ভোলা প্রতিনিধি:
তীব্র গরমে ভোলার চরফ্যাশনে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া ও কলেরার প্রকোপ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধরা। তবে রোগীর চেয়েও বড় দুর্ভোগ তৈরি করেছে সরকারি হাসপাতালের চরম ওষুধ ও স্যালাইন সংকট। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ১৮৩ জন রোগী ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধুমাত্র শনিবার সকালেই ভর্তি হয়েছেন ১২ জন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা রোগীদের অভিজ্ঞতা বেদনাদায়ক। চরমানিকা ইউনিয়নের অহিদ তার ৪ বছরের ছেলেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত অবস্থায় ভর্তি করালেও অভিযোগ করেন, “ভর্তির পর এখনো কেউ ছেলেকে দেখতে আসেনি।”
একইভাবে, নীলকমল ইউনিয়নের ফারজানা বেগম বলেন, “এক বছরের সন্তানকে ভর্তি করেছি, কিন্তু হাসপাতাল থেকে কিছুই পাইনি। সব—স্যালাইন, ক্যানুলা, খাবার, কলেরা স্যালাইন—সব কিনতে হয়েছে।”
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সেবা তো দূরে থাক, নার্সদের ডাকলেও সাড়া মেলে না। সবকিছুই লিখে দিয়ে বাইরে থেকে আনতে বলেন। এমনকি স্যালাইন মজুদ থাকা সত্ত্বেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।
তবে নার্স ইনচার্জ অপরাজিতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “১৭ জন নার্স সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু স্যালাইনসহ কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে, তাই রোগীদের বাইরে থেকে আনতে বলা হয়।”
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, “জনবল সংকট প্রকট। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ না থাকায় রোগীদের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “জেলা সিভিল সার্জন বরাবর চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
হাসপাতালের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শোভন বশাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।