মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি |
ভোলা জেলার চরফ্যাশনের রাজা বাড়িতে যেন সিনেমার দৃশ্য। কলেজ পড়ুয়া তরুণীর অনশন, প্রেমিকের পরিবারের অস্বীকৃতি, আর চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড়—সব মিলিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা তুঙ্গে।
চর মাদ্রাজের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনার্স পড়ুয়া ঝর্না আক্তার জুমা প্রেমিক মুহিদুল ইসলাম তুহিনের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন। অভিযোগ—তুহিন তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। এখন পরিবার চাপ দিয়ে তাঁর বিয়ে দিচ্ছে অন্যত্র!
তরুণীর দাবি, “আমরা কলেজে পড়ার সময় পরিচয়, তারপর প্রেম। ও আমায় ঘোরাতে নিয়ে গেছে অনেক জায়গায়। প্রতিবারই বলেছে—আমার বউ তুইই হবি। আজ সেই তুহিন অন্য মেয়েকে বিয়ে করছে! এ কেমন বিচার?”
স্থানীয়দের মতে, আট বছরের সম্পর্ক। মোবাইলে শুরু, পরে ঘনিষ্ঠতা। তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেছে তুহিন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশও বসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুহিনের পরিবার রাজি নয়।
তুহিনের পরিবারের বাড়ির সামনে বসে অনশনে থাকা জুমা জানিয়েছেন, “ও নিজেই বলেছে—তাদের বাড়িতে গিয়ে বসলে পরিবার আমাকে মেনে নেবে। তাই আমি এখানে।”
ঘটনা জানাজানি হতেই কেরামত আলী রাজা বাড়িতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। কেউ বলছেন—“মেয়েটি সাহসী, অধিকার চাইছে।” আবার কেউ বলছেন—“এভাবে না এসে আইনি পথ নিলেই হতো।”
তবে তরুণীর অনশন শুনে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রেমিক তুহিন। পরিবারের কেউ সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও বোঝা যাচ্ছে, এই সম্পর্ককে তাঁরা স্বীকৃতি দিতে নারাজ।
এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, “এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মেয়েটি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—“বিয়ে না করলে এখান থেকেই মরব!”
চরফ্যাশনের আকাশে এখন শুধু একটা প্রশ্ন ভাসছে—এ প্রেমের শেষ কোথায়?