ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

দুমকীতে স্লুইসগেট এখন কৃষকের গলার কাঁটা, জলাবদ্ধতায় বীজতলা ধ্বংস

0-3968x2976-0-0#

নিজস্ব প্রতিবেদক (দুমকি) পটুয়াখালী||

মাঠভরা সবুজ আর আকাশভরা মেঘ—এই চিরচেনা বর্ষা এখন আতঙ্কের নাম। পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কৃষকরা আজ হাহাকার করছে বৃষ্টির জন্য নয়, বরং স্লুইসগেটের সঠিক ব্যবহারের জন্য!

বর্ষা তো সময়মতো এসেছে, তবে যায়নি মাঠের পানি। আর সেই অচল জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখন আমনচাষিদের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

দুমকীর শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, গাবতলী—এলাকার শত শত একর জমি এখন পানির নিচে। মূল দায়? পাউবো’র স্লুইসগেট। রাজাখালী, জলিশা, গাবতলী—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা বিকল, নেই তদারকি। কোথাও নেই সময়মতো কপাট খোলার লোক, কোথাও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কৃষক নয়।

রাজাখালীর কৃষক দেলোয়ার হোসেন বললেন, “জোয়ারের পানি ঠিকই ওঠে, কিন্তু বৃষ্টির পানি নামার রাস্তা নেই। স্লুইসগেট তো খোলে না, যেন কপাট নয়, শিকল!”

আরেক কৃষক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বললেন, “যার হাতে চাবি, সে কৃষকই না। সে খালে বেহুন্তি জাল পাতে। খুলে দিলে অধিক স্রোতে তার জাল যেন ছিড়ে না যায়, সে দিকটা দেখে আর খুলে না। ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।”

দক্ষিণ দুমকীর কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদারের কণ্ঠে আক্ষেপ, “আউশ তো গেলই, এখন আমনের বীজতলা ডুবে মরছে।” আশঙ্কা আরও গভীর করে তুলছেন মো. জাকির হোসেন, “রোপা আমনের বীজই হবে না এবার। কৃষকের জন্য এটা বড় বিপর্যয়।”

পূর্ব কার্ত্তিকপাশা, জলিশা, সাতানী—সর্বত্র একই চিত্র। চাষিরা ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও লাভের মুখ দেখেননি। স্লুইসগেট না খোলায় জমে থাকা পানিতে শুধু ফসল নয়, কৃষকের ভরসাও ডুবে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানালেন, “স্লুইসগেট খোলার জন্য পাউবোকে বারবার বলেছি। কিন্তু এখনও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি তারা।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “আমরা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানিয়েছি। কৃষকের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

দুমকীতে স্লুইসগেট এখন কৃষকের গলার কাঁটা, জলাবদ্ধতায় বীজতলা ধ্বংস

Update Time : ১০:০০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক (দুমকি) পটুয়াখালী||

মাঠভরা সবুজ আর আকাশভরা মেঘ—এই চিরচেনা বর্ষা এখন আতঙ্কের নাম। পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কৃষকরা আজ হাহাকার করছে বৃষ্টির জন্য নয়, বরং স্লুইসগেটের সঠিক ব্যবহারের জন্য!

বর্ষা তো সময়মতো এসেছে, তবে যায়নি মাঠের পানি। আর সেই অচল জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখন আমনচাষিদের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

দুমকীর শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, গাবতলী—এলাকার শত শত একর জমি এখন পানির নিচে। মূল দায়? পাউবো’র স্লুইসগেট। রাজাখালী, জলিশা, গাবতলী—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা বিকল, নেই তদারকি। কোথাও নেই সময়মতো কপাট খোলার লোক, কোথাও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কৃষক নয়।

রাজাখালীর কৃষক দেলোয়ার হোসেন বললেন, “জোয়ারের পানি ঠিকই ওঠে, কিন্তু বৃষ্টির পানি নামার রাস্তা নেই। স্লুইসগেট তো খোলে না, যেন কপাট নয়, শিকল!”

আরেক কৃষক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বললেন, “যার হাতে চাবি, সে কৃষকই না। সে খালে বেহুন্তি জাল পাতে। খুলে দিলে অধিক স্রোতে তার জাল যেন ছিড়ে না যায়, সে দিকটা দেখে আর খুলে না। ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।”

দক্ষিণ দুমকীর কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদারের কণ্ঠে আক্ষেপ, “আউশ তো গেলই, এখন আমনের বীজতলা ডুবে মরছে।” আশঙ্কা আরও গভীর করে তুলছেন মো. জাকির হোসেন, “রোপা আমনের বীজই হবে না এবার। কৃষকের জন্য এটা বড় বিপর্যয়।”

পূর্ব কার্ত্তিকপাশা, জলিশা, সাতানী—সর্বত্র একই চিত্র। চাষিরা ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও লাভের মুখ দেখেননি। স্লুইসগেট না খোলায় জমে থাকা পানিতে শুধু ফসল নয়, কৃষকের ভরসাও ডুবে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানালেন, “স্লুইসগেট খোলার জন্য পাউবোকে বারবার বলেছি। কিন্তু এখনও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি তারা।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “আমরা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানিয়েছি। কৃষকের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

প্রিন্ট করুন :