রযুক্তির প্রেমে পড়া সেই মনোবল হয়তো থাকবে কারও মনে, কিন্তু মাহি থাকবে না আর কোনো প্রজেক্টের পাশে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’ বানাতে গিয়ে প্রাণ গেল নবম শ্রেণির মাহির! 

Update Time : ০৯:১৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি||

ইচ্ছেটা ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। হাতের কাজেই মুগ্ধ করত বাড়ির সবাইকে।
ঘরে বসেই বানাচ্ছিল ‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’। তৈরি করছিল এক অভিনব প্রজেক্ট।
কিন্তু প্রযুক্তির প্রতি সেই ভালোবাসাই কেড়ে নিল প্রাণ — বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু হল নবম শ্রেণির ছাত্র মোস্তাকিম মাহির (১৫)।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে, ভোলার লালমোহন পৌর শহরের কলেজ গেট এলাকায়। মাহি লালমোহন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। পিতা মনির হোসেন একজন চাল ব্যবসায়ী, মা একজন সরকারি স্কুলশিক্ষিকা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রযুক্তিপ্রেমী মাহি অনেক দিন ধরেই নিজে নিজে নানা বৈদ্যুতিক জিনিস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত। পলিটেকনিক পড়ার আগেই হাতে-কলমে কাজ শেখার নেশা ছিল তার। সেই সূত্রে একটি ‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’ বানাতে গিয়ে সে ইলেকট্রিক মোটর ও ফ্যান সংযুক্ত করছিল।

কিন্তু হয়তো কোথাও একটি সংযোগ ভুল হয়ে গিয়েছিল। প্রজেক্টে কাজ করতে করতেই আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় মাহি। ছিটকে পড়ে দেয়ালের সঙ্গে। তখন বাসায় কেউ ছিল না — বাবা-মা ছিলেন বাজারে।

বাড়ি ফিরে নিস্তেজ ছেলেকে দেখতে পান মা-বাবা। তড়িঘড়ি করে ছুটে যান লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, “রাত সাড়ে আটটার দিকে মাহিকে হাসপাতালে আনা হয়। সে তখনই মৃত। মৃত্যু হয়েছে ইলেকট্রিক শকে।”

মাহির খালু মনির হাওলাদার বলেন, “ছেলেটা খুব মেধাবী ছিল। সব সময় নতুন কিছু বানাতো। সেই আগ্রহই আজ কাল হয়ে দাঁড়াল।”

এই অকাল মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক-প্রতিবেশী — কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না, সদা হাস্যময় সেই মুখ আর নেই।

কেউ বলছে, “মাহির হাতেই ছিল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।”
কেউ বলছে, “সতর্কতা থাকলে হয়তো মাহিকে বাঁচানো যেত।”

তবে একথা ঠিক —
স্বপ্ন নিয়ে খেলা করছিল যে কিশোর, তার শেষ ঠিকানাটা হলো নিঃশব্দ দেওয়াল। প্রযুক্তির প্রেমে পড়া সেই মনোবল হয়তো থাকবে কারও মনে, কিন্তু মাহি থাকবে না আর কোনো প্রজেক্টের পাশে।

প্রিন্ট করুন :