ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পাবনায় ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে ভূমি রেজিস্ট্রেশন: দুর্ঘটনার আশঙ্কা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো ভবনের ছাদ ও বিমের পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে পড়েছে রড। এমন ভয়াবহ পরিবেশেও বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করছেন সাব-রেজিস্টারসহ অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা।

ভবনের মধ্যে জমা রয়েছে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জমি রেজিস্ট্রেশনের দলিলপত্র, বালামসহ অসংখ্য নথি। কিন্তু ভবনের স্যাঁতসেঁতে ও জীর্ণ দশার কারণে নথিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দলিল লেখক আক্তার হোসেন বলেন, “পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন কাজ করতে গিয়ে আমাদের মনে ভয় কাজ করে। একটা সময় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, সেটা শুধু সময়ের ব্যাপার।”

সাব-রেজিস্টার রিজভী ইবনে মাহমুদ বলেন, “ভবনটি কয়েক বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও আমাদের এখানে কাজ করতে হচ্ছে, কোনো বিকল্প নেই। একদিকে জীবনের ঝুঁকি, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নথির নিরাপত্তাহীনতা—আমরা চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছি।”

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি উপজেলা পরিষদের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব পাশে অবস্থিত। একই সময় নির্মিত প্রশাসনিক ভবন ইতোমধ্যেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করে বেশিরভাগ অফিস স্থানান্তরিত হয়েছে। অথচ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এখনো থেকে গেছে সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর মধ্যে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা: নাজমুন নাহার বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাদের পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”

সরকারি দলিল ও নাগরিকদের জমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি যেখানে সংরক্ষিত, সেই স্থানটির এমন ভগ্নদশা শুধু ব্যবস্থাপনা ত্রুটির চিত্রই তুলে ধরে না, বরং সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি মূল্যবান নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক নয়।


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পাবনায় ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে ভূমি রেজিস্ট্রেশন: দুর্ঘটনার আশঙ্কা

Update Time : ১০:২২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো ভবনের ছাদ ও বিমের পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে পড়েছে রড। এমন ভয়াবহ পরিবেশেও বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করছেন সাব-রেজিস্টারসহ অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা।

ভবনের মধ্যে জমা রয়েছে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জমি রেজিস্ট্রেশনের দলিলপত্র, বালামসহ অসংখ্য নথি। কিন্তু ভবনের স্যাঁতসেঁতে ও জীর্ণ দশার কারণে নথিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দলিল লেখক আক্তার হোসেন বলেন, “পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন কাজ করতে গিয়ে আমাদের মনে ভয় কাজ করে। একটা সময় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, সেটা শুধু সময়ের ব্যাপার।”

সাব-রেজিস্টার রিজভী ইবনে মাহমুদ বলেন, “ভবনটি কয়েক বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও আমাদের এখানে কাজ করতে হচ্ছে, কোনো বিকল্প নেই। একদিকে জীবনের ঝুঁকি, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নথির নিরাপত্তাহীনতা—আমরা চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছি।”

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি উপজেলা পরিষদের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব পাশে অবস্থিত। একই সময় নির্মিত প্রশাসনিক ভবন ইতোমধ্যেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করে বেশিরভাগ অফিস স্থানান্তরিত হয়েছে। অথচ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এখনো থেকে গেছে সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর মধ্যে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা: নাজমুন নাহার বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাদের পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”

সরকারি দলিল ও নাগরিকদের জমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি যেখানে সংরক্ষিত, সেই স্থানটির এমন ভগ্নদশা শুধু ব্যবস্থাপনা ত্রুটির চিত্রই তুলে ধরে না, বরং সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি মূল্যবান নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক নয়।


 

প্রিন্ট করুন :