ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

কলাপাড়ায় স্লুইসগেট ভাঙনে জলাবদ্ধতা,দুর্ভোগে ৪’হাজার পরিবারসহ শিক্ষার্থীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৮১ Time View

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে সদরপুরের তিন ভেন্টবিশিষ্ট স্লুইসগেটটি রাস্তাসহ ধসে পড়েছে। এতে অত্র অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ফলে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে সাতটি গ্রাম ও পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৭০০ একর ফসলি জমি।

‎রাস্তাধসে পড়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় চার হাজার পরিবারের হাজারো মানুষ।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা-সংলগ্ন এই জনপদকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই বাঁধের ভেতরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সদরপুরে তিন ভেন্টের এই স্লুইসগেটটি তৈরি করা হয়।

‎দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল কাঠামোটি। অবশেষে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর তীব্র স্রোতের চাপ সইতে না পেরে সোমবার (১৩ জুলাই) স্লুইসগেটটি সংলগ্ন রাস্তাসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

‎স্লুইসগেটটি ধসে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

‎অন্যদিকে, সোনাতলা নদীর জোয়ারের লবণাক্ত পানি অনায়াসে আশপাশের সাতটি গ্রামে ঢুকে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। ফলে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাছ চলে গেছে নদীতে। রাস্তা ধসে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। যাতায়াতের জন্য এখন স্থানীয়দের দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসগেটটিতে ফাটল ও ভাঙনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সময়মতো সামান্য সংস্কার করা হলে আজকে হাজার হাজার মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

‎ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্লুইস ভেঙে জোয়ারের পানি সরাসরি ঘরে ঢুকছে। রান্না করার জায়গা নেই, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। দ্রুত বাঁধ ও স্লুইস মেরামত না করলে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে।

‎এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, উপজেলার অনেকগুলো স্লুইসগেট ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সদরপুর স্লুইসগেটসহ মোট ১২৯টি স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

কলাপাড়ায় স্লুইসগেট ভাঙনে জলাবদ্ধতা,দুর্ভোগে ৪’হাজার পরিবারসহ শিক্ষার্থীরা

Update Time : ০৩:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে সদরপুরের তিন ভেন্টবিশিষ্ট স্লুইসগেটটি রাস্তাসহ ধসে পড়েছে। এতে অত্র অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ফলে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে সাতটি গ্রাম ও পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৭০০ একর ফসলি জমি।

‎রাস্তাধসে পড়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় চার হাজার পরিবারের হাজারো মানুষ।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা-সংলগ্ন এই জনপদকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই বাঁধের ভেতরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সদরপুরে তিন ভেন্টের এই স্লুইসগেটটি তৈরি করা হয়।

‎দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল কাঠামোটি। অবশেষে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর তীব্র স্রোতের চাপ সইতে না পেরে সোমবার (১৩ জুলাই) স্লুইসগেটটি সংলগ্ন রাস্তাসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

‎স্লুইসগেটটি ধসে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

‎অন্যদিকে, সোনাতলা নদীর জোয়ারের লবণাক্ত পানি অনায়াসে আশপাশের সাতটি গ্রামে ঢুকে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। ফলে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অসংখ্য পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাছ চলে গেছে নদীতে। রাস্তা ধসে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। যাতায়াতের জন্য এখন স্থানীয়দের দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসগেটটিতে ফাটল ও ভাঙনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সময়মতো সামান্য সংস্কার করা হলে আজকে হাজার হাজার মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

‎ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্লুইস ভেঙে জোয়ারের পানি সরাসরি ঘরে ঢুকছে। রান্না করার জায়গা নেই, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। দ্রুত বাঁধ ও স্লুইস মেরামত না করলে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে।

‎এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, উপজেলার অনেকগুলো স্লুইসগেট ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সদরপুর স্লুইসগেটসহ মোট ১২৯টি স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

প্রিন্ট করুন :