ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের পটুয়াখালীতে সৌদি খেজুরবাগানের ফলনধরা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলামের দুমকিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মামলা, প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ১৬ সিলেটে বাস-বাস সংঘর্ষে নিহত ৯, নিহতের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী সাবেক পুলিশ সদস্যের মৎস্য খামারে মরদেহ উদ্ধার পবিপ্রবি’র কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

চরফ্যাশনে ভুয়া সনদে কলেজ সভাপতি বিএনপি নেতা, এলাকায় চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

ভোলার চরফ্যাশনে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে কলেজের সভাপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ আইচা কলেজের (সাবেক দক্ষিণ আইচা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজ) এডহক কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আলী মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন দাবি করেন, তিনি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে বিবিএ (সম্মান) ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ওই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তিনি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, উক্ত দুটি সনদই জাল।

গত ১ নভেম্বর দক্ষিণ আইচা রাব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. একেএম শামসুর রহমান যাচাই শেষে ৫ নভেম্বর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সিরাজুল ইসলামের নামে প্রদত্ত সনদে ক্রমিক নম্বর নেই, কোর্স কোডে অমিল রয়েছে, ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষর জাল, এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরের তারিখেও গরমিল রয়েছে। প্রতিবেদনে সনদ দুটিকে “ভুয়া” হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বলেন, “ভুয়া সনদ ব্যবহার করে কেউ যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসে, তা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ হুমকি। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ বলেন, “সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন চলতি বছরের ২০ এপ্রিল সভাপতি পদে আবেদন করেন। তার কাগজপত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয় এবং অনুমোদনের পর তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী সনদ জাল প্রমাণিত হলে, আমরা বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।”

অভিযুক্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করব।”

প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, “ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে কেউ কলেজ সভাপতির পদে থাকতে পারেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকারকে ‘কার্যকর উদ্যোগের’ আহ্বান জামায়াতের

চরফ্যাশনে ভুয়া সনদে কলেজ সভাপতি বিএনপি নেতা, এলাকায় চাঞ্চল্য

Update Time : ০৮:৩৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

ভোলার চরফ্যাশনে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে কলেজের সভাপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ আইচা কলেজের (সাবেক দক্ষিণ আইচা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজ) এডহক কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আলী মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন দাবি করেন, তিনি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে বিবিএ (সম্মান) ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ওই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তিনি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, উক্ত দুটি সনদই জাল।

গত ১ নভেম্বর দক্ষিণ আইচা রাব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. একেএম শামসুর রহমান যাচাই শেষে ৫ নভেম্বর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সিরাজুল ইসলামের নামে প্রদত্ত সনদে ক্রমিক নম্বর নেই, কোর্স কোডে অমিল রয়েছে, ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষর জাল, এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরের তারিখেও গরমিল রয়েছে। প্রতিবেদনে সনদ দুটিকে “ভুয়া” হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বলেন, “ভুয়া সনদ ব্যবহার করে কেউ যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসে, তা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ হুমকি। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ বলেন, “সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন চলতি বছরের ২০ এপ্রিল সভাপতি পদে আবেদন করেন। তার কাগজপত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয় এবং অনুমোদনের পর তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী সনদ জাল প্রমাণিত হলে, আমরা বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।”

অভিযুক্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করব।”

প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, “ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে কেউ কলেজ সভাপতির পদে থাকতে পারেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রিন্ট করুন :