ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পাঁচ মাসের ঘুমন্ত শিশুর নিথর দেহ নদীর পাড়ে 

নিজস্ব প্রতিবেদক ● পাবনা ● সাউথ বাংলা অনলাইন

দোলনাটা এখনও ঝুলছে বারান্দায়। রোজ যেখানে ঘুমাত সোহাগী। মায়ের বুক ফাটা কান্নায় এখন সে দোলনা যেন আরও ভারী।
মাত্র পাঁচ মাস বয়স। ঘুমিয়ে ছিল বিছানায়। ফিরে এসে মা দেখলেন, নেই।
কিছুক্ষণ পর মিলল তার নিথর দেহ—বড়াল নদের পাড়ে।

শনিবার (৩১ মে) সকাল, পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রাম। আর পাঁচটা দিনের মতোই শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে সংসারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। খড় আনতে যান বাইরে। ফিরে এসে শোকে স্তব্ধ—সন্তান নেই!

পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতোই ঘরের বারান্দার বিছানায় ঘুমন্ত সোহাগীকে রেখে কাজ করতে বেরিয়েছিলেন মা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সন্তান উধাও।
পাগলপ্রায় খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের বড়াল নদের পাড়ে পাওয়া যায় শিশুটির নিস্তেজ দেহ।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মা শ্রাবন্তীর মুখে একটিই কথা—
‘এই দোলনায় এখন কে ঘুমাবে? আমার সোহাগীকে এনে দিন।’

শিশুটির বাবা কমল মন্ডল অভিযোগ করেন,
“এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। কেউ আমাদের ঘর থেকেই শিশুকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে দিয়েছে। আমরা বিচার চাই।”

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুরতহাল শেষে লাশ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।”

দুপুরে সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। বাবাও বাকরুদ্ধ। আত্মীয়-স্বজন সান্ত্বনা দিতে এসে ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। দোলনা, খালি বিছানা, আর একরত্তি মেয়ের ছবি—সব মিলিয়ে যেন একটা অব্যক্ত আর্তনাদ ছড়িয়ে রয়েছে পুরো ঘরজুড়ে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পাঁচ মাসের ঘুমন্ত শিশুর নিথর দেহ নদীর পাড়ে 

Update Time : ০৫:০২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ● পাবনা ● সাউথ বাংলা অনলাইন

দোলনাটা এখনও ঝুলছে বারান্দায়। রোজ যেখানে ঘুমাত সোহাগী। মায়ের বুক ফাটা কান্নায় এখন সে দোলনা যেন আরও ভারী।
মাত্র পাঁচ মাস বয়স। ঘুমিয়ে ছিল বিছানায়। ফিরে এসে মা দেখলেন, নেই।
কিছুক্ষণ পর মিলল তার নিথর দেহ—বড়াল নদের পাড়ে।

শনিবার (৩১ মে) সকাল, পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রাম। আর পাঁচটা দিনের মতোই শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে সংসারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। খড় আনতে যান বাইরে। ফিরে এসে শোকে স্তব্ধ—সন্তান নেই!

পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতোই ঘরের বারান্দার বিছানায় ঘুমন্ত সোহাগীকে রেখে কাজ করতে বেরিয়েছিলেন মা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সন্তান উধাও।
পাগলপ্রায় খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের বড়াল নদের পাড়ে পাওয়া যায় শিশুটির নিস্তেজ দেহ।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মা শ্রাবন্তীর মুখে একটিই কথা—
‘এই দোলনায় এখন কে ঘুমাবে? আমার সোহাগীকে এনে দিন।’

শিশুটির বাবা কমল মন্ডল অভিযোগ করেন,
“এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। কেউ আমাদের ঘর থেকেই শিশুকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে দিয়েছে। আমরা বিচার চাই।”

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুরতহাল শেষে লাশ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।”

দুপুরে সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। বাবাও বাকরুদ্ধ। আত্মীয়-স্বজন সান্ত্বনা দিতে এসে ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। দোলনা, খালি বিছানা, আর একরত্তি মেয়ের ছবি—সব মিলিয়ে যেন একটা অব্যক্ত আর্তনাদ ছড়িয়ে রয়েছে পুরো ঘরজুড়ে।

প্রিন্ট করুন :