ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর: দেড়শ বছরের ঐতিহ্যে এক আধুনিক স্বপ্নযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক||

রাজধানীর বুড়িগঙ্গার তীরে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, এর শিকড় ছড়িয়ে আছে প্রায় দেড় শতাব্দী পেছনে—১৮৫৮ সালের ব্রাহ্ম স্কুল পর্যন্ত।
‎ঢাকার ব্রাহ্ম সমাজের উদ্যোগে ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রাহ্ম স্কুল। ১৮৭২ সালে নাম বদলে রাখা হয় জগন্নাথ কলেজ, মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর বাবার নামে।

১৮৮৪ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে, আর ১৯০২ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে রূপ নেয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী সংকটে স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে আবারও স্নাতক কোর্স চালু হয় এবং নারীদের জন্য সহশিক্ষা প্রবর্তিত হয়।
‎এক সময় সরকারি, আবার বেসরকারি—দীর্ঘ যাত্রার নানা পর্ব পেরিয়ে অবশেষে ২০০৫ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি।
পুরান ঢাকার হৃদয়ে মাত্র সাড়ে সাত একর জায়গায় গড়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস। তবে শিক্ষার বিস্তার থেমে নেই। কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এগিয়ে চলছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপের অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

‎বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ৬৭০ জন শিক্ষক এবং ৫৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। সাতটি অনুষদের অধীনে ৩৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে চলছে পাঠদান।

‎এ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য—
‎“ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান, স্বপ্নজয়ে অটল প্রাণ।”
প্রতিপাদ্যে ফুটে উঠেছে জবির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সংগ্রাম, ঐক্য ও অদম্য চেতনা। পূজার ছুটির কারণে দিবসটি উদযাপিত হবে আগামী ২২ অক্টোবর (বুধবার)।
দিনটি শুরু হবে সকাল ৯টায় বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম দিবসের উদ্বোধন করবেন। এরপর ক্যাম্পাস থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ঘুরে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে।
‎চারুকলা অনুষদের চিত্রপ্রদর্শনী, সংগীত বিভাগের আয়োজন, বাদ জোহর দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের ব্যান্ডসংগীত অনুষ্ঠান থাকছে দিনব্যাপী উৎসবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন,‎ “গত এক বছরে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা একাডেমিক মানোন্নয়নে কাজ করেছি। জবির স্বকীয়তা রক্ষায় গুচ্ছ ভর্তি থেকে সরে এসে নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছি। এ বছর আমাদের বাজেট ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—যা সম্ভব হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।”
এক সময়ের ছোট্ট ব্রাহ্ম স্কুল আজ দেশের অন্যতম স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। দেড় শতকের শিক্ষা ঐতিহ্য বুকে নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন আর উদ্ভাবনের পথে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আজও গর্বভরে দাঁড়িয়ে আছে জবির লাল–সাদা পতাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর: দেড়শ বছরের ঐতিহ্যে এক আধুনিক স্বপ্নযাত্রা

Update Time : ০৮:১৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক||

রাজধানীর বুড়িগঙ্গার তীরে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, এর শিকড় ছড়িয়ে আছে প্রায় দেড় শতাব্দী পেছনে—১৮৫৮ সালের ব্রাহ্ম স্কুল পর্যন্ত।
‎ঢাকার ব্রাহ্ম সমাজের উদ্যোগে ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রাহ্ম স্কুল। ১৮৭২ সালে নাম বদলে রাখা হয় জগন্নাথ কলেজ, মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর বাবার নামে।

১৮৮৪ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে, আর ১৯০২ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে রূপ নেয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী সংকটে স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে আবারও স্নাতক কোর্স চালু হয় এবং নারীদের জন্য সহশিক্ষা প্রবর্তিত হয়।
‎এক সময় সরকারি, আবার বেসরকারি—দীর্ঘ যাত্রার নানা পর্ব পেরিয়ে অবশেষে ২০০৫ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি।
পুরান ঢাকার হৃদয়ে মাত্র সাড়ে সাত একর জায়গায় গড়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস। তবে শিক্ষার বিস্তার থেমে নেই। কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এগিয়ে চলছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপের অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

‎বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ৬৭০ জন শিক্ষক এবং ৫৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। সাতটি অনুষদের অধীনে ৩৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে চলছে পাঠদান।

‎এ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য—
‎“ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান, স্বপ্নজয়ে অটল প্রাণ।”
প্রতিপাদ্যে ফুটে উঠেছে জবির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সংগ্রাম, ঐক্য ও অদম্য চেতনা। পূজার ছুটির কারণে দিবসটি উদযাপিত হবে আগামী ২২ অক্টোবর (বুধবার)।
দিনটি শুরু হবে সকাল ৯টায় বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম দিবসের উদ্বোধন করবেন। এরপর ক্যাম্পাস থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ঘুরে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে।
‎চারুকলা অনুষদের চিত্রপ্রদর্শনী, সংগীত বিভাগের আয়োজন, বাদ জোহর দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের ব্যান্ডসংগীত অনুষ্ঠান থাকছে দিনব্যাপী উৎসবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন,‎ “গত এক বছরে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা একাডেমিক মানোন্নয়নে কাজ করেছি। জবির স্বকীয়তা রক্ষায় গুচ্ছ ভর্তি থেকে সরে এসে নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছি। এ বছর আমাদের বাজেট ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—যা সম্ভব হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।”
এক সময়ের ছোট্ট ব্রাহ্ম স্কুল আজ দেশের অন্যতম স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। দেড় শতকের শিক্ষা ঐতিহ্য বুকে নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন আর উদ্ভাবনের পথে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আজও গর্বভরে দাঁড়িয়ে আছে জবির লাল–সাদা পতাকা।

প্রিন্ট করুন :