ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

বাগেরহাটে কিশোরের মৃত্যু ঘিরে মাদকবিরোধী ক্ষোভ, অভিযুক্ত বাড়িতে এলাকাবাসীর অভিযান

শেখ রায়হান হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামে ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর পর মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক কেনার টাকা না পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই কিশোর বিষপান করেছিল বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

মারজান নামের ওই কিশোরের মৃত্যুর পর মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠা একটি বাড়িতে গিয়ে ঘর সরানোর উদ্যোগ নেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, তাঁদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই বাড়ির এক ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান।

তবে মাদক বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।

যেভাবে মৃত্যু হয় মারজানের

নিহত কাজী মারজান রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিল মারজান। মাদক কেনার জন্য সে প্রায়ই পরিবারের কাছে টাকা চাইত। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরিবার তার চাহিদামতো টাকা দিতে পারত না। টাকা না পেলে সে অস্থির হয়ে পড়ত বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিষপান করে মারজান। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মারজানের বাবা কাজী এনামুল হক রিপন অনেক আগেই মারা গেছেন। তার পরিবারে রয়েছে মা ও এক ছোট বোন।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষপানের পর ওই কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় বিষপানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, কিশোরটির মৃত্যুর পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদক বিক্রি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ

মারজানের মৃত্যুর পর এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশসহ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ হাসানুল বান্না বলেন, রহিমাবাদ একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাদকের বিস্তার নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, জমি দখল এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। স্কুলের পাশে একটি ঘরে বসে মাদক বিক্রি করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া মসজিদের জমি দখল করে পানবরজ তৈরি এবং রাস্তার পাশে গরুর গোয়াল নির্মাণের অভিযোগও তোলেন এই বাসিন্দা।

তাঁর দাবি, এলাকাবাসী এর আগে বিভিন্ন সময়ে এসব বিষয়ে আপত্তি জানালেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল খান বলেন, মারজানের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। মাদক কেনার জন্য সে যে পরিমাণ টাকা চাইত, তা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হতো না।

সোহেল খানের অভিযোগ, গ্রামের গাবতলা থেকে ভাঙ্গড় এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মাদক কেনাবেচা হয়। এ কাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কেউ কেউ জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভয়ে অনেকেই এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বলেন, মারজানের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ করে গ্রামে আগের মতো সুস্থ সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগে যাঁদের নাম ও ভূমিকার কথা বলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী

স্থানীয় বাসিন্দা বেগ মোকাররম হোসেন বলেন, রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে তাঁরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ করেছেন। পরে বিষয়টি বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মারজানের মৃত্যুর পর এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠা একটি বাড়িতে যান। সেখানে তাঁরা ঘর সরানোর উদ্যোগ নেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

তবে মামলাটি কোন ধারায় করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে মাদক কেনাবেচার অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাদক প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি

মারজানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চান, মাদক কেনাবেচার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একই সঙ্গে মাদকাসক্ত কিশোর-তরুণদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া এবং তাঁদের খেলাধুলা ও সুস্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

মারজানের মৃত্যু ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত এবং এলাকায় মাদক প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

বাগেরহাটে কিশোরের মৃত্যু ঘিরে মাদকবিরোধী ক্ষোভ, অভিযুক্ত বাড়িতে এলাকাবাসীর অভিযান

Update Time : ০৮:১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

শেখ রায়হান হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামে ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর পর মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক কেনার টাকা না পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই কিশোর বিষপান করেছিল বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

মারজান নামের ওই কিশোরের মৃত্যুর পর মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠা একটি বাড়িতে গিয়ে ঘর সরানোর উদ্যোগ নেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, তাঁদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই বাড়ির এক ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান।

তবে মাদক বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।

যেভাবে মৃত্যু হয় মারজানের

নিহত কাজী মারজান রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিল মারজান। মাদক কেনার জন্য সে প্রায়ই পরিবারের কাছে টাকা চাইত। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরিবার তার চাহিদামতো টাকা দিতে পারত না। টাকা না পেলে সে অস্থির হয়ে পড়ত বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিষপান করে মারজান। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মারজানের বাবা কাজী এনামুল হক রিপন অনেক আগেই মারা গেছেন। তার পরিবারে রয়েছে মা ও এক ছোট বোন।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষপানের পর ওই কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় বিষপানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, কিশোরটির মৃত্যুর পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদক বিক্রি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ

মারজানের মৃত্যুর পর এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশসহ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ হাসানুল বান্না বলেন, রহিমাবাদ একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাদকের বিস্তার নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, জমি দখল এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। স্কুলের পাশে একটি ঘরে বসে মাদক বিক্রি করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া মসজিদের জমি দখল করে পানবরজ তৈরি এবং রাস্তার পাশে গরুর গোয়াল নির্মাণের অভিযোগও তোলেন এই বাসিন্দা।

তাঁর দাবি, এলাকাবাসী এর আগে বিভিন্ন সময়ে এসব বিষয়ে আপত্তি জানালেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল খান বলেন, মারজানের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। মাদক কেনার জন্য সে যে পরিমাণ টাকা চাইত, তা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হতো না।

সোহেল খানের অভিযোগ, গ্রামের গাবতলা থেকে ভাঙ্গড় এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মাদক কেনাবেচা হয়। এ কাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কেউ কেউ জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভয়ে অনেকেই এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বলেন, মারজানের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ করে গ্রামে আগের মতো সুস্থ সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগে যাঁদের নাম ও ভূমিকার কথা বলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী

স্থানীয় বাসিন্দা বেগ মোকাররম হোসেন বলেন, রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে তাঁরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ করেছেন। পরে বিষয়টি বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মারজানের মৃত্যুর পর এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠা একটি বাড়িতে যান। সেখানে তাঁরা ঘর সরানোর উদ্যোগ নেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

তবে মামলাটি কোন ধারায় করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে মাদক কেনাবেচার অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাদক প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি

মারজানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চান, মাদক কেনাবেচার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একই সঙ্গে মাদকাসক্ত কিশোর-তরুণদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া এবং তাঁদের খেলাধুলা ও সুস্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

মারজানের মৃত্যু ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত এবং এলাকায় মাদক প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান দাবি।

প্রিন্ট করুন :