ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

বরগুনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ-খুন প্রধান আসামির ফাঁসি, সহযোগীর কারাদণ্ড

মোঃ শাহজালাল, বরগুনা প্রতিনিধি ||

সকালবেলা বাড়ির পাশের ক্ষেতে শাক তুলতে বেরিয়েছিল বারো বছরের মাদ্রাসাছাত্রী। নাম তার তানজিলা। আর ফেরা হয়নি। একদিন পরে মিলল তার নিথর দেহ, হোগলপাতার আড়ালে। তদন্তে উঠে এল ভয়াবহ কাহিনি—অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী, ধর্ষণ, তারপর হিজাব দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা।

আজ সেই নৃশংস ঘটনার রায় ঘোষণা করল বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস প্রধান আসামি হৃদয় খানকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সহযোগী আসামি জাহিদুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দু’জনই আদালতে উপস্থিত ছিল।

কীভাবে ঘটেছিল সেই দিন

২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল। ঘুম থেকে উঠে ক্ষেতে শাক তুলতে যায় তানজিলা। আর ফিরে আসে না। সন্ধ্যা গড়ায়, খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। তার মধ্যেই আসে রহস্যময় মেসেজ—“১৫ লাখ টাকা দিলে মেয়েকে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করে প্রধান আসামি হৃদয় খানকে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মুক্তিপণের জন্য মেয়েটিকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ না মেলায় আমতলীর এক বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। সেখানেই ঘটে ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা। মেয়েটি যাতে কথা বলে দিতে না পারে—সেই আশঙ্কায় হিজাব পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে সে। হৃদয়ের দেখানো মতে পুলিশ উদ্ধার করে তানজিলার লাশ।

আদালতে দুই পক্ষ

বাদির দাবি—“আমার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আজ আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।”

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, “মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত নেই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।”

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন, “বারো বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা—এটি এক ভয়ঙ্কর অপরাধ। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সমাজে এমন অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

বরগুনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ-খুন প্রধান আসামির ফাঁসি, সহযোগীর কারাদণ্ড

Update Time : ০৮:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

মোঃ শাহজালাল, বরগুনা প্রতিনিধি ||

সকালবেলা বাড়ির পাশের ক্ষেতে শাক তুলতে বেরিয়েছিল বারো বছরের মাদ্রাসাছাত্রী। নাম তার তানজিলা। আর ফেরা হয়নি। একদিন পরে মিলল তার নিথর দেহ, হোগলপাতার আড়ালে। তদন্তে উঠে এল ভয়াবহ কাহিনি—অপহরণ, মুক্তিপণ দাবী, ধর্ষণ, তারপর হিজাব দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা।

আজ সেই নৃশংস ঘটনার রায় ঘোষণা করল বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস প্রধান আসামি হৃদয় খানকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সহযোগী আসামি জাহিদুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দু’জনই আদালতে উপস্থিত ছিল।

কীভাবে ঘটেছিল সেই দিন

২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল। ঘুম থেকে উঠে ক্ষেতে শাক তুলতে যায় তানজিলা। আর ফিরে আসে না। সন্ধ্যা গড়ায়, খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। তার মধ্যেই আসে রহস্যময় মেসেজ—“১৫ লাখ টাকা দিলে মেয়েকে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করে প্রধান আসামি হৃদয় খানকে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মুক্তিপণের জন্য মেয়েটিকে অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ না মেলায় আমতলীর এক বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। সেখানেই ঘটে ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা। মেয়েটি যাতে কথা বলে দিতে না পারে—সেই আশঙ্কায় হিজাব পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে সে। হৃদয়ের দেখানো মতে পুলিশ উদ্ধার করে তানজিলার লাশ।

আদালতে দুই পক্ষ

বাদির দাবি—“আমার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আজ আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।”

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, “মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত নেই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।”

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন, “বারো বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা—এটি এক ভয়ঙ্কর অপরাধ। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সমাজে এমন অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।”

প্রিন্ট করুন :