ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

বরগুনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ-খুন প্রধান আসামির ফাঁসি, সহযোগীর কারাদণ্ড

মোঃ শাহজালাল, বরগুনা প্রতিনিধি ||

সকালবেলা বাড়ির পাশের ক্ষেতে শাক তুলতে বেরিয়েছিল বারো বছরের মাদ্রাসাছাত্রী। নাম তার তানজিলা। আর ফেরা হয়নি। একদিন পরে মিলল তার নিথর দেহ, হোগলপাতার আড়ালে। তদন্তে উঠে এল ভয়াবহ কাহিনি—অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী, ধর্ষণ, তারপর হিজাব দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা।

আজ সেই নৃশংস ঘটনার রায় ঘোষণা করল বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস প্রধান আসামি হৃদয় খানকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সহযোগী আসামি জাহিদুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দু’জনই আদালতে উপস্থিত ছিল।

কীভাবে ঘটেছিল সেই দিন

২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল। ঘুম থেকে উঠে ক্ষেতে শাক তুলতে যায় তানজিলা। আর ফিরে আসে না। সন্ধ্যা গড়ায়, খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। তার মধ্যেই আসে রহস্যময় মেসেজ—“১৫ লাখ টাকা দিলে মেয়েকে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করে প্রধান আসামি হৃদয় খানকে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মুক্তিপণের জন্য মেয়েটিকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ না মেলায় আমতলীর এক বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। সেখানেই ঘটে ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা। মেয়েটি যাতে কথা বলে দিতে না পারে—সেই আশঙ্কায় হিজাব পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে সে। হৃদয়ের দেখানো মতে পুলিশ উদ্ধার করে তানজিলার লাশ।

আদালতে দুই পক্ষ

বাদির দাবি—“আমার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আজ আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।”

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, “মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত নেই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।”

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন, “বারো বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা—এটি এক ভয়ঙ্কর অপরাধ। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সমাজে এমন অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

বরগুনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ-খুন প্রধান আসামির ফাঁসি, সহযোগীর কারাদণ্ড

Update Time : ০৮:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

মোঃ শাহজালাল, বরগুনা প্রতিনিধি ||

সকালবেলা বাড়ির পাশের ক্ষেতে শাক তুলতে বেরিয়েছিল বারো বছরের মাদ্রাসাছাত্রী। নাম তার তানজিলা। আর ফেরা হয়নি। একদিন পরে মিলল তার নিথর দেহ, হোগলপাতার আড়ালে। তদন্তে উঠে এল ভয়াবহ কাহিনি—অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী, ধর্ষণ, তারপর হিজাব দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা।

আজ সেই নৃশংস ঘটনার রায় ঘোষণা করল বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস প্রধান আসামি হৃদয় খানকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সহযোগী আসামি জাহিদুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দু’জনই আদালতে উপস্থিত ছিল।

কীভাবে ঘটেছিল সেই দিন

২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল। ঘুম থেকে উঠে ক্ষেতে শাক তুলতে যায় তানজিলা। আর ফিরে আসে না। সন্ধ্যা গড়ায়, খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। তার মধ্যেই আসে রহস্যময় মেসেজ—“১৫ লাখ টাকা দিলে মেয়েকে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করে প্রধান আসামি হৃদয় খানকে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মুক্তিপণের জন্য মেয়েটিকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ না মেলায় আমতলীর এক বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। সেখানেই ঘটে ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা। মেয়েটি যাতে কথা বলে দিতে না পারে—সেই আশঙ্কায় হিজাব পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে সে। হৃদয়ের দেখানো মতে পুলিশ উদ্ধার করে তানজিলার লাশ।

আদালতে দুই পক্ষ

বাদির দাবি—“আমার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আজ আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।”

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, “মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত নেই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।”

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন, “বারো বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা—এটি এক ভয়ঙ্কর অপরাধ। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সমাজে এমন অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।”

প্রিন্ট করুন :