নিজস্ব প্রতিবেদক (দুমকি) পটুয়াখালী||
মাঠভরা সবুজ আর আকাশভরা মেঘ—এই চিরচেনা বর্ষা এখন আতঙ্কের নাম। পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কৃষকরা আজ হাহাকার করছে বৃষ্টির জন্য নয়, বরং স্লুইসগেটের সঠিক ব্যবহারের জন্য!
বর্ষা তো সময়মতো এসেছে, তবে যায়নি মাঠের পানি। আর সেই অচল জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখন আমনচাষিদের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দুমকীর শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, গাবতলী—এলাকার শত শত একর জমি এখন পানির নিচে। মূল দায়? পাউবো’র স্লুইসগেট। রাজাখালী, জলিশা, গাবতলী—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা বিকল, নেই তদারকি। কোথাও নেই সময়মতো কপাট খোলার লোক, কোথাও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কৃষক নয়।
রাজাখালীর কৃষক দেলোয়ার হোসেন বললেন, “জোয়ারের পানি ঠিকই ওঠে, কিন্তু বৃষ্টির পানি নামার রাস্তা নেই। স্লুইসগেট তো খোলে না, যেন কপাট নয়, শিকল!”
আরেক কৃষক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বললেন, “যার হাতে চাবি, সে কৃষকই না। সে খালে বেহুন্তি জাল পাতে। খুলে দিলে অধিক স্রোতে তার জাল যেন ছিড়ে না যায়, সে দিকটা দেখে আর খুলে না। ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।”
দক্ষিণ দুমকীর কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদারের কণ্ঠে আক্ষেপ, “আউশ তো গেলই, এখন আমনের বীজতলা ডুবে মরছে।” আশঙ্কা আরও গভীর করে তুলছেন মো. জাকির হোসেন, “রোপা আমনের বীজই হবে না এবার। কৃষকের জন্য এটা বড় বিপর্যয়।”
পূর্ব কার্ত্তিকপাশা, জলিশা, সাতানী—সর্বত্র একই চিত্র। চাষিরা ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও লাভের মুখ দেখেননি। স্লুইসগেট না খোলায় জমে থাকা পানিতে শুধু ফসল নয়, কৃষকের ভরসাও ডুবে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানালেন, “স্লুইসগেট খোলার জন্য পাউবোকে বারবার বলেছি। কিন্তু এখনও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি তারা।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “আমরা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানিয়েছি। কৃষকের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 










