ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

চরফ্যাশনে ডায়রিয়ার হানাঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবকিছুতেই সংকট, কিনে আনতে হচ্ছে বাইরে থেকে

ভোলা প্রতিনিধি:

তীব্র গরমে ভোলার চরফ্যাশনে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া ও কলেরার প্রকোপ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধরা। তবে রোগীর চেয়েও বড় দুর্ভোগ তৈরি করেছে সরকারি হাসপাতালের চরম ওষুধ ও স্যালাইন সংকট। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ১৮৩ জন রোগী ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধুমাত্র শনিবার সকালেই ভর্তি হয়েছেন ১২ জন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা রোগীদের অভিজ্ঞতা বেদনাদায়ক। চরমানিকা ইউনিয়নের অহিদ তার ৪ বছরের ছেলেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত অবস্থায় ভর্তি করালেও অভিযোগ করেন, “ভর্তির পর এখনো কেউ ছেলেকে দেখতে আসেনি।”

একইভাবে, নীলকমল ইউনিয়নের ফারজানা বেগম বলেন, “এক বছরের সন্তানকে ভর্তি করেছি, কিন্তু হাসপাতাল থেকে কিছুই পাইনি। সব—স্যালাইন, ক্যানুলা, খাবার, কলেরা স্যালাইন—সব কিনতে হয়েছে।”

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সেবা তো দূরে থাক, নার্সদের ডাকলেও সাড়া মেলে না। সবকিছুই লিখে দিয়ে বাইরে থেকে আনতে বলেন। এমনকি স্যালাইন মজুদ থাকা সত্ত্বেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।

তবে নার্স ইনচার্জ অপরাজিতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “১৭ জন নার্স সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু স্যালাইনসহ কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে, তাই রোগীদের বাইরে থেকে আনতে বলা হয়।”

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, “জনবল সংকট প্রকট। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ না থাকায় রোগীদের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “জেলা সিভিল সার্জন বরাবর চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

হাসপাতালের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শোভন বশাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

চরফ্যাশনে ডায়রিয়ার হানাঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবকিছুতেই সংকট, কিনে আনতে হচ্ছে বাইরে থেকে

Update Time : ০৫:০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

ভোলা প্রতিনিধি:

তীব্র গরমে ভোলার চরফ্যাশনে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া ও কলেরার প্রকোপ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধরা। তবে রোগীর চেয়েও বড় দুর্ভোগ তৈরি করেছে সরকারি হাসপাতালের চরম ওষুধ ও স্যালাইন সংকট। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ১৮৩ জন রোগী ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধুমাত্র শনিবার সকালেই ভর্তি হয়েছেন ১২ জন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা রোগীদের অভিজ্ঞতা বেদনাদায়ক। চরমানিকা ইউনিয়নের অহিদ তার ৪ বছরের ছেলেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত অবস্থায় ভর্তি করালেও অভিযোগ করেন, “ভর্তির পর এখনো কেউ ছেলেকে দেখতে আসেনি।”

একইভাবে, নীলকমল ইউনিয়নের ফারজানা বেগম বলেন, “এক বছরের সন্তানকে ভর্তি করেছি, কিন্তু হাসপাতাল থেকে কিছুই পাইনি। সব—স্যালাইন, ক্যানুলা, খাবার, কলেরা স্যালাইন—সব কিনতে হয়েছে।”

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সেবা তো দূরে থাক, নার্সদের ডাকলেও সাড়া মেলে না। সবকিছুই লিখে দিয়ে বাইরে থেকে আনতে বলেন। এমনকি স্যালাইন মজুদ থাকা সত্ত্বেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।

তবে নার্স ইনচার্জ অপরাজিতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “১৭ জন নার্স সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু স্যালাইনসহ কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে, তাই রোগীদের বাইরে থেকে আনতে বলা হয়।”

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, “জনবল সংকট প্রকট। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ না থাকায় রোগীদের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “জেলা সিভিল সার্জন বরাবর চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

হাসপাতালের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শোভন বশাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

প্রিন্ট করুন :