নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী:
ফুটবলের উত্তেজনা, ট্রাইব্রেকারের নাটকীয়তা, আর পুরস্কার বিতরণে প্রাণের স্পন্দন—সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশে জমে উঠেছিল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কেরামত আলী হল মাঠ।
বুধবার (২৭ মে) বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো পবিপ্রবির ছাত্রদের মধ্যে আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল। মুখোমুখি হয়েছিল দুই শক্তিশালী দল—২০২০-২১ সেশনের ‘টিম হান্টার’ এবং ২০২১-২২ সেশনের ‘টিম টার্মিনেটর’। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানেই ভাগ্য খুলে যায় ‘টার্মিনেটর’দের। চ্যাম্পিয়ন হয় তারা, আর ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপে পবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
পুরস্কার বিতরণে জমজমাট আয়োজন, প্রধান অতিথি ভাইস-চ্যান্সেলর
ম্যাচ শেষে আয়োজিত হয় সংক্ষিপ্ত অথচ জমজমাট এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথির আসনে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বক্তৃতায় তিনি বলেন,
“খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, এটি ছাত্রদের নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা আর সহনশীলতা শেখায়। একাডেমিকের বাইরেও শিক্ষার্থীরা যে এত প্রাণচঞ্চল ও উদ্যোগী—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
কে ছিলেন মঞ্চে, কারা পেলেন স্বীকৃতি?
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন, কেরামত আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন হোসেন, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
পুরস্কার বিতরণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর স্বয়ং। বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ‘সেরা খেলোয়াড়’, ‘সর্বোচ্চ গোলদাতা’, ‘উদীয়মান খেলোয়াড়’সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রিয় দলকে উৎসাহ দিতে মাঠজুড়ে ভিড় করেন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা। ছিলেন পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরাও।
উৎসব, উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা—সব মিলে এক অনন্য বিকেল
দিন শেষে কেরামত আলী হল মাঠে নেমে আসে তৃপ্তির চেহারা। ফুটবল ফাইনালের টানটান উত্তেজনা আর পুরস্কার বিতরণীর আনন্দ ছুঁয়ে যায় প্রতিটি প্রাণে। পবিপ্রবি ক্যাম্পাস যেন ফিরে পায় তার হারানো প্রাণচাঞ্চল্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রম যে এমন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে—তা দেখে অনেকেই আশাবাদী, ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন আরও বিস্তৃত হবে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 

























