মোঃ শাহজালাল, বরগুনা||
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রা সমুদ্র সৈকত—স্থানীয়ভাবে ‘নিদ্রারচর’ নামে পরিচিত—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনার এক অনন্য স্থান। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই সৈকতটি ক্রমেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
প্রকৃতি যেন এখানে তার নিজ হাতেই এক অপরূপ নিসর্গ এঁকেছে। একদিকে বঙ্গোপসাগরের বুকে গর্জন তোলা ঢেউ, আরেকদিকে শান্ত নদীর ধারা—মাঝখানে বিস্তৃত কেওড়া ও ঝাউবনের সবুজ ছায়া। সবুজ ঘাসের প্রান্তর, শ্বাসমূলের গুচ্ছ, কাদামাটি ও জোয়ার-ভাটার মনোমুগ্ধকর খেলা যেন এক নিঃশব্দ অথচ জীবন্ত সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল আউয়াল বলেন, “নিদ্রার প্রকৃত সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। এর চারপাশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই পারে। উপযুক্ত অবকাঠামো তৈরি হলে এটি দেশের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।”
এই মতের সঙ্গে একমত স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমানও। তার ভাষায়, “নিদ্রা সৈকতের সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য একে দেশের অন্য সৈকতগুলো থেকে আলাদা করেছে। পরিকল্পিতভাবে যদি এখানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়, তাহলে এখান থেকে আয়ের নতুন উৎস গড়ে উঠবে।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, “নিদ্রা সৈকত ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।”
নিদ্রা সৈকতের আশেপাশেও রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় স্থান—যেমন শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, যেখানে প্রতিবছর জোছনা উৎসব হয়। কাছাকাছি রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘টেংরাগিরি’, অনন্য সৌন্দর্যের ফাতরার চর এবং সোনাকাটা ইকোপার্ক। সব মিলিয়ে নিদ্রা একটি ‘ট্যুরিস্ট প্যাকেজ’ হিসেবেও বিবেচ্য।
ঢাকা থেকে সড়কপথে বাস বা নিজস্ব গাড়িতে তালতলী পৌঁছে নিদ্রা সৈকতে যাওয়া যায়। বরগুনা বা আমতলী থেকে লঞ্চে এসেও নৌ-পথে তালতলী হয়ে সোনাকাটা ইউনিয়নে পৌঁছানো সম্ভব। তালতলী শহরের আবাসিক হোটেল ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে।
বরগুনা জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, “নিদ্রা সৈকত শুধু বরগুনা নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একটি গর্বের জায়গা হতে পারে। স্থানীয়দের নিয়ে আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করেছি যারা সৈকত পরিষ্কার রাখে, পর্যটকদের সাহায্য করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।” তিনি আরও বলেন, “এই এলাকাকে সরকারি স্বীকৃতি দিলে বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশের পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
উন্নয়নের কিছু প্রয়োজনীয়তা ও চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত ও আধুনিক টয়লেট ও বিশ্রামাগার
- পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, হোটেল-মোটেল
- নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
- সুষ্ঠু যাতায়াত ও সাইনবোর্ড
- সরকারি স্বীকৃতি ও প্রচার
সার্বিকভাবে বলা যায়, নিদ্রা সৈকত এক সম্ভাবনার নাম। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভৌগলিক বৈচিত্র্য শুধু বরগুনা নয়, সমগ্র বাংলাদেশের পর্য
সাউথ বাংলা ডেস্ক 


























