ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

প্রেমিকের অন্যত্র বিয়ে, প্রেমিকার অনশন! চরফ্যাশনে উত্তাল রাজা বাড়ি

মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি |

ভোলা জেলার চরফ্যাশনের রাজা বাড়িতে যেন সিনেমার দৃশ্য। কলেজ পড়ুয়া তরুণীর অনশন, প্রেমিকের পরিবারের অস্বীকৃতি, আর চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড়—সব মিলিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা তুঙ্গে।

চর মাদ্রাজের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনার্স পড়ুয়া ঝর্না আক্তার জুমা প্রেমিক মুহিদুল ইসলাম তুহিনের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন। অভিযোগ—তুহিন তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। এখন পরিবার চাপ দিয়ে তাঁর বিয়ে দিচ্ছে অন্যত্র!

তরুণীর দাবি, “আমরা কলেজে পড়ার সময় পরিচয়, তারপর প্রেম। ও আমায় ঘোরাতে নিয়ে গেছে অনেক জায়গায়। প্রতিবারই বলেছে—আমার বউ তুইই হবি। আজ সেই তুহিন অন্য মেয়েকে বিয়ে করছে! এ কেমন বিচার?”

স্থানীয়দের মতে, আট বছরের সম্পর্ক। মোবাইলে শুরু, পরে ঘনিষ্ঠতা। তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেছে তুহিন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশও বসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুহিনের পরিবার রাজি নয়।

তুহিনের পরিবারের বাড়ির সামনে বসে অনশনে থাকা জুমা জানিয়েছেন, “ও নিজেই বলেছে—তাদের বাড়িতে গিয়ে বসলে পরিবার আমাকে মেনে নেবে। তাই আমি এখানে।”

ঘটনা জানাজানি হতেই কেরামত আলী রাজা বাড়িতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। কেউ বলছেন—“মেয়েটি সাহসী, অধিকার চাইছে।” আবার কেউ বলছেন—“এভাবে না এসে আইনি পথ নিলেই হতো।”

তবে তরুণীর অনশন শুনে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রেমিক তুহিন। পরিবারের কেউ সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও বোঝা যাচ্ছে, এই সম্পর্ককে তাঁরা স্বীকৃতি দিতে নারাজ।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, “এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে মেয়েটি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—“বিয়ে না করলে এখান থেকেই মরব!”
চরফ্যাশনের আকাশে এখন শুধু একটা প্রশ্ন ভাসছে—এ প্রেমের শেষ কোথায়?

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

প্রেমিকের অন্যত্র বিয়ে, প্রেমিকার অনশন! চরফ্যাশনে উত্তাল রাজা বাড়ি

Update Time : ০৯:০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি |

ভোলা জেলার চরফ্যাশনের রাজা বাড়িতে যেন সিনেমার দৃশ্য। কলেজ পড়ুয়া তরুণীর অনশন, প্রেমিকের পরিবারের অস্বীকৃতি, আর চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড়—সব মিলিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা তুঙ্গে।

চর মাদ্রাজের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনার্স পড়ুয়া ঝর্না আক্তার জুমা প্রেমিক মুহিদুল ইসলাম তুহিনের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন। অভিযোগ—তুহিন তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। এখন পরিবার চাপ দিয়ে তাঁর বিয়ে দিচ্ছে অন্যত্র!

তরুণীর দাবি, “আমরা কলেজে পড়ার সময় পরিচয়, তারপর প্রেম। ও আমায় ঘোরাতে নিয়ে গেছে অনেক জায়গায়। প্রতিবারই বলেছে—আমার বউ তুইই হবি। আজ সেই তুহিন অন্য মেয়েকে বিয়ে করছে! এ কেমন বিচার?”

স্থানীয়দের মতে, আট বছরের সম্পর্ক। মোবাইলে শুরু, পরে ঘনিষ্ঠতা। তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেছে তুহিন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশও বসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুহিনের পরিবার রাজি নয়।

তুহিনের পরিবারের বাড়ির সামনে বসে অনশনে থাকা জুমা জানিয়েছেন, “ও নিজেই বলেছে—তাদের বাড়িতে গিয়ে বসলে পরিবার আমাকে মেনে নেবে। তাই আমি এখানে।”

ঘটনা জানাজানি হতেই কেরামত আলী রাজা বাড়িতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। কেউ বলছেন—“মেয়েটি সাহসী, অধিকার চাইছে।” আবার কেউ বলছেন—“এভাবে না এসে আইনি পথ নিলেই হতো।”

তবে তরুণীর অনশন শুনে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রেমিক তুহিন। পরিবারের কেউ সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও বোঝা যাচ্ছে, এই সম্পর্ককে তাঁরা স্বীকৃতি দিতে নারাজ।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, “এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে মেয়েটি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—“বিয়ে না করলে এখান থেকেই মরব!”
চরফ্যাশনের আকাশে এখন শুধু একটা প্রশ্ন ভাসছে—এ প্রেমের শেষ কোথায়?

প্রিন্ট করুন :