নিজস্ব প্রতিবেদক ● পাবনা ● সাউথ বাংলা অনলাইন
দোলনাটা এখনও ঝুলছে বারান্দায়। রোজ যেখানে ঘুমাত সোহাগী। মায়ের বুক ফাটা কান্নায় এখন সে দোলনা যেন আরও ভারী।
মাত্র পাঁচ মাস বয়স। ঘুমিয়ে ছিল বিছানায়। ফিরে এসে মা দেখলেন, নেই।
কিছুক্ষণ পর মিলল তার নিথর দেহ—বড়াল নদের পাড়ে।
শনিবার (৩১ মে) সকাল, পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রাম। আর পাঁচটা দিনের মতোই শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে সংসারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। খড় আনতে যান বাইরে। ফিরে এসে শোকে স্তব্ধ—সন্তান নেই!
পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতোই ঘরের বারান্দার বিছানায় ঘুমন্ত সোহাগীকে রেখে কাজ করতে বেরিয়েছিলেন মা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সন্তান উধাও।
পাগলপ্রায় খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের বড়াল নদের পাড়ে পাওয়া যায় শিশুটির নিস্তেজ দেহ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মা শ্রাবন্তীর মুখে একটিই কথা—
‘এই দোলনায় এখন কে ঘুমাবে? আমার সোহাগীকে এনে দিন।’
শিশুটির বাবা কমল মন্ডল অভিযোগ করেন,
“এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। কেউ আমাদের ঘর থেকেই শিশুকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে দিয়েছে। আমরা বিচার চাই।”
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুরতহাল শেষে লাশ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।”
দুপুরে সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা শ্রাবন্তী মন্ডল। বাবাও বাকরুদ্ধ। আত্মীয়-স্বজন সান্ত্বনা দিতে এসে ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। দোলনা, খালি বিছানা, আর একরত্তি মেয়ের ছবি—সব মিলিয়ে যেন একটা অব্যক্ত আর্তনাদ ছড়িয়ে রয়েছে পুরো ঘরজুড়ে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 














