ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

‘ভুয়া স্লিপ’ কাণ্ডে পবিপ্রবি লোন শাখার উপ-পরিচালক ও অ্যাটেনডেন্টের অর্থ লোপাট।

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

শিক্ষার বাতিঘর হওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) লোন শাখা যেন হয়ে উঠেছে আর্থিক কেলেঙ্কারির মঞ্চ। শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কষ্টার্জিত কিস্তির টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে দুইজন দায়িত্বপ্রাপ্তের বিরুদ্ধে। হিসাব বলছে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে। 

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেনশন সেলের উপ-পরিচালক রাজিব মিয়া এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট আবু সালেহ মো. ইছা। তারা মোটরসাইকেল, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ঋণের কিস্তি জমার জন্য ভুয়া ব্যাংক স্লিপ তৈরি করেছেন। ফলে ঋণগ্রহীতারা নিশ্চিন্তে ভেবেছেন সব ঠিকঠাক চলছে, অথচ টাকা চলে গেছে নিজ পকেটে।

ক্ষতিগ্রস্ত নাইটগার্ড ইউনুস আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছি, কিন্তু জমা হয়নি। এখন বিশ্বাসও গেছে, টাকা-ও গেছে।”

অভ্যন্তরীণ অডিট সেলের তদন্তেই ফাঁস হয় পুরো কাণ্ড। অভিযোগের পর অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে আংশিক (৩২ লাখ) টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে বাকি টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্ত রাজিব মিয়া ও আবু সালেহ মোঃ ইছা এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “আগে টাকা উদ্ধার, পরে ব্যবস্থা।” অর্থাৎ প্রথমে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে, এরপর নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ।

এখন প্রশ্ন হলো, এত বড় অঙ্কের অনিয়ম কীভাবে দীর্ঘদিন অগোচরে থেকে গেল? স্থানীয়রা বলছেন, স্বচ্ছ আর্থিক তদারকি ছাড়া এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। তাই তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

‘ভুয়া স্লিপ’ কাণ্ডে পবিপ্রবি লোন শাখার উপ-পরিচালক ও অ্যাটেনডেন্টের অর্থ লোপাট।

Update Time : ১২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

শিক্ষার বাতিঘর হওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) লোন শাখা যেন হয়ে উঠেছে আর্থিক কেলেঙ্কারির মঞ্চ। শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কষ্টার্জিত কিস্তির টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে দুইজন দায়িত্বপ্রাপ্তের বিরুদ্ধে। হিসাব বলছে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে। 

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেনশন সেলের উপ-পরিচালক রাজিব মিয়া এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট আবু সালেহ মো. ইছা। তারা মোটরসাইকেল, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ঋণের কিস্তি জমার জন্য ভুয়া ব্যাংক স্লিপ তৈরি করেছেন। ফলে ঋণগ্রহীতারা নিশ্চিন্তে ভেবেছেন সব ঠিকঠাক চলছে, অথচ টাকা চলে গেছে নিজ পকেটে।

ক্ষতিগ্রস্ত নাইটগার্ড ইউনুস আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছি, কিন্তু জমা হয়নি। এখন বিশ্বাসও গেছে, টাকা-ও গেছে।”

অভ্যন্তরীণ অডিট সেলের তদন্তেই ফাঁস হয় পুরো কাণ্ড। অভিযোগের পর অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে আংশিক (৩২ লাখ) টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে বাকি টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্ত রাজিব মিয়া ও আবু সালেহ মোঃ ইছা এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “আগে টাকা উদ্ধার, পরে ব্যবস্থা।” অর্থাৎ প্রথমে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে, এরপর নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ।

এখন প্রশ্ন হলো, এত বড় অঙ্কের অনিয়ম কীভাবে দীর্ঘদিন অগোচরে থেকে গেল? স্থানীয়রা বলছেন, স্বচ্ছ আর্থিক তদারকি ছাড়া এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। তাই তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন :