ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

কাকরাইলে জবির মহাসমাবেশ: যমুনা অভিমুখে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সাবেকদের ঢল

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবি আদায়ে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের আন্দোলন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনস্থলে গিয়ে দেখা গেছে—প্রায় ২৫টি বাসে করে একযোগে পৌঁছেছেন জবির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ থেকে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ছেড়ে আসে কাকরাইল মোড়ের যমুনা ভবনের সামনে। প্রতিটি বাস ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা—সবাই মিলে এক স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।

ক্যাম্পাসের আবাসিক ছাত্রী হল ও আশপাশের মেসগুলো থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে আন্দোলনে অংশ নিতে বের হন। এ যেন জবির সর্বস্তরের এক মহাসমাবেশ।

সাবেকরাও ছুটে আসছেন দেশের প্রান্তপ্রান্ত থেকে

এই আন্দোলন শুধু বর্তমান নয়, অতীতের ছাত্রদের মনেও নাড়া দিয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, এমনকি জামালপুর থেকেও সাবেক শিক্ষার্থীরা কাকরাইলের পথে ছুটে এসেছেন।

জামালপুর থেকে আসা সাবেক শিক্ষার্থী মুকুল হোসেন ফেসবুকে লেখেন, “জামালপুর টু যমুনা—শুধু কালকের ঘটনার পর আর ঘরে থাকতে পারলাম না। আমি ১৩তম ব্যাচের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে আসা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী একরামুল হক এরফান বলেন, “লাইভে আমার শিক্ষকদের ওপর হামলা দেখে আর স্থির থাকতে পারিনি। অফিস শেষে সন্ধ্যায় রওনা দেই, আর ভোরে ঢাকায় নেমে সরাসরি কাকরাইলে চলে আসি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবো।”

নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে চক্রাকার বাস চালু আছে। শিক্ষার্থীরা এলেই আন্দোলনস্থলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাবেকরাও এসে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।”

এর আগে, মঙ্গলবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ইউজিসিতে গেলেও আশানুরূপ সাড়া না মেলায় ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘জুলাই ঐক্য’ নামক প্ল্যাটফর্ম। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল থেকেই কাকরাইলে জমায়েত শুরু হয়।

চাপ বাড়ছে—শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বুধবার রাতে অবস্থান কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো সমবেত হয়েছেন তারা। এই আন্দোলন এখন জবির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বৃহৎ পরিসরে রূপ নিচ্ছে।


আন্দোলনের দাবি, উত্তাল কাকরাইল—এই গতি-প্রবাহ কোথায় গড়ায়, তা নির্ভর করছে দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্তে। তবে একথা নিশ্চিত—জগন্নাথ এখন জেগে উঠেছে।


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

কাকরাইলে জবির মহাসমাবেশ: যমুনা অভিমুখে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সাবেকদের ঢল

Update Time : ০৩:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবি আদায়ে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের আন্দোলন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনস্থলে গিয়ে দেখা গেছে—প্রায় ২৫টি বাসে করে একযোগে পৌঁছেছেন জবির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ থেকে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ছেড়ে আসে কাকরাইল মোড়ের যমুনা ভবনের সামনে। প্রতিটি বাস ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা—সবাই মিলে এক স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।

ক্যাম্পাসের আবাসিক ছাত্রী হল ও আশপাশের মেসগুলো থেকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে আন্দোলনে অংশ নিতে বের হন। এ যেন জবির সর্বস্তরের এক মহাসমাবেশ।

সাবেকরাও ছুটে আসছেন দেশের প্রান্তপ্রান্ত থেকে

এই আন্দোলন শুধু বর্তমান নয়, অতীতের ছাত্রদের মনেও নাড়া দিয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, এমনকি জামালপুর থেকেও সাবেক শিক্ষার্থীরা কাকরাইলের পথে ছুটে এসেছেন।

জামালপুর থেকে আসা সাবেক শিক্ষার্থী মুকুল হোসেন ফেসবুকে লেখেন, “জামালপুর টু যমুনা—শুধু কালকের ঘটনার পর আর ঘরে থাকতে পারলাম না। আমি ১৩তম ব্যাচের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে আসা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী একরামুল হক এরফান বলেন, “লাইভে আমার শিক্ষকদের ওপর হামলা দেখে আর স্থির থাকতে পারিনি। অফিস শেষে সন্ধ্যায় রওনা দেই, আর ভোরে ঢাকায় নেমে সরাসরি কাকরাইলে চলে আসি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবো।”

নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে চক্রাকার বাস চালু আছে। শিক্ষার্থীরা এলেই আন্দোলনস্থলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাবেকরাও এসে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।”

এর আগে, মঙ্গলবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ইউজিসিতে গেলেও আশানুরূপ সাড়া না মেলায় ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘জুলাই ঐক্য’ নামক প্ল্যাটফর্ম। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল থেকেই কাকরাইলে জমায়েত শুরু হয়।

চাপ বাড়ছে—শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বুধবার রাতে অবস্থান কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো সমবেত হয়েছেন তারা। এই আন্দোলন এখন জবির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বৃহৎ পরিসরে রূপ নিচ্ছে।


আন্দোলনের দাবি, উত্তাল কাকরাইল—এই গতি-প্রবাহ কোথায় গড়ায়, তা নির্ভর করছে দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্তে। তবে একথা নিশ্চিত—জগন্নাথ এখন জেগে উঠেছে।


 

প্রিন্ট করুন :