ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ডুবল দুমকী, কোমরজলেই বন্দি শত শত পরিবার

পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ডুবল দুমকি, কোমরজলেই বন্দি শত শত পরিবার

রাস্তা-ঘাট থেকে বিদ্যালয়, পুকুর থেকে পায়ের তলা—সবই জলে গড়িয়ে গিয়েছে। কৃষক, রোগী, ছাত্র—বিপদে সবাই।

নিজস্ব সংবাদদাতা | দুমকি (পটুয়াখালী)

বৃষ্টি থামছে না। থামার নামও নিচ্ছে না।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের জেরে টানা পাঁচ দিনের টিপ টিপ বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর দুমকীর চেহারাই পাল্টে গেছে। এক কথায় বললে—উপজেলা এখন জলপথে দাঁড়িয়ে।

শুধু বৃষ্টি নয়, সঙ্গে এসেছে নদীর জোয়ারের ঢলও। পায়রা, লোহালিয়া আর মুরাদিয়া—এই তিন নদীর পানি এসে মিশেছে আকাশ থেকে ঝরে পড়া জলের সঙ্গে। ফলত, গোটা লেবুখালী, পাংগাশিয়া, আংগারিয়া, মুরাদিয়া আর শ্রীরামপুরসহ অন্তত ১৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম হাঁটু থেকে কোমরজলের নিচে।

কার্তিকপাশা, রাজগঞ্জ-চান্দখালী, বাঁশবুনিয়া, বাহেরচর, চরগরবদি—এইসব গ্রামে এখন রান্না হয় নৌকার পাশে দাঁড়িয়ে। উঠোনে হাঁস নয়, ভেসে বেড়াচ্ছে বালতির ঢাকনা। কোথাও মাছের ঘেরের পাড় ভেঙে ঢুকেছে পানি, কোথাও গবাদিপশুর পা বাঁধা থাকলেও মাথা উঁচু করে রক্ষা করার জো নেই।

এক গৃহবধূ বললেন, “কীভাবে রান্না করব বলুন? চুলা তলিয়ে গেছে। চুলোর বদলে যদি কেউ ভাসমান চুলা আবিষ্কার করত, তো বড় উপকার হতো!”

উত্তর শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ আর শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। ব্যাহত হচ্ছে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা। এক ছাত্রের কৌতুক, “স্যার, এবার না পড়লে কিছু হবে না, বইটাই তো সাঁতার কাটছে!”

উপজেলা পরিষদ চত্বর তো ডুবছেই, তার সঙ্গী হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডাকবাংলো, ডাকঘর, খেলার মাঠ—সব যেন একেকটা খালবিল। নদী তীরের ওয়াপদা বাঁধের বাইরের অবস্থাও এতটাই শোচনীয় যে এলাকাবাসীরা নিজেরাই বলছেন, ‘‘এবার হয়তো বাঁধই নেমে আসবে আমাদের ঘরে।’’

কয়েকটি এলাকা যেমন সন্তোষদি, কদমতলা ও জামলায় ৫ থেকে ৬ ফুট পানি জমেছে। পরিবারের মানুষ তো বটেই, গরু-ছাগলও ছাদের নিচে ঠাঁই নিয়েছে।

বৃষ্টি আর বানের জলে ডুবে গেছে আমন বীজতলা আর সবজি খেত। কৃষকরা মাথা চাপড়ে বলছেন—‘‘এই তো গেল সব। এবার শুধু আশায় বাঁচা। আবারও মনে হয় বীজ করতে হবে’’

পানি জমে থাকায় এলাকায় চর্মরোগ, জ্বর ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, “ভিজে কাপড়ে ঘুরে ঘুরে শিশুরা বেশি অসুস্থ হচ্ছে।”

অন্যদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ—জল যাওয়ার পথেই যেন তালা!
উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের পীরতলা খালটি খননের অভাবে মৃতপ্রায়। উপরন্তু রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খালের জমি দখল হয়ে খালই গায়েব!

এক প্রবীণ বাসিন্দার কষাঘাত, “এখানে শুধু খাল নয়, খালচক্রও আছে!”

প্রশাসন বলছে, দেখছি। আবহাওয়া অফিস বলছে, অপেক্ষা করুন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করে সহায়তা দেওয়া হবে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে এখনই সর্তকতা হিসেবে কাঁচা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেছেন তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ডুবল দুমকী, কোমরজলেই বন্দি শত শত পরিবার

Update Time : ০৪:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে ডুবল দুমকি, কোমরজলেই বন্দি শত শত পরিবার

রাস্তা-ঘাট থেকে বিদ্যালয়, পুকুর থেকে পায়ের তলা—সবই জলে গড়িয়ে গিয়েছে। কৃষক, রোগী, ছাত্র—বিপদে সবাই।

নিজস্ব সংবাদদাতা | দুমকি (পটুয়াখালী)

বৃষ্টি থামছে না। থামার নামও নিচ্ছে না।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের জেরে টানা পাঁচ দিনের টিপ টিপ বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর দুমকীর চেহারাই পাল্টে গেছে। এক কথায় বললে—উপজেলা এখন জলপথে দাঁড়িয়ে।

শুধু বৃষ্টি নয়, সঙ্গে এসেছে নদীর জোয়ারের ঢলও। পায়রা, লোহালিয়া আর মুরাদিয়া—এই তিন নদীর পানি এসে মিশেছে আকাশ থেকে ঝরে পড়া জলের সঙ্গে। ফলত, গোটা লেবুখালী, পাংগাশিয়া, আংগারিয়া, মুরাদিয়া আর শ্রীরামপুরসহ অন্তত ১৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম হাঁটু থেকে কোমরজলের নিচে।

কার্তিকপাশা, রাজগঞ্জ-চান্দখালী, বাঁশবুনিয়া, বাহেরচর, চরগরবদি—এইসব গ্রামে এখন রান্না হয় নৌকার পাশে দাঁড়িয়ে। উঠোনে হাঁস নয়, ভেসে বেড়াচ্ছে বালতির ঢাকনা। কোথাও মাছের ঘেরের পাড় ভেঙে ঢুকেছে পানি, কোথাও গবাদিপশুর পা বাঁধা থাকলেও মাথা উঁচু করে রক্ষা করার জো নেই।

এক গৃহবধূ বললেন, “কীভাবে রান্না করব বলুন? চুলা তলিয়ে গেছে। চুলোর বদলে যদি কেউ ভাসমান চুলা আবিষ্কার করত, তো বড় উপকার হতো!”

উত্তর শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ আর শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। ব্যাহত হচ্ছে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা। এক ছাত্রের কৌতুক, “স্যার, এবার না পড়লে কিছু হবে না, বইটাই তো সাঁতার কাটছে!”

উপজেলা পরিষদ চত্বর তো ডুবছেই, তার সঙ্গী হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডাকবাংলো, ডাকঘর, খেলার মাঠ—সব যেন একেকটা খালবিল। নদী তীরের ওয়াপদা বাঁধের বাইরের অবস্থাও এতটাই শোচনীয় যে এলাকাবাসীরা নিজেরাই বলছেন, ‘‘এবার হয়তো বাঁধই নেমে আসবে আমাদের ঘরে।’’

কয়েকটি এলাকা যেমন সন্তোষদি, কদমতলা ও জামলায় ৫ থেকে ৬ ফুট পানি জমেছে। পরিবারের মানুষ তো বটেই, গরু-ছাগলও ছাদের নিচে ঠাঁই নিয়েছে।

বৃষ্টি আর বানের জলে ডুবে গেছে আমন বীজতলা আর সবজি খেত। কৃষকরা মাথা চাপড়ে বলছেন—‘‘এই তো গেল সব। এবার শুধু আশায় বাঁচা। আবারও মনে হয় বীজ করতে হবে’’

পানি জমে থাকায় এলাকায় চর্মরোগ, জ্বর ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, “ভিজে কাপড়ে ঘুরে ঘুরে শিশুরা বেশি অসুস্থ হচ্ছে।”

অন্যদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ—জল যাওয়ার পথেই যেন তালা!
উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের পীরতলা খালটি খননের অভাবে মৃতপ্রায়। উপরন্তু রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খালের জমি দখল হয়ে খালই গায়েব!

এক প্রবীণ বাসিন্দার কষাঘাত, “এখানে শুধু খাল নয়, খালচক্রও আছে!”

প্রশাসন বলছে, দেখছি। আবহাওয়া অফিস বলছে, অপেক্ষা করুন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করে সহায়তা দেওয়া হবে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে এখনই সর্তকতা হিসেবে কাঁচা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেছেন তারা।

প্রিন্ট করুন :