মোহাম্মদ মাসুদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ||
কোনো মানুষ যখন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিয়ে একসঙ্গে ভাবেন—সেই ভাবনার বাস্তব প্রয়োগই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের দর্শন। এমনই একজন মানুষ মো. আরিফুর রহমান। বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতের অন্যতম পরিচিত নাম, ‘ইপসা’র (Young Power in চট্টগ্রাম Action) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। সম্প্রতি তাঁর জীবনে যুক্ত হলো এক নতুন অর্জন—পিএইচডি ডিগ্রি।
ভারতের টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির (Techno India University) স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। গবেষণার বিষয় ছিল সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ: “Role of NGOs in Achieving Financial Inclusion for Persons with Disabilities in Bangladesh: A Pathway to Sustainable Development”।
গবেষণা তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অ্যাসোসিয়েট ডিন প্রফেসর ড. গগন পারিক। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গবেষণা ও ফিল্ডওয়ার্ক শেষে অর্জিত এই ডিগ্রি শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দর্শনের এক মাইলফলকও।
মানুষ, পরিবার, দায়বদ্ধতা
ড. মো. আরিফুর রহমান শুধু একজন সংগঠক নন, তিনি একজন চিন্তাশীল লেখক, গবেষক ও মানবিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। তাঁর সহধর্মিণী ড. শামসুন্নাহার চৌধুরী লোপা একজন উন্নয়ন গবেষক ও কবি। তাঁদের দুই সন্তান আফরা নাওয়ার রহমান (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন) এবং আবরার খলিল রহমান (ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল চট্টগ্রাম) যথাক্রমে পরিবেশবিজ্ঞান ও সাধারণ শিক্ষায় মনোনিবেশ করে এগিয়ে যাচ্ছে।
নেতৃত্ব, সংগঠন ও ভবিষ্যৎ
ইপসা কেবল একটি উন্নয়ন সংস্থা নয়, এটি একটি মূল্যবোধনির্ভর আন্দোলন। এই সংস্থার নেতৃত্বে দাঁড়িয়ে আরিফুর রহমান দুই যুগের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিবন্ধী অধিকার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। তিনি ‘Social Change’ নামে একটি সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক জার্নালের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানান সম্মাননা ও স্বীকৃতির পর এবার তাঁর একাডেমিক পরিচয়ে যুক্ত হলো “ডক্টর” অভিধা। এই অর্জনের জন্য ইপসা পরিবার, বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনসমূহ, সমাজ ও সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধিরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এই ডিগ্রি হয়তো একটি সনদ, তবে তার ভেতরে লুকিয়ে আছে ত্যাগ, শ্রম ও বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের স্বপ্ন। ড. আরিফুর রহমান আমাদের শিখিয়ে দেন—উন্নয়ন শুধু প্রকল্প নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতা, একটি জীবনদর্শন।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 


























