ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

দুমকিতে পদ্মা ব্যাংক অচল, টাকা তুলতে না পেরে হতাশ গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

পটুয়াখালী দুমকীতে পদ্মা ব্যাংকের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উদ্বেগের চূড়ান্তে পৌঁছচ্ছে। প্রতিদিনই ব্যাংকে ভিড় জমছে টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের। কিন্তু হতাশ মুখে ফিরতে হচ্ছে প্রায় সবাইকেই। জমা রাখা টাকাই তুলতে পারছেন না বহু মানুষ। বিশেষ প্রয়োজনে টাকা তুলতে না পেরে দিশাহারা বৃদ্ধ–রোগী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও।

উপজেলা সদরে থাকা পদ্মা ব্যাংক দুমকি শাখায় প্রায় চার হাজার গ্রাহকের হিসেব। বহুদিন ধরেই টাকার অপ্রতুলতায় টানাপোড়েন চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকের মতোই এই ব্যাংকের লেনদেন মুখ থুবড়ে পড়ে। গ্রাহকদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে টাকা জমা দেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জমা রাখা টাকাই ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংক। আর তাতেই চরম ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা, ভয়—সবকিছুরই মিশেল দেখা যাচ্ছে গ্রাহকদের মুখে।

আংগারিয়ার বাহেরচরের জসিম উদ্দিন ভাঙা গলায় বললেন,
“সুবিধা–অসুবিধায় তুলতে পারব ভেবে পাঁচ লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন আমি খুব অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার। ব্যাংকে এলাম—বলছে টাকা দিতে পারবে না! হাহাকার ছাড়া কী করার আছে?”

লেবুখালি থেকে আসা রিপনের অভিজ্ঞতা আরও কষ্টদায়ক—
“দেড় হাজার টাকা খরচ করে দশ মাস ঘুরে মাত্র দুই হাজার টাকা তুলেছি। কর্মকর্তারা শুধু একটা কথাই বলেন—টাকা নেই, আসলে দেবো।”

শ্রীরামপুরের মফিজ গাজী বললেন,
“আমার প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের জন্য কিছু টাকা রেখেছিলাম। এখন দরকার পড়েছে, কিন্তু ব্যাংক দিচ্ছে না।”

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিরতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান খান জানালেন—
“ব্যবসার প্রয়োজনে রাখা টাকাই তুলতে পারছি না। প্রতিদিনই সমস্যা বাড়ছে।”

নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম সরদার বললেন—
“টাকা আটকে যাওয়ায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার জোগাড়।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের অভিযোগ—
“ব্যাংকে ভালো অঙ্কের টাকা জমা আছে। কিন্তু দিতে পারছে না। ব্যবসা প্রায় অচল।

এ বিষয়ে পদ্মা ব্যাংক দুমকি শাখার ব্যবস্থাপক শাহিনুর আক্তারসহ ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাদের এই নীরবতা গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গ্রাহকদের আশঙ্কা—
দ্রুত স্বাভাবিক লেনদেন চালু না হলে ব্যবসা–বাণিজ্য থেকে ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছুতে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
এখনই যদি পদক্ষেপ না নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মহল, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে বলে মত অনেকের।

দুমকির মানুষ আজ একটাই প্রশ্ন করছে—
“ব্যাংকে জমা রাখা আমাদের টাকাগুলো আমরা কবে পাব?”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

দুমকিতে পদ্মা ব্যাংক অচল, টাকা তুলতে না পেরে হতাশ গ্রাহকরা

Update Time : ১০:২১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

পটুয়াখালী দুমকীতে পদ্মা ব্যাংকের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উদ্বেগের চূড়ান্তে পৌঁছচ্ছে। প্রতিদিনই ব্যাংকে ভিড় জমছে টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের। কিন্তু হতাশ মুখে ফিরতে হচ্ছে প্রায় সবাইকেই। জমা রাখা টাকাই তুলতে পারছেন না বহু মানুষ। বিশেষ প্রয়োজনে টাকা তুলতে না পেরে দিশাহারা বৃদ্ধ–রোগী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও।

উপজেলা সদরে থাকা পদ্মা ব্যাংক দুমকি শাখায় প্রায় চার হাজার গ্রাহকের হিসেব। বহুদিন ধরেই টাকার অপ্রতুলতায় টানাপোড়েন চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকের মতোই এই ব্যাংকের লেনদেন মুখ থুবড়ে পড়ে। গ্রাহকদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে টাকা জমা দেওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জমা রাখা টাকাই ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংক। আর তাতেই চরম ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা, ভয়—সবকিছুরই মিশেল দেখা যাচ্ছে গ্রাহকদের মুখে।

আংগারিয়ার বাহেরচরের জসিম উদ্দিন ভাঙা গলায় বললেন,
“সুবিধা–অসুবিধায় তুলতে পারব ভেবে পাঁচ লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন আমি খুব অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার। ব্যাংকে এলাম—বলছে টাকা দিতে পারবে না! হাহাকার ছাড়া কী করার আছে?”

লেবুখালি থেকে আসা রিপনের অভিজ্ঞতা আরও কষ্টদায়ক—
“দেড় হাজার টাকা খরচ করে দশ মাস ঘুরে মাত্র দুই হাজার টাকা তুলেছি। কর্মকর্তারা শুধু একটা কথাই বলেন—টাকা নেই, আসলে দেবো।”

শ্রীরামপুরের মফিজ গাজী বললেন,
“আমার প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের জন্য কিছু টাকা রেখেছিলাম। এখন দরকার পড়েছে, কিন্তু ব্যাংক দিচ্ছে না।”

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিরতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান খান জানালেন—
“ব্যবসার প্রয়োজনে রাখা টাকাই তুলতে পারছি না। প্রতিদিনই সমস্যা বাড়ছে।”

নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম সরদার বললেন—
“টাকা আটকে যাওয়ায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার জোগাড়।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের অভিযোগ—
“ব্যাংকে ভালো অঙ্কের টাকা জমা আছে। কিন্তু দিতে পারছে না। ব্যবসা প্রায় অচল।

এ বিষয়ে পদ্মা ব্যাংক দুমকি শাখার ব্যবস্থাপক শাহিনুর আক্তারসহ ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাদের এই নীরবতা গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গ্রাহকদের আশঙ্কা—
দ্রুত স্বাভাবিক লেনদেন চালু না হলে ব্যবসা–বাণিজ্য থেকে ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছুতে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
এখনই যদি পদক্ষেপ না নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মহল, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে বলে মত অনেকের।

দুমকির মানুষ আজ একটাই প্রশ্ন করছে—
“ব্যাংকে জমা রাখা আমাদের টাকাগুলো আমরা কবে পাব?”

প্রিন্ট করুন :